somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হোয়াট আ ডে!!!

০৭ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাতে ভালো ঘুম হয় নাই তাই সকালে যখন ক্লাসে যাবার জন্যে উঠতে হইলো মেজাজ গেলো বিলা হইয়া। বিলা হওয়া মেজাজে পি.সি.র সামনে বইসা দেখি বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডরে শোয়াইয়া ফালাইছে! মনটা খুশিতে আনচান কইরা উঠলো কিন্তু ক্লাশে গিয়া পাইতে লাগলো বেজায় ঘুম। যাওয়ার সময় হাউজমেটের গাড়িতে চইড়া গেছিলাম তাই সীটের মধ্যে আরাম কইরা চোখ বুইজা ছিলাম। কিন্তু আসার সময় ও আর আসবো না এদিকে আমার গাড়ি আনি নাই তাই বাসে যাইতে হইবো। বাসের লাইগা লাইনে দাঁড়াইয়া দেখি গত সাত বছরে এই প্রথম আমি মানিব্যাগ বাসায় ফেইলা বাইর হইছি! মানিব্যাগের মইধ্যে আমার ব্যাংক কার্ড বাসের টিকেট সব কিছু। এখন ঐসব বাদ দিয়া কেমন কইরা কি দিয়া টিকেট কাটুম বুঝতাছি না কিন্তু ভাগ্য ভালো যে আমার আরেক হাউজমেট একই বাসে কইরা সিটিতেই ল'ইয়ারের লগে দেখা করতে যাইবো। আমি ওর কাছ থেইকাই তিন টাকা ধার লইয়া আমার কাছ থেইকা 20 সেন্ট দিয়া একটা দুই ঘন্টার টিকেট কাইটা বাসে চইড়া আমার সাবআর্বে হাজির হইলাম। ঐখানে গিয়া আবার বাস বদলাইতে হইবো কারন এই বাস আমার বাসার সামনে দিয়া যায় না কিন্তু ঐ বাস যাইবো। বাসের লাইগা গালে হাত দিয়া বইসাই আছি বইসাই আছি কিন্তু বাস আর আসে না। যাক অবশেষে বাস আসিলো আমিও খুশি হইয়া তাতে চাইপা বসলাম এবং সুন্দরমতোন সোজা বাসার সামনে আইসা নামলাম। আজকে আবার বিকালে কাজ আছে তাই ভাবছিলাম বাসায় গিয়া আরাম কইরা একটু ঘুম দিমু কিন্তু ঘুম আর আসে না। অবশেষে নাকে মুখে বালিশ চাপা দিয়া জোর জবরদস্তি কইরা ঘুমটারে টাইনা চোখের উপরে নামাইয়া আনার সময় দেখি কাজে যাওনের আর মাত্র আধা ঘন্টা আছে! আধা ঘন্টাই সই টাইপ চিন্তা মাথায় নিয়াই চক্ষু বুইজা ঘুম দিলাম আর মনে হইলো ঠিক পাঁচ মিনিট বাদেই কানের পাশে মোবাইলের অ্যালার্ম বাইজা উঠলো! ধড়মড় কইরা উইঠা কোন মতে রেডি হইয়া পেটের মধ্যে ধুমধারাককা খিদা চাপাইয়া স্পিড লিমিটের বারোটা বাজাইয়া প্রায় উইড়া গিয়া কাজে হাজির হইলাম। ম্যানেজার আমার দিকে একবার তাকাইয়া নিজের ঘড়ির দিকে একবার চাইলো আর আমি সাথে সাথেই খুব মনোযোগ দিয়া আমার ডানপাশে 'কিছু একটা' খুটাইয়া খুটাইয়া দেখতে লাগলাম। কোলস এক্সপ্রেসের আমাগো স্টেশানতে সাধারণত মঙ্গলবারে ভিড় বেশি