somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খোলা চিঠিঃ অস্তিত্ব সংকটে ডাকাতীয়া নদী- দখলে দূষনে খন্ড বিখন্ড

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ও নদীরে,
একটা কথা শুধাই শুধু তোমারে
তোমার নেই কি চলার শেষ? ও নদীরে!

মাঝির মল্লারের কন্ঠে, বাতাসে সুরের মুর্ছনার ঝঙ্কারের এই গান যেনো ডাকাতীয়া নদীর জন্য আজ আর প্রযোজ্য নয়। বিরহে কাতর পালতোলা নৌকার মাঝিরা আজ বিষাদের সুরে চোখের জল ফেলে। কিন্তু কেন? প্রশ্নটা আসা খুবই স্বাভাবিক। কি হয়েছে খরস্রোতা এই নদীর দু-কুলের? এমন হাজারো প্রশ্ন যেনো ডুকরে মরছে ডাকাতীয়ার বুক জুড়ে।

ভারতের ত্রীপুরা রাজ্যে হতে বাংলাদেশে প্রবাহিত এই নদীটির মুখ মেঘনায় গিয়ে পড়ে মিশে গেছে। যার দৈঘ্য ১৪১.২ কিলোমিটার বা ৮৭.৭ মাইল। প্রাচীনকাল হতে এটি খরোস্রোতা নদী হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে।

এখন প্রশ্ন হলো এই নদীটির চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ অংশের এ বেহাল দশার কারন কি? টলটল করে বয়ে চলা নদীটি হাজীগঞ্জ অংশে এসে তার স্বাভাবিক খেই কেন হারিয়ে ফেলছে। কেউ কি একবারও প্রশ্ন করেছেন? না করেন নি। কারন রাজনৈতিক সার্থানেশি মহলের ছত্র-ছায়ায় এই নদী দখলের মহারন চলছে অবিরাম। এক সময়ের ডিগ্রী কলেজ খেয়া ঘাট খেত নদীর দুইটা পাড়েই প্রকাশ্যে চলছে ভরাট বালির রমরমা ব্যাবসা। আর এতেই নদীর দুই পাড় দখলে ভরাট হয়ে ছোট হতে হতে এখন নদীটি তাঁর স্বাভাবিক গতিই হারিয়েছে।

একই সাথে সরেজমিনে দেখা যায় যে নদীর উপর নির্মিত হাজীগঞ্জ রামগঞ্জ সংযোগ ব্রীজের পিলারগুলোরও বেপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে আশঙ্কা জনক হারে। কারন বালুবাহী ছোট ছোট লাইটারেজ জাহাজের ধাক্কা যেমন আছে, তেমনি ড্রেজার মেশিনে বালু স্থানান্তরের সময় ড্রেজারবাহী শিপগুলোর বেপোরোয়া চলাচলে আঘাতে আঘাতে জর্জরীত এই ব্রীজটি। এর জন্য তাহলে দায়ী কে? অবশ্যই এর দায় প্রশাসন তথা বি আই ডব্লিও টিএ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং এই আসনের সংসদ সদস্যও এড়াতে পারেনা। আওয়ামীলীগের উপজেলা পর্যায়ের এবং পৌরসভা পর্যায়ের বড় বড় নেতারাও এর দায় এড়াতে পারেন না। এমনকি তারা নিজেরাই এই দখলদারিত্বের ব্যাবসার সাথে সরাসরি জড়িত।

