somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: একজন সাধারণ মানুষের কান্না।

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের এলাকাতে আজ একটা দু:খজনক ঘটনা ঘটেছে।গ্রামের এক নীরিহ কৃষক, নাম ধরে নেই শামসু। মুরুব্বী হওয়ায় সবাই শামসু চাচা বলেই ডাকে। বেচারা মানুষ হিসেবে খুবই সহজ সরল ও দরিদ্র। উনার ছেলে ও মেয়ের জামাই দুজনেই প্রবাসী। কোন কারণে টাকার খুব দরকার পরায় ব্যাংকে জমিয়ে রাখা ২৬,০০০ টাকা তুলতে ব্যাংকে গেছেন। আপনারা হয়তবা ধারনা করতে পারেন দিন এনে দিন খায় টাইপের একজন মানুষের ২৬,০০০ টাকা জমাতে কিরকম কষ্ট করতে হয়। উনি ব্যাংক থেকে ফিরে আসার সময় একজন লোক উনাকে পিছন থেকে ডাকছে।

- চাচামিয়া আপনাকে এতক্ষন করে ডাকতেছি শুনেন নাই ?
- আপনেরে তো চিনলাম না বাবাজী।
- আমারে চিনবেন না চাচামিয়া। আমি আপনার পোলার লগে বিদেশে কাম করতাম।
- ও আইচ্ছা বাবাজী, আস যাই বাড়িত যাই।
- না চাচাজী আরেকদিন যাইয়া চাচীর হাতের রান্না খামুনি। আইজকা একটু কাম আছে।
- রফিক কিবা আছে ?
- চাচামিয়া চিন্তা কইরেন না। ও মেলা ভালো জায়গায় কাম করে। আফনের লাইগা আমার কাছে ৩ লাখ টাকা পাঠাইছে।
- কও কি ভাতিজা ? তা ওর লগে তো কাইলকা রাইতেই কথা কইলাম। ও তো টেহার কতা কিছু কইল না।
- মনে ছিল না মনে অয়। লন আমার ফোন দিয়া কতা কন।

এরপর লোকটি নিজের মোবাইল বের করে একটা নাম্বারে ফোন দিল।

- রফিক ?
- হ আব্বা। কিবা আছেন ?
- আমিত বাজান ভালাই আছি। তা তোমার গলা কিরম জানি অন্য রকম লাগতাছে। অসুখ-বিসুখ হইছে নাকি ?
- আর কইয়েন না আব্বা কাইলকা রাইত থাইকা এমুন ঠান্ডা লাগছে। ঠান্ডায় গলা এমুন হইয়া গেছে।
- বাজান তুমি বলে তোমার বন্ধুর কাছে ৩ লাখ টাকা পাঠাইছ ?
- হ পাঠাইছি। কিন্তুক ও তো আমার কাছে ৩০,০০০ টাকা পাবো ওরে দিইয়া দিয়েন ওইখান থাইকা।
- আইচ্ছা বাজান, তাইলে রাইখ্যা দেই।
- আইচ্ছা, আম্মার শরীলডা কিবা ?
- তর আম্মা ভালাই আছে। চিন্তা করিস না। মন দিয়া কাম করিস। রাখি বাজান।
- আইচ্ছা রাখি।

এতক্ষন যাও সন্দেহ আছিল ছেলের সাথে কথা বলার পর আর সন্দেহ রইল না।

- তা বাবাজী টাকা কি এহনি দিয়া দিবা ?
- না চাচাজি। আমার ব্যাগ তো এহনো খুলি নাই। আমি কাইলকা আপনারে বাড়িতে গিয়া দিয়া আমুনি, সাথে চাচীর রান্নাও খাইয়া আমুনি।
- আইচ্ছা চাচাজী একটা কতা।
- কি কতা বাবাজী।
- আমিতো রফিকের কাছে ৩০,০০০ টাকা পামু ওই টাকাডা ?
- ওইটা তুমি ওই ৩ লাখ থেইকা রাইখা দিও।
- না চাচা, ওই টাকা তো প্যাকেট কইরা দিছে আমি কেমনে খুলমু ? আপনে এহনি দিয়া দেন।
- আমি এহন টেহা পামু কই ?
- কেন ব্যাংক থেইকা যে তুইলা আনলেন ওইখান থেইকা ২৫হাজার দিয়া দেন। বাকিটা পরে দিবেন নি, আপনি মুরুব্বি মানুষ।

