গত একশ বছরে মুসলিম বিশ্বের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য বিশ্বাস ঘাতকদের মধ্যে অন্যতম হল মোস্তফা কামাল। যার কারণে খেলাফতের পতন হয় এবং জমীনে আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের অবসান ঘটে ১৯২০-এ। তারপর মিশরের আনোয়ার সা'দাত- যে ইসরাইলের সাথে শান্তিচুক্তি করে,
নোবেল বাগিয়ে নেয়। এবং এর খেসারতও তাকে দিতে হয় তাকে জীবন দিয়ে
একবিংশ শতাব্দীর সবচে বড় বেঈমান হলো পারভেজ মোশাররফ। যার বিশ্বাস ঘাতকতার কারণে আফগানিস্তানে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং হচ্ছে আজো।
এতকিছুর পরেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। খেলাফত গিয়েছে এখনো একশ বছরও হয়নি কিন্তু পূণর্জাগরণ শুরু হয়ে গেছে। এইখানে একটা ব্যাপার লক্ষণীয়- খেলাফতের বিলুপ্তি ১৯২০ এ তুরস্কে, এবং মুসলিম ব্রাদারহূডের জন্ম মিশরে তার মাত্র কয়েক বছর প রে ১৯২৮-এ।
খেলাফত বিলুপ্তির বেশীদিন যেতে না যেতেই কিন্তু ঈসলামী আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। পৃথিবীর অনেক মুসলিম দেশেই
আজকে ব্রাদারহূড সমমনা দল আছে এবং তাদের ইভোলিওশনটা চোখে পড়ার মত। আর মিশরের ব্রাদারহুডের কাছে থেকে সবগুলা দলই যে শিক্ষা পেয়েছে সেটা হল-বিচ্ছিন্নতাবাদে না গিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের কে ছড়িয়ে দিতে হবে, ক্র্যাকডাঊনের সময় টিকে থাকতে হবে দাতে দাত চেপে।
যে পরিমাণ মূল্য দিতে হয়েছে ব্রাদারহূড-কে এই পর্যন্ত আসার জন্য তা সত্যিই অকল্পনীয়। প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্না থেকে শুরু করে 'তাফসীর ফি যীলালিল কুরআন'-এর রচয়িতা সৈয়দ কুতুব সহ আরো অনেকে শাহাদাতের 'কাফেলায় যোগ দিয়েছেন।
জানিনা ব্রাদারহুড শেষমেষ সফল হবে কিনা মিশরে, কিন্তু এই নির্বাচন থেকে একটা জিনিস বোঝা গেছে-
জন্সমর্থন কি পরিমাণ আছে এককালের নিষিদ্ধ ঘোষিত(!) এই দলটির।
ব্রাদারহুডের এই সাফল্য পৃথিবীর সব ইসলামী আন্দোলনকারী দলগুলোর জন্য শিক্ষা হয়ে থাকবে। তারা নব উদ্যমে তাদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। গতকালই লক্ষ্য করেছি ফেইসবুকের সবগুলো ইসলামী পেইজ এবং বিভিন্ন স্কলার-রা ব্রাদারহূডকে অভিনন্দন জানিয়েছে। আরও দেখা গেছে এই ঘটনায় গাজায় হয়েছে আনন্দ মিছিল, আর তেল আবিবে মাতম
এই ঘটনা বাংলাদেশে কোন প্রভাব ফেলবে কিনা? হ্যা ফেলতেই পারে। কারণ আম জনতা আর কিছু না বুঝুক অন্তত এইটুকু বুঝবে, মিশরে একটি ইসলামী রাজনৈতিক দল নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। এর একটা প্রভাব আমরা ভবিষ্যতে লক্ষ করতে পারি।
এখনই মুসলিম ব্রাদারহূডের প্রার্থীর সাফল্য ব্যার্থতা বিচারের সময় আসেনি। সবেমাত্র মিশর পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে।
আর ব্রাদারহূড-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হবে, একে বিতর্কিত করে ফেলার অপচেষ্টা হবে। পরিবর্তন একদিনে আসে না।
পরিবর্তন আসবে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে, সময় লাগবে।
খেয়ালফতের বিলুপ্তির এখনো একশ বছর হয়নি, কিন্তু খেলাফতের দিকেই আমরা হয়ত যাত্রা করতে যাচ্ছি। হয়তো পরিবর্তন আসতে একটু সময় লাগবে, কিন্ত্ আসবে যে এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