এখন যদি আমরা প্রশ্ন করিঃ মাননীয় সংসদ সদস্য কি নিজে দেখেন না এখানে কিভাবে দখলদারিত্ব চলছে নাকি তিনি নিজ সংসদ এলাকায় যানই না? অথবা ভাগ বাঁটোয়ারার অংশ পৌছায় তাঁর কাছেও। এদের এতো সাহস কে দিয়েছে আজ প্রশ্নটা করতেই চাই আমরা সাধারন মানুষরা। তিনি আবার সংসদীয় কমিটির নদী দূষন দখল বিষয়ক চেয়ারম্যনও। তাহলে বলাই যায় যে তার আসনের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা এই নদীটির এই বেহাল দশার দায় তিনি এড়াতে পারেন না! ভাবতে সত্যিই অবাক লাগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এই সৈনিক যিনি একজন বীরউত্তম তার সংসদীয় এলাকায় এমন দখলবাজী চলছে আর তিনি নির্চুপ হয়ে কিভাবে বসে আছেন। ক্ষমতার লোভ আর দাম্ভিকতা কি ওনাকে ওনার আদর্শিক জায়গা থেকে সরিয়ে দিয়েছে?



পরিশেষ, হাজিগঞ্জের সাধারনের মানুষের পক্ষ হতে একটা কথাই বলতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরু টলারেন্স নীতি নিয়েছেন হাজীগঞ্জ এর সাধারন মানুষের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাতে চাই। দ্রুত আপনার হস্তক্ষেপের মাধ্যমে। নদী হত্যাকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। কারন নদীমাতৃক এই দেশে নদী বাঁচলেই মানুষ বাঁচবে। আর হাজিগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতির নামে যারা টেন্ডারবাজী, দখলবাজী এবং সিণ্ডিকেট বাজি করছে তাদের বিরুদ্ধে যথাপোযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হোক। যদিও সর্বশেষ খবর অনুযায়ী সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রী জানিয়েছেন শীঘ্রই জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে দূর্নীতি বিরুধী অভিজান শুরু হতে যাচ্ছে। আমরাও আশায় আছি, আশায় বাঁচি!

বন্ধ হোক সকল দূর্নীতি, পরাজয় ঘটুক সক অশুভ শক্তি।
ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং সর্বোপরি নিরাপদে থাকুন
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৫৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুমি এসোনা ফুল দিতে আমার সমাধীতে। সেই সৌরভ মাটি পাবে সব কিছুই পারবোনা আমি নিতে।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ৮:৩১


কোন সূচনা ছাড়া মূল বক্তব্যে যেতে চাই। আমি মনে হয় এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশী শোকাহত। কারণ আছে। আমার জীবনের প্রথম শিক্ষিক ছিলেন আমার ছোট চাচা। আমার চেয়ে মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন চলে যেতে হবে মায়ার পৃথিবী ছেড়ে!!!!

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ১১:৩৮


একদিন চলে যেতে হবে মায়ার পৃথিবী ছেড়ে ,
একদিন বলতে হবে বিদায় তোমাকে এই অবণীর পরে।
কবরের অন্ধকার ঘর সেদিন হবে শেষ ঠিকানা,
একদিন আর লিখতে পারবোনা ___কোন কবিতা!
সেদিন আর হবেনা যে চার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রবাস ডায়েরি: অগোছালো ভাবনার প্রতিলিপি

লিখেছেন রাফীদ চৌধুরী, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২২ সকাল ৯:৪৪




২৭/১১/২০২২
সময়: ০৪:৫৯ মিনিট

প্রায় ভোর রাত। আর কিছুক্ষণের মাঝেই সকাল হয়ে যাবার কথা। যদিও শীতের সময় দিন দেখা পাওয়াই ভাগ্যের বিষয়। এই নভেম্বর মাসে দিনের শুরুই হয় ৯ টার পরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

How the iconic FIFA World Cup Trophy is made....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪১

How the iconic FIFA World Cup Trophy is made....

১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জেতায় (১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০) ফিফার তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী ব্রাজিল চিরতরে জিতে নিয়েছিল ‘জুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স স স !! মিথ্যা বলো না !

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:৫৫






স স স !! মিথ্যা বলো না
সত্যের পরাকাষ্ঠ নও তুমি
এটা সকলেরই জানা
তবুও মিথ্যা বলো না

অলীক ফানুসে ডুবিয়ে রেখ না
জানোতো ফানুস পুড়ে গেলে
কেবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×