somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসলামে পতিতাবৃত্তির অনুসন্ধান

২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্ম বিষয়ে আমাদের নিজস্ব উন্নাসিকতা আছে। আমরা প্রায় সবাই জন্মসূত্রে ধর্মকে অধিকার করেছি বলেই সম্ভবত আমাদের ভেতরে তেমন যাচাইয়ের প্রবনতা গড়ে উঠে নি। আমাদের লৌকিক বিশ্বাস, আমাদের সামাজিক সংস্কার, আমাদের মানবীয় আবেগের উচ্চারণ সবই আমরা ধরে নেই ধর্মের লিখিত এবং অলিখিত বিধান হিসেবে।
মূলত অনুসন্ধিৎসার অভাবটা আমাদের মজ্জাগত। এটা নিয়ে কাউকে দোষারোপ করা চলে না, কে বিষয়ে আগ্রহী হবে, কে বিষয় অধ্যয়ন করবে এটা নিয়ে কোনো জোরজবরদস্তি চলে না।
ইসলামে পতিতাবৃত্তি সম্পর্কে জানবার জন্য একটু খোঁজখবর করে যতটুকু জানলাম তার প্রথমাংশ পড়েই মানুষের নিজস্ব সামাজিক অনুশাসনের পতাকা পতপত উড়তে শুরু করলো। আমাদের সামাজিক বিধানে পতিতারা কেহই সমাজের মান্যগন্য হবার যোগ্যতা ধারণ করে না, আমাদের সামাজিক বিধান এমনই যে পতিতাদের আলাদা বেশবাস আলাদা আচরণ এবং আলাদা কারাগার নির্মান করেছি আমরা।
সেই ভাবনার জড়তা নিয়ে পতিতাবৃত্তি সম্পর্কে ইসলামি অনুশাসনের অনুসন্ধান করবার তাগিদ তৈরি হয় না। মনের ভেতরে দৃঢ় একটা বিশ্বাস জন্মে যায় আমাদের সমাজের প্রচলিত সামাজিক ঘৃনাও ইসলাম বহন করে।

আবরে দাস ব্যবসার প্রসার ছিলো, অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের সাথে সঙ্গমও বৈধ ছিলো। দিল্লীর কাজি সম্মানিত পরিব্রাজক ইবনে বতুতাও এই অভ্যাসের বাইরে ছিলেন না, তাহার অধিকারভুক্ত সুন্দরী দাসীদের সাথে নিয়েই তিনি বিভিন্ন সফর করেছেন। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে যেহেতু সম্মানিত কাজী ছিলেন তাই তাহার ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান বিষয়ে অবজ্ঞা প্রদর্শনের উপায় নেই এখানে।
দাসীদের নিজস্ব সম্পদের অধিকার ৈলো না, দাস- দাসিদের নিজস্ব উপার্জনের জন্য ব্যবহার করবার অধিকার ছিলো মালিকের। মালিক চাইলেই তাকে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নিতে পারতেন, তাকে বাইরেও কাজের জন্য নিযুক্ত করতে পারতেন।
সে সময় আরবের অবস্থাসম্পন্ন সকল মানুষেরই কয়েকজন দাস থাকতো- মুহাম্মদ- বিবি খাদিজা, আয়েশা, ফাতিমা, মুহাম্মদের সম্মানিত বিবিগণ সবারই অধিকারভুক্ত দাসদাসী ছিলো- মোহাম্মদের মৃত্যুর পরে তাহার অধিকারভুক্ত দাস-দাসীগন তাহার ওয়ারিশদের ভেতরে বাটোয়ারা হয় ইসলামি শরিয়া আইন মেনেই।

