- বলেন কোথায় যাবেন।
- সময় বেশী নাই। চট করে ইন্টারেস্টিং কোথাও নিয়ে চল।
- আপনিতো মনে হয় ভিজিটিং এর সব জায়গাই দেখেছেন।
- তা ঠিক।
অফিসের কাজে সারা দেশটাই ঘুরে বেড়াতে হয়। যেখানেই যান কাজের শেষে দেখার জায়গা, ইংরেজীতে যাকে বলে ভিজিটিং প্লেস ঘুরে আসেন। এবার
খুবই অল্প সময় নিয়ে এসেছেন। এ জায়গায় আগে বেশ কয়েকবার আসা হয়েছে। সব জায়গায়ই মোটামোটি দেখা হয়ে গেছে। আর তাই এত আলোচনা।
- একটা জায়গা আছে জানিনা কেমন লাগবে আপণার।
- নামটা শুনি আগে।
- উহু, যেয়ে দেখতে হবে।
- রহস্য করছিস। কতদূরে এখান থেকে।
- একেবারেই কাছে।
অল্প সময়ের মধ্যেই দুজনে পৌছে গেলেন। কোন রহস্যই খুজে পেলেন না।
গ্রামের ঈদগাহ। তার পাশেই একটা পারিবারিক কবরস্থান। প্রায় এক শতাংশ
জায়গা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রাচীরের গায়ে মূল্যবান টাইলস বসানো। শ্বেতপাথরের তৈরী পাচটি সমাধিফলক আছে।
- কি জন্যে এনেছিস বুঝতে পারছি না।
- সমাধিফলকগুলো ভালো করে দেখেন।
- দেখলামতো। প্রতিটিতে নাম আছে। পুরুষদের আগে মরহুম লেখা আর মহিলাদের আগে মরহুমা লেখা। জন্মতারিখ লেখা। আরে তিনটাতে দেখি মৃত্যু তারিখ দেওয়া নাই। কি ব্যাপার জন্মের তারিখ জানা গেছে আর মৃত্যুর তারিখ জানা গেলো না।
- ব্যাপার হলো ঐ তিনজন বেচে আছেন।
- বেচে আছেন। কি বলছিস তুই।
- এ জন্যই তো নিয়ে আসলাম। মুখে বললে বিশ্বাস করতেন না।
- এটা কার কাজ।
- যিনি মূল হোতা তিনি একজন সরকারী কর্মকর্তা সেইসাথে সরকারী দলে গুরুত্মপূর্ণ পদে আছেন।
- তো।
- তাই প্রকল্পের টাকায় মৃত্যুর পরের ঠিকানার পাকা ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
- ক্ষমতা থাকলে স্থাবর অস্থাবর স¤্পত্তি দখলের অনেক ইতিহাস আছে। তাই বলে আগাম কবর। মৃত্যুর পর চামরা, মাংস, হাড্ডি সব এই মাটির সাথে মিশে যাবে কিছুই ঐপাড়ে নেওয়া যাবে না তারপরও।
বিস্ময় হতবাক হয়ে আর দাড়িয়ে থাকতে পারলেন না। বসে পড়লেন মাটিতে।
সত্যিই অদ্ভ’ত উটের পিঠে চলছে স্বদেশ। একসময় দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হওয়া দেশ বোধহয় আবারো হবে।
পরের জায়গা পরের অর্থ
নিজের লাগি করে আত্মসাৎ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