থাকে কারণ ঐদিন তেলের দাম থাকে সবচে কম। কিন্তু বুধবারেই আবার সেইটা সবচে বাইড়া যায় তাই পাবলিকও সেদিন আসেই না বলতে গেলে। কিন্তু আজকে স্টোরে ঢুইকাই লম্বা লাইন দেইখা মনটা চুপসাইয়া গেলো তখুনি বাইরে তাকাইয়া দেখি হালার তেলের দাম দেখি কালকের চেয়েও কম! কোনমতে কাউন্টারের পেছনে জাম্প মাইরা খাড়াইলাম আর শুরু হইলো গলাবাজি। ঘন্টাদুয়েকের মধ্যে প্রায় 80 জন কাস্টোমার সার্ভ কইরা আমার গলা যখন শুকাইয়া কাঠ আর পেট খিদায় চোঁ চোঁ, তখন দেখি একটা পাম্পের কাস্টমার হাওয়া হইয়া গেছে! মানে হইলো গিয়া ড্রাইভ অফ! অর্থাৎ ঐ হমুন্দির পুতে তেল লইয়া পয়সা না দিয়াই ফুটছে! মনটা দিনের মধ্যে দ্্বিতীয়বারের মতন বিলা হইয়া গেলো গা। পুলিশে কল কইরা হাজার রকমের কাগজপত্র ফিলাপ কইরা যখন কোমর সোজা কইরা খাড়াইলাম তখন আমার কলিগ আবার আরেকটা পাম্পের দিকে আঙুল তুইলা দেখাইয়া কইলো ঐটাও গায়েব! আমি মনের দু:খে বনে যামুগা কিনা এইটা যখন ভাবতাছি তখন দেখি কাউন্টারের সামনে আবার লম্বা লাইন। আমাগো স্টোরের পাশেই হাঙ্গরি জ্যাকসের দোকান তাই খিদা লাগলেই ঐখান থেইকা একখান বার্গার আর চিপসের হুপার মিল কিইন্যা খাইয়া ফালাই কিন্তু আজকে হালার কাস্টমারের জ্বালায় সেই চান্সই পাইলাম না! খিদার জ্বালায় চোঁ চোঁ করতে করতে আরো একটা মানে হইলো মোট তিনটা ড্রাইভ অফের ঠেলা সামলাইয়া রাত 12 টায় আবার বাসার উদ্দেশ্যে উড়াল দিলাম। বাসার কাছের ব্রিজের উপর দিয়া প্রায় 95 স্পিডে চালাইয়া আসতাছি যদিও ঐখানে লিমিট হইলো 80 তখুনি দেখি পাশের উলটা দিকের রাস্তার একটা গাড়ি হঠাৎ কইরা ঘুইরা গিয়া মাঝখানের ডিভাইডারের উপর দিয়া লককর ঝককর করতে করতে ঠিক আমার লেনে আইসা পড়লো! আমি 95 স্পিডের মধ্যেই ব্রেকের উপর প্রায় খাড়াইয়া গিয়া দুই হাতে হর্ন দিতে লাগলাম আর ঐ ব্যাটা মনে হয় ঘুমাইতে ঘুমাইতে আস্তে কইরা আমার লেন ছাইরা পাশের লেনে চইলা গেলো। আমি ঐটার পাশ দিয়া আসতে আসতেও সমানে হর্ণ দিলাম, ঈমানে কইতাছি গত আড়াই বছরেও সব মিলাইয়া আমি এত হর্ণ দেই নাই আজকে একদিনেই ঐ শশুরের ছাওয়ালরে যত হর্ন দিছি! অবশেষে বাসার সামনে আইসা পার্কিংয়ে খাড়াইয়া গাড়ির স্টার্ট বন্ধ কইরা একটা লম্বা নি:শ্বাস ফালাইয়া কইলাম হোয়াট আ ডে!

---------------
ছবি: এগেইন মারিং ফ্রম wnqvi
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:০২
১৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×