somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নবীজন্ম

১২ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সভ্যতা পরিপুষ্ট হয় রক্তে এবং যুদ্ধে, নগর নির্মাণ এবং নগর ধ্বংস একই সাথে চলেছে সভ্যতার স্রোতে একই নগর কয়েক বার ধ্বংস করা হয়েছে- আবার নির্মাণ করা হয়েছে- সভ্যতার সাম্রাজ্যবাদী সম্প্রসারণের ধারাটাই এমন-
নগর ধ্বংস, নগর নির্মাণ এবং বিজিত নগরের শাসন কাঠামো নির্ধারণ করা- এইভাবে মহামান্য সম্রাট নিজে ইতিহাসের চরিত্র হয়ে উঠছেন-

তবে প্রাচীন পুরাণের রীতি অনুসরণ করলে, পুরাণ কথা বিশ্লেষণ করলে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠে- প্রাচীন গ্রীক সভ্যতা- কিংবা রোমান সভ্যতা এসব সভ্যতায় কোনো একক ইশ্বরের কতৃত্ব ছিলো না- এমনটাই সম্ভবত সত্যি যে আরব আর পারস্য থেকে ইশ্বর সমস্ত বিশ্বে রপ্তানী হয়েছে।
অন্যান্য সভ্যতাগুলোতে দেব দেবীদের যৌথ পদচারনা ছিলো-

তবে অন্য সত্যটা হলো আরব কিংবা পারস্যের ইশ্বর নামক বোধটা আবার সে অঞ্চলের আরও প্রাচীন সভ্যতাগুলো থেকে ধার করা- মিশরীয় সভ্যতা কিংবা ব্যবিলনীয় কিংবা আসিরিয় সভ্যতায় সম্রাট ইশ্বরের পদে আসীন ছিলেন- মিশরে একটা পর্যায়ে সম্রাট ইশ্বরের পূত্র হয়ে গেলেও ব্যবিলনের সভ্যতায় সম্রাট ইশ্বরতুল্য এবং পূজ্য অবস্থানে রয়েই গিয়েছিলো।

একই ধারণার ধারাবাহিকতায় সম্রাটই ইশ্বর হয়ে প্রজাদের ও রাজত্বের রক্ষণাবেক্ষণ করেন- ব্যবিলনের ধর্মীয় উপকথার সাথে আরবের ধর্মের উপকথার সাদৃশ্য নিয়ে অনেক জায়গায় আলোচনা হয়েছে- এবং পুরাতাত্ত্বিকরা বিশ্বস করেছেন আসলে বাইবেলে বর্ণিত প্রতিটা চরিত্রই আসলে ঐতিহাসিক চরিত্র এবং বাইবেলে বর্ণিত প্রতিটা নগরই আসলে কোনো না কোনো সময় উপস্থিত ছিলো পৃথিবীতে-

ব্যবিলনের ধর্মীয় উপকথার প্ররম্ভে ইশ্বর মানুষের মাঝেই বসবাস করতেন- এই একই মানবিক সত্ত্বাটা পাওয়া যায় আরবের ধর্মীয় উপকথার অতীত সময়ে- ইশ্বরতুল্য সম্রাটকে আত্মস্যাৎ করে বনী ইসরাইল ইশ্বর পূত্রকে নবীরুপ প্রদান করেছে এমনটা বোধ হয় সত্য নয়- এখানে সাম্রাজবাদের সামান্য একটা প্যাঁচ থাকবার সম্ভবনা আছে-

ইশ্বরের ক্রমশ উর্ধগমনের ধারাটা ইহুদি নবিকাহিনীতে পাওয়া যায় চমৎকার ভাবে-
মানুষের মাঝে বসবাসকারী ইশ্বরকে প্রাথমিক অবস্থায় দেখা যেতো, স্পর্শ করা যেতো- ইশ্বর স্বয়ং এসে শিক্ষা দিচ্ছেন সন্তানদের এমন বক্তব্য ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকলো- তার দুর্বিনীত যুদ্ধবাজ সন্তানদের উপর ইশ্বরের ভরসা কমে গিয়েছিলো হয়তো- হয়তো তার মনে হয়েছিলো কোনো এক দুর্বল মুহূর্তে তাকে আক্রমন করতে পারে তার সন্তানেরা- তাই তিনি জনঅন্তরালে চলে গিয়েছেন- এরপর তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তার বক্তব্য সঞ্চালিত হলো মানুষের কাছে০

তবে পোরাণিকতা এবং রূপকরে চাদরটা খুলে যদি বিশ্লেষণ কটি আমরা অন্য একটা সত্য খুঁজে পাবো এখানে- রাজত্বের সম্প্রসারণ আর সম্রাটের ইশ্বরতুল্যতার সহজ সমীকরণ- সম্রাট রাজ্যেশ্বর- তার হাতে জীবন ও মৃত্যুর ক্ষমতা, তিনি যাকে ইচ্ছা ধনাঢ্য করতে পারেন, যাকে ইচ্ছা ধ্বংস করতে পারেন- তিনি নগর গড়তে পারেন এমন কি নগর ধ্বংসও করে দিতে পারেন তার অভিপ্রায় অনুসারে-

