প্রসবের শেষ মাসে হঠাৎ হঠাৎ তীব্রএক ব্যাথার ঝলক আসবে ওটা প্রসববেদনা নয়। ওটা শরীরের প্রস্তুতি পর্ব আসন্ন প্রসবপ্রস্তুতি। শেষ দুই সপ্তাহে ব্যাথার মধ্যবর্তী সময় কমবে। শেষ সপ্তাহে প্রতি ঘন্টায় একবার। এর পর প্রতি 30 মিনিট। ভয়ের কিছু নেই। যখন প্রতি ব্যাথার মধ্যের ব্যবধান হবে 3 থেকে 5 মিনিট এবং তার স্থায়িত্বহবে 30 সেকেন্ড থেকে 1 মিনিট হাসপাতালে চলে যান।
সবই পুথি পড়ে জানাআর ব্যবহারিক চলছে এখন। আমি গ্রফের আকিবুকি দেখি। অবশেষে বুঝতে পারি সেসবের অর্থ। উপরে 138 যে সংখ্যা তা ঋকের হার্টবীট, নিচের 0থেকে 100 দাগানো রেখা ব্যাথার তীব্রতা মাপছে। ওখানে লিখিত প্রতি 5 মিনিটে 45 সেকেন্ডের 90 থেকে 100 মানের ব্যাথা আসছে। 12টার পর ব্যাথার তীব্রতা এতবেশী যে ক্ষীন কনেঠর অনুরোধ শুধলাম। আর পারতেছি না আমাকে পেইনকিলার দিতে বলেন। নার্সের আপত্তি নেই কিন্তু আশংকা যদি পেইনকিলার দেওয়া হয় প্রসব দীর্ঘায়িত হবে। আমি এর পর বললাম আরো 1 ঘন্টা অপেক্ষা করে পেইন কিলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানাবো। জেএনা প্রতি ব্যাথার শুরুতে বলছে শরীর তাকে শিথিল করে দাও। যদি ব্যাথার তৗব্রতায় শরীর শক্ত করে রাখো ব্যাথা বাড়বে কমবে না। যুক্তির কথা। কিন্তু 8 ঘন্টার পর এসব যুক্তি বোঝার মানসিক অবস্থা থাকে না। আমি গ্রাফের দিকে তাকাই, যন্ত্রনা রেখা উপরে উঠতে দেখলে চিৎকার করি বড় করে শ্বাস নাও শরীর হালকা করো। বহুভাষিক মিছিলের মতো জেএনা আমি নার্স একই শ্লোগান দেই। 2টা 30 অবশেষে আসে চুড়ান্ত মুহূর্ত। ডাক্তার নার্স এসে জানায় এবার সব শক্তি সঞ্চয় করে শেষ কয়েকটা ধাক্কা তুমি মা হয়ে যাবে। 3টায় মাথা দেখা গেল, চুলে ভরা মাথা আর 3 মিনিট পর টেনে আনলো ঋক এর নাড়ী কেটে 3টা 5 এ সে স্বাধীন মানব শিশু হলো। পাছায় থাবড়া দিয়ে ডাক্তার কাদিয়ে তুলে দিলো মায়ের বুকে। আমাকে বললো ধরবে না। জেলীর মতো তুলতুলে বাচ্চাকে কোলে নেওয়ার সাহস হয় নি। এর পর বাইরে গিয়ে কুর্নিয়ার সাথে হাত মেলানো। রাজা নামের আরেক বন্ধুর সাথে বাইরে যাওয়া। নতুন পিতা হিসেবে প্রথম সিগারেট আর বিভিন্ন মানুষকে ফোনে জানানো।
আমার কিংবা তার বাসার কেউ জানে না। জানে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু। তাই ঋকের প্রথম মুহূর্ত থেকে এখন পর্যন্থ আমরাই সব করছি। যদিও ঋকের মা হয়তো বেশী করেছে তারপরও ঋক এখন আমার ন্যাওটা আর এটা ওর মায়ের কষ্ট ।।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




