somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাষ্ট্রিয় ব্যার্থতা ধর্মান্ধ জনতাকে উৎসাহিত করছে

২৬ শে জানুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৪:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় তিন যুগ এবং দুই প্রজন্ম পার হয়ে গেছে '71এর পর। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, যারা যুদ্ধের বিভীষিকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ শিকার তাদের সম্মানিত অবস্থান যারা এই স্বাধীন ভুখন্ডে মর্যাদার সাথে বসবাস করছেন ও সুন্দর আগামির স্বপ্ন দেখছেন সবার চেতনায়।

মুক্তিযুদ্ধ একটা আদর্শ নিয়ে শুরু হয়েছিলো, আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম তাদের হতাশা, লজ্জা এটাই যে আমাদের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং অনাগত সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই আদর্শ ভুলে ক্ষমতালিপ্সু। আমি বেশ অনেক দিন ধরে শুনছি কথাটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা- কি সেই চেতনা তা পরিস্কার কেউ বলছে না। একটা ভালো বিজ্ঞাপনের শব্দ। সবাই নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত দাবী করছেন। কিন্তু চেতনাটা তারা উপলব্ধি করেন এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট সংশয়। আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তাদের চেতনায় গলদ আছে এমন দাবি করাটাও অসংগত হবে না। সমস্যাটা মনে হয় দুরদৃষ্টির অভাব। স্বল্পকালিন ফায়দার লোভে তারা ভবিষ্যতকে বিপদজনক করছেন।
আর মুক্তিযুদ্ধের প্রধান একটা লক্ষ্য ছিলো ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের সংস্কৃতির লালন করবে এমন একটা ভুখন্ড গড়ে তোলা। মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হবে না, ধর্মপরিচয় গোত্র সবার উধের্্ব তারা বাংলাদেশের নাগরিক এবং তারা রাষ্ট্রের কাছে সমান মর্যাদা পাবেন। কিন্তু যুদ্ধপরবর্তী সময়ে প্রথমদিকে উর্দুভাষী জনগনের উপর নিপীড়ন,এর পর হিন্দু জনগোষ্ঠীর উপর আক্রমন এবং খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বিদের উপর আক্রমন। রাষ্ট্র এদের অধিকার রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেয় নি। যদি 40 লক্ষ মুক্তি যোদ্ধা থাকে তার 5 লক্ষ ছিলো সংখ্যালঘু গোত্রের। তারা নিজভূমিতে পরবাসী জীবনযাপন করছে। অতপর দেশ ত্যাগ করছে। এবং এরপর রাষ্ট্র তাদের পালটা আক্রমন করছে। যদি নিরাপত্তা না থাকে কিভাবে জীবনযাপন করবে মানুষ।
মানুষের ক্রমাগত নিরাপত্তাহীনতা তাদের মানসিক স্থিরতা নষ্ট করে ফেলেছে। হঠাৎ 90 এর পর বাংলাদেশে সন্ত্রাসীদের প্রবল প্রতিপত্তি। বি এন পি ,আওয়ামি লীগ ,জামায়াত ,জাতিয় পার্টি কোথায় সন্ত্রসী নেই। এদের সরাসরি শিকার সাধারন মানুষ। এর সাথে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। রাষ্ট্রশোধন করতে গেলে, মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে এমন বক্তব্য দিলে সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ। পুলিশ নির্যাতন। অর্থ্যাৎ যারা সরকার এবং যারা প্রশাসনের সাথে যুক্ত তারা ভুল করলে, অন্যায় করলে তার প্রতিবাদ করা যাবে না। গনতান্ত্রিক দেশে বিরোধী পক্ষ থাকে যারা সরকারের দূর্নীতির বিরোধিতা করবে, জনগনের অধিকার রক্ষায় সংগঘিত আন্দোলন করবে। কিন্তু বাংলাদেশের হাতে গোনা 5 থেকে 6 জনরাজনৈতিক নেতা এমন যারা দলের এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে গিয়ে জনগনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। বাকি সবাই একটা সংঘবদ্ধ অপরাধীবলয় গড়ে তুলেছেন, যেখানে বাংলাদেশের 14 কোটি মানুষের সম্পৃক্ততা নেই। হয়তো 5 লক্ষ মানুষ কোন না কোন ভাবে 330 জন সাংসদ এবং 64 জেলার প্রভাবশালি নেতৃত্বের সাথে বিভিন্ন ভাবে সংশ্লিষ্ট। মানুষের অসহায়তা বাড়লে সমাজে নৈরাজ্য বাড়লে যা হয় তাই ঘটতেছে এখন। মানুষ অতিরিক্ত ধর্মবিশ্বাসী। কোথাও আশ্রয় না পেয়ে মসজিদ মন্দির গির্জায় শরন চাচ্ছে। এমন ভয়াবহ অবস্থা কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘরে না ফিরলে বিভৎস একসার ভয় পরিবারের সবাইকে অাঁকড়ে ধরে। সড়ক দুর্ঘটনা এদের মধ্যে সবচেয়ে নিরীহ, অপহরন, খুন, বোমায় ছিন্নভিন্ন এমন সব কল্পনার শুরু। এই অবস্থায় কোন রাজনৈতিক সমাধান না পেয়ে মানুষ তার জান মালের নিরাপত্তার ভার ছেড়েছে সৃষ্টিকর্তার জিম্মায়। ধর্মবিশ্বাসি মানুষের সাথে ধর্মান্ধ মানুষ বাড়ছে। এখন আগের যেকোনে া সময়ের চেয়ে বেশী লোক ধর্মীয় উন্মাদনায় ভুগছে। এটা মানুষের ধর্মচেতনার উন্মেষ নয় এটা আমাদের রাষ্ট্রিয় ব্যার্থতার প্রকাশ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগ ও আমরা কেনো ক্ষমা চাইবো‼️আমরা’তো বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



লাল বদরদের আমরা কেন কোনোদিন বিশ্বাস করবো না, পছন্দ করতে পারবো না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রচন্ড ঘৃণা করবো, তার একটা ভালো উদাহরণ এই স্ক্রীনশটটা।

সব মানুষ একই রাজনৈতিক আদর্শে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরস্ক-কেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও কাদের মোল্লাদের প্রেতাত্মার পুনরুত্থান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩১


বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "বাংলাদেশ থেকে জামাতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে কাজ করতে হবে"। "নির্মূল" শব্দটি সম্পূর্ণভাবে দূর করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন, কলেরা বা ম্যালেরিয়া নির্মূল করা, কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপদ

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


বিপদ নাকি একা আসে না—দলবল নিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। প্রবাদটির বাস্তব এবং কদর্যরূপ যেন এখন মৃণালের জীবনেই ফুটে উঠেছে। মাত্র মাসখানেক আগে বাবাহারা হলো। পিতৃশোক কাটার আগেই আবার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগর দর্পন

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১



১. মিরপুর ডিওএইচএস থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যাওয়ার পথে ফ্লাইওভারের ওপর এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। এক ভদ্রলোকের প্রায় ৪৮ লাখ টাকার ঝকঝকে সেডান হাইব্রিড গাড়ির পেছনে এক বাইক রাইডার ধাক্কা দিয়ে স্ক্র্যাচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলামি চুক্তির কারণে বোয়িং কিনতে বাধ্য হলো সরকার?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ১২:৫৭


বাসই চলে না , কিন্তু আকাশে ওড়ার বিলাসিতা থেমে নেই। কালের কণ্ঠের এই শিরোনামটা পড়ে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। কথাটায় একটা তিক্ততা আছে, একটা ক্ষোভ আছে, যেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×