সে সময় আল্লাহর বান্দা আবদুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুলের নিজস্ব অধিকারভুক্ত দুই দাসী মুসাইকা এবং উমাইমাকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করিবার চেষ্টা করিয়াছিলো আল্লাহর দাস আবদুল্লাহ।
মুসাইকার নিজের পছন্দ হয় নি এই ব্যবস্থা। তাই সে সোজা গিয়ে মোহাম্মদের দরবারে বিচারের আর্জি জানালো। মুহাম্মদের সহায়ক হিসেবে নাজিল হলো সুরা নুরের ৩৩তম আয়াত- তোমরা তোমাদের দাসীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করিও না যাহারা সতী থাকিতে চায়।
সমস্যা হলো মুসাইকা নিজে পতিতাবৃত্তিতে গররাজি ছিলো- কিন্তু সবাই কি গররাজি ছিলো? তখন কি এমন কোনো প্রবনতা ছিলো- যেহেতু দাসীদের সবকিছুর অধিকার ছিলো মালিকের এবং দাস দাসীদের আচরণ বিধি বিষয়ে মুহাম্মদের নিজস্ব কিছু বক্তব্যও ছিলো তাই দাস= দাসীদের কিভাবে কি কাজে ব্যবহার করা হবে এ নিয়েও কিছু বক্তব্য ছিলো। দাসের স্বাধীনতা নেই কোনো- তারা মানুষের চেহারায় পশুরও ইতর জীব। তাহাদের নিজস্ব জীবনের স্বাধীনতাও ছিলো না। তাই মালিক যদি তাদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে তাহলেও সেটাতে কোনো দোষনীয় বিষয় ছিলো না।
কথা হলো দাসীদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করানোর কোনো প্রবনতা ছিলো কি না সে সময়ে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় সে রকম প্রবনতা ছিলো প্রবল ভাবেই- তাই আব্দুল্লাহ বিন উবাইয়ের বিন্দুমাত্র সন্দেহ হয় নি এটা অনৈতিক কোনো কাজ, এমন কি মুসাইকা নিজে গিয়ে অবিচারের বিচার না চাইলে হয়তো সুরা নুরের ৩৩তম আয়াতের উদ্ভব হতো না।
সেখান থেকেই পরবর্তী ধাপে আসলো দাসীর পতিতাবৃত্তির টাকা ভোগ করবার অধিকার নেই মালিকের।


মালিক যদি পতিতাবৃত্তির টাকা ভোগ করতে না পারে তাহলে সে দাস দাসীদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করাবে কেনো? সমাধানটা সহজ হলেও অনেক ভাবেই দাসী উপহার দেওয়ার প্রবনতা থেকে বুঝা যায় সুঠাম দেহের অধিকারিনী দাসীরা মালিকদের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ছিলো ।
উসমান তার খুতবায় বলেছিলো তোমরা তোমাদের অযোগ্য দাসীদের অর্থ উপার্জনের জন্য বাধ্য করিও না- যেহেতু তাদের কোনো কাজ করিবার দক্ষতা নেই তাই তাহারা পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য হবে- এটা মুসলীমের একটা হাদিস-
Book 54, Number 54.16.42:
Malik related to me from his paternal uncle, Abu Suhayl ibn Malik, that his father heard Uthman ibn Affan say in a khutba, "Do not oblige the slave-girl to earn money unless she has a skill. When you oblige her to do that, she will earn money by prostitution. Do not oblige the child to earn money. If he does not find it, he will steal. Have integrity since Allah has integrity with you, and you must feed them good food."

যাহাই হোক পতিতাবৃত্তির ইতিহাস ছিলো ইসলামী সমাজে- কে ছিলো তাহাদের ভোক্তা ?
Book 12, Number 2258:
Narrated Abdullah ibn Amr ibn al-'As:
The Prophet (peace_be_upon_him) decided regarding one who was treated as a member of a family after the death of his father, to whom he was attributed when the heirs said he was one of them, that if he was the child of a slave-woman whom the father owned when he had intercourse with her, he was included among those who sought his inclusion, but received none of the inheritance which was previously divided; he, however, received his portion of the inheritance which had not already been divided; but if the father to whom he was attributed had disowned him, he was not joined to the heirs.
If he was a child of a slave-woman whom the father did not possess or of a free woman with whom he had illicit intercourse, he was not joined to the heirs and did not inherit even if the one to whom he was attributed is the one who claimed paternity, since he was a child of fornication whether his mother was free or a slave.

এই হাদিসের শেষের অংশ চমকপ্রদ- সম্ভবত আবু দাউদ কিংবা মিশাকতের হাদিস এটা-
যেকোনো স্বাধীন নারীর সাথে অবৈধ যৌন সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান উত্তরাধিকারি হিসেবে স্বীকৃত হইতে পারিবে না।
কিংবা এমন কোনো দাসীর সাথে সঙ্গমের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান যাহার মালিক ছিলো না মৃত ব্যক্ত সেও সম্পত্তির ওয়ারিশ নয়।
কথা কিংবা প্রশ্ন হইলো নিজে যে দাসীর মালিক নয় সেই দাসীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত হইতো কিভাবে?