ইশ্বর কালের স্রোতে নিরাকার হলেও এখনও এমন সব ক্ষমতাই ধারণ করে- তবে সম্রাটের ইশ্বর হয়ে ওঠা আর নগর সভ্যতার সম্প্রসারণ এক একজন নবীকে কিংবা ইশ্বরের দুতকে সৃষ্টি করেছিলো সম্ভবত-

সম্রাট রাজ্যজয় করছেন- পুরোনো নগর দখল করেছেন- তার চিহ্ন স্থাপন করেছেন বিজিত নগরে- এবং অবধারিত ভাবে সেখানের শাসন কাঠামো পুণনির্মান করেছেন- সেখানে তার এক প্রতিনিধিকে স্থাপন করে তিনি সম্রাজ্য সম্প্রসারণের জন্য আবারও যুদ্ধ যাত্রা করেছেন-

নতুন শাসক সে নগরে অধিবাসি হতেও পারে আবার নাও হতে পারে- তবে সে নতুন রাজার অনুগত থেকে তার ঘোষিত নিয়ম সর্বত্র প্রচলনের চেষ্টা করছে- আর সম্রাটের অনুগত সেনাবাহিনী নতুন যুদ্ধযাত্রায় বের হলে সেখানের স্বাধীনতা কামী জনগন কিংবা পুরোনো রাজার অনুগত বাহিনী বিদ্রোহ করেছে-
সংঘর্ষ চলেছে হয়তো, বিজিত নগর পুনরায় দখল করে সম্রাট বিদ্রোহীদের চিরতরে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য তাদের পরিবার পরিজন সহ হত্যা করেছেন- কেউ বেঁচে নেই- এবং তার অনুগত বান্দাদের তিনি আবারও নগরের শাসনভার অর্পন করে চলে গিয়েছেন- এখানে আমরা ইশ্বর , তার ক্রোধ এবং তার নবীকে পাই-
প্রতিটা বিজিত নগরে এভাবেই নবী সৃষ্টি হয়েছে- সাম্রাজ্যবাদী সম্প্রসারণের ফলে এক এখটা রাজবংশ কয়েক প্রজন্ম ধরে বিস্তৃর্ণ অঞ্ছল শাসন করেছে- এবং সেই সম্রাজ্যে রাজার অনুগত শাসক দল সম্রাজ্যের সম্প্রসারণে সহায়তা করেছেন- এবং একটা পর্যায়ে এই সম্রাট আনুগত্য এবং সাম্রাজ্যের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার পর আসলে সম্রাটকে যুদ্ধ জয়ে বের হতে হতো না- এমন সময় নিয়মিত করদ রাজ্যের রাজা ক্লেশ স্বীকার করে হলেও মাননীয় ইশ্বরপূত্র- ইশ্বরতুল্য সম্রাটের সাথে দেখা করেছেন- এবং সেখানে গিয়ে নতুন রীতি কিংবা সম্রাটের প্রতিনিধির পাঠানো নীতিমালা নিজ রাজ্যে সম্প্রচার করতেন- এবং এইসব ফরমান তিনি ইশ্বরের নামেই প্রচার করতেন- ফলে নগরে বাসিন্দারা কখনই ইশ্বরের দেখা পায় নি সেভাবে তবে তার নবিকে পেয়েছে যার সাথে ইশ্বর নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন তার নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে-

স্থানীয় শাসকের নবী হয়ে উঠা এবং ইতিহাসের পুরাণ হয়ে উঠবার পথে অনেকগুলো একই রকম ঘটনার নায়ক মিলেমিশে একটা কাল্পনিক চরিত্রে পরিনত হয়- এবং এরপর তার উপরে মানুষের কল্পনা আর রূপকের পলি জমে তারা একএকজন ইশ্বরের পাঠানো প্রতিনিধি হয়ে বাইবেলে স্থান পায়-
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ছিলো সোনার কণ‍্যা, মেঘ বরন কেশ!!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:১৩



শাওন প্রশ্ন করেছিলে ৭৮ বছর বয়স্ক একজন মহিলার। অন্তর্বাস উচিয়ে যখন অন্তর্জালে দাঁত মুখ খিচিয়ে উল্লসিত বহু পোস্টে ভেসে যায় ।কিংবা দেয়ালে সরাসরি দি লিখে প্রচার করছিলো তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে কারণে এবারের বিশ্বকাপও আর্জেন্টিনার ঘরেই উঠবে B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪



কারণ আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত, মেসি-মার্তিনেজরা অপ্রতিরোধ্য। আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচেই একছত্র আধিপত্য দেখিয়ে জয়লাভ করে প্রবল বেগে ফাইনালের দিকে ধ্বাবিত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে গতবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানীক কোন ভিত্তি নেই

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০৪



হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×