শামসু চাচা চিন্তা করলেন তিন লাখ টাকা তো পামুই তাইলে সমস্যা কি ? টাকাটা দিয়াই দেই। এই চিন্তা করে তিনি টাকাটা দিয়ে দিলেন।

- তাইলে বাবাজী কাইলকা সকাল সকাল আইয়ো কিন্তুক।
- চিন্তা কইরেন না তো, ফজর নামাজের সমই আইয়া পড়মু।
- তাইলে যাই বাবাজী।
- আইচ্ছা এই নেন আমার নাম্বার কোন দরকার হইলে আমারে ফোন দিয়েন।

শামসু চাচা খুশি মনে বাড়িতে গেলেন। চাচি তো শুইনা খুশিতে আটখানা। পোলা বিদেশ থেইকা প্রথম টাকা পাঠাইছে তাও তিন লাখ টাকা। বাড়িতে ঈদ ঈদ আনন্দ। পোলার বউ তো খুশিতে সারা গ্রাম গল্প কইরা বেড়াইলো।

পরদিন সকাল গেল, দুপুর গেল, রাতও গেল। তার পরদিনও গেল। শামসু চাচা ভাবলেন ছেলেটার কোন বিপদ আপদ তো হইলোনা। তিনি ওই নাম্বারে ফোন দিলেন, বন্ধ। একঘন্টা পর আবারো দিলেন, একই অবস্থা।

আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন ঘটনাটা কি। শামসু চাচা এখনো বুঝেন নাই। তিনি শেষে ছেলেরে ফোন দিলেন। ছেলে তো শুইনা আকাশ থেকে পড়লো। তিন লাখ তো দুরের কথা এখনো এই মাসের বেতনই তো পাই নাই। তাইলে তুই যে ফোনে কইলি। ছেলে তো অবাক, আব্বা আমি ওইদিন রাইতে আফনের সাথে কথা বলার পরই মোবাইল নষ্ট। একটু আগে নতুন মোবাইল কিনা আনলাম। আমার লগে কথা কইলেন কিভাবে ? এতক্ষনে শামসু চাচার মনে পড়লো ফোনে ওইদিন কথা কেমন জানি অন্যরকম লাগছিল। বুঝে ফেললেন কি কাহিনী। হাত থেকে ফোন পড়ে গেল।

দুইদিন ধরে চলা ঈদ উতসব নিমেষেই শোকে পরিণত হল। সবাই কান্নাকাটি শুরু করে দিল। এরা তো সাধারণ মানুষ এদের কান্না দেখলে কি আমাদের চলে নাকি ? এরা কাদবেই। আর এদের কাদিয়ে আর প্রতারণা করে আমরা নিজেদের পকেট ভারী করব।


(এটা গল্প হলেও সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে লেখা, গতকাল আমাদের এলাকায় এক ব্যাক্তির সাথে প্রায় এই ধরনের একটা ঘটনা ঘটেছে, দুইদিন ধরে ওইবাড়ির সবাই কান্নাকাটি করতেছে)

৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈচিত্রে ভরা মহাবিশ্ব, তবে মানুষ কেন একই রকম হবে?

লিখেছেন মিশু মিলন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৯



এবার শেখরনগর কালীপূজার মেলায় গিয়ে সন্ধ্যার পর ভাগ্নি আর এক দাদার মেয়েকে বললাম, ‘চল, তোদের অন্য এক জীবন দেখাই।’
সরু গলি দিয়ে ওদেরকে নিয়ে গেলাম পিছনদিকে যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×