যাহাই হোক বুখারির হাদিসে ফিরে আসি-
Volume 2, Book 23, Number 440:
Narrated Ibn Shihab:
The funeral prayer should be offered for every child even if he were the son of a prostitute as he was born with a true faith of Islam (i.e. to worship none but Allah Alone). If his parents are Muslims, particularly the father, even if his mother were a non-Muslim, and if he after the delivery cries (even once) before his death (i.e. born alive) then the funeral prayer must be offered. And if the child does not cry after his delivery (i.e. born dead) then his funeral prayer should not be offered, and he will be considered as a miscarriage. Abu Huraira, narrated that the Prophet said, "Every child is born with a true faith (i.e. to worship none but Allah Alone) but his parents convert him to Judaism or to Christianity or to Magainism, as an animal delivers a perfect baby animal. Do you find it mutilated?" Then Abu Huraira recited the holy verses: 'The pure Allah's Islamic nature (true faith i.e. to worship none but Allah Alone), with which He has created human beings.' " (30.30).

এই হাদিসের বক্তব্য নিজে কিছু অনুবাদ করলাম না, যারা এখানে লেখা পড়ে তাদের ইংরেজি জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি পতিতাবৃত্তি তেমন অনাহুত ছিলো না ইসলামী সমাজে। পতিতারা সগৌরবেই ছিলো, কখনও তারা ছিলো স্বাধীন দেহ পসারিনী কখনও তারা ছিলো আজ্ঞাবহ দাসি যারা মালিকের জন্য বাধ্য হয়েছিলো পতিতাবৃত্তিতে।
সর্বশেষ বুখারির হাদিস যা আরও উপাদেয়-
মুহাম্মদের তীব্র কুকুর ভীতির কারণ জানা নেই তবে সেই ঘৃন্য কুকুরকে পানি খাওয়ানোর জন্যও এক পতিতার বেহস্ত নসিব হয়েছিলো।
Volume 2, Book 23, Number 441:
Narrated Abu Huraira :
Allah's Apostle said, "Every child is born with a true faith of Islam (i.e. to worship none but Allah Alone) but his parents convert him to Judaism, Christianity or Magainism, as an animal delivers a perfect baby animal. Do you find it mutilated?" Then Abu Huraira recited the holy verses: "The pure Allah's Islamic nature (true faith of Islam) (i.e. worshipping none but Allah) with which He has created human beings. No change let there be in the religion of Allah (i.e. joining none in worship with Allah). That is the straight religion (Islam) but most of men know, not." (30.30)


অন্য কোনো কারণ কি ছিলো?
৩৩টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহা প্রেম!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪০



ইনবক্সের প্রেমের আর কী বিশ্বাস বলো
এসব ধুচ্ছাই বলে উড়িয়ে দেই হরহামেশা
অথচ
সারাদিন ডেকে যাও প্রিয় প্রিয় বলে.....
একাকিত্বের পাল তুলে যে একলা নদীতে কাটো সাঁতার
সঙ্গী হতে ডাকো প্রাণখুলে।

এসব ছাইফাঁস আবেগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রলিং, বাঙালি জাতি ও খাদ্যে ভেজাল।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১০:১৬

ট্রলিং বিষয়টা আমার অসহ্য লাগে। এমন না যে আমার সেন্স অফ হিউমার নেই, বা খারাপ। কিন্তু বাঙালি ট্রলিংয়ের সীমা পরিসীমা সম্পর্কে কোনই ধারণা রাখে না। ফাজলামি করতে করতে আমরা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাছাকাছি থেকেও চির-অচেনা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১১:২৪



স্ত্রীর জন্য স্যান্ডেল কিনতে বের হয়েছি; আমি ট্রেনে যাবার পক্ষে ছিলাম, গাড়ীর পার্কিং পাওয়া মোটামুটি অসম্ভব ব্যাপার; আরো ২/১ যায়গায় যেতে হবে, শেষমেষ গাড়ী নিয়ে বের হতে হলো; রেসিডেন্সিয়েল... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জুন, ২০১৯ রাত ১২:২১


বাংলাদেশের জয় উদযাপন।

১। ভালো লেখক হতে হলে সর্বাগ্রে ভালো পাঠক হতে হবে। পাঠক হবার আগেই যদি সমালোচক হতে চাও, তবে তা হবে বোকামী। বিচারক হতে যেও না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে শিক্ষা তারপর সমালোচনা।

লিখেছেন মাহমুদুর রহমান, ২০ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৪১



পাঠকেরা সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করবেন, ভালো না লাগলে চুপ করে কেটে পড়বেন, লেখার সমালোচনা করা যাবে না, লেখার উপর বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না; তা'হলে, ব্লগ আপনার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×