somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুখের সন্ধানে

২৮ শে মে, ২০১৮ সকাল ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন “ তুমি সুখ যদি নাহি পাও, যাও সুখের সন্ধানে যাও”

ভাবলাম আজ একটু সুখের সন্ধানে বেড়িয়ে পরি

যদি এমন একটা প্রশ্ন করা হয় যে “সুখ কাকে বলে? সুখ কত প্রকার ও কি কি? প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা সহ উদাহরণ দাও” এই প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য কতোগুলো কলম ও কতোগুলো কাগজের দরকার পরবে তার হিসাব করা কঠিন। কারন সুখের সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেকরকম। পৃথিবীর মানুষ যদি একশো কোটি হয় এই একশো কোটি মানুষের কাছে সুখের একশো কোটি মানে। আমার খুব ইচ্ছে হয় আমি প্রতিটি মানুষের কাছে থেকে জানি কার কাছে সুখের সংজ্ঞা কি? সুখের মানে কি?

তবে বিষয়গুলো অনেকটা এরকম হতে পারে

**একটি ৫ বছরের শিশুর জন্য হকারের কাছে দেখা বেলুন কিংবা একটা খেলনা পাওয়া টা সুখ আবার সেই হকারের কাছে এইরকম হাজার টা শিশুর কাছে বেলুন কিংবা খেলনা বিক্রি করতে পারাটা সুখ।

**একজন রিকশাওয়ালা, দিনমজুর কিংবা একজন হকার এমন অল্প আয়ের মানুষগুলোর কাছে পেট ভরে তিনবেলা খাওয়া, ছেলে মেয়েদের কিছু আবদার পূরণ আর মাঝে মধ্যে একটু বিনোদন, এই তার কাছে সুখ।
আবার যিনি কোটি টাকার মালিক যার কোন কিছুর অভাব নেই অভাব শুধু একটু শান্তির। সংসারে শান্তি, ব্যবসায়িক জীবনে শান্তি, এই শান্তিই তার জীবনের সুখ।

**কোন এক অবিবাহিত যুবতী যে কিনা বড় হওয়ার পর থেকে শুধুমাত্র বিয়ে, সংসার, স্বামী, সন্তান এসবের স্বপ্ন দেখে এসেছে তার কাছে একটা ভালো পরিবারে ভালো একটা ছেলের কাছে বিয়ে হওয়াটা সুখ।
আবার যে যুবতী স্বামী, সংসার সব থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত শ্বশুরবাড়ির মানুষের অত্যাচারে অতিস্ট, চরিত্রহীন স্বামীর মিথ্যাচারে অতিস্ট, তার কাছে এ সংসার থেকে মুক্তি পাওয়াটা সুখ।
আবার যে কিনা স্বামী, সংসার সব নিয়ে পরিপুষ্ট, তার কাছে সুখ মানে শুধু একটি সন্তান।

**যে কিশোরী নতুন নতুন প্রেমে পরেছে, ভালবাসতে শিখছে সে যখন কাউকে, তার কাছে তার ভালোবাসার মানুষের দেখা পাওয়া, তার সাথে একটু সময় কাটানো, একটু কথা বলতে পারাটা সুখ।

**যে তরুণী মন প্রান দিয়ে কাউকে ভালোবেসে অস্থির, তার কাছে সেই মানুষটিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া মানে সুখ।

** একজন যুবক যে কিনা একটা চাকরীর জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে, প্রতিনিয়ত তার বেকারত্ব নিয়ে পরিবার আর সমাজের কথা শুনছে তার কাছে একটা চাকরি ই সুখ।

** যে বাবা টাকার অভাবে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, মেয়ে বিয়ে দিতে পারছেনা, তার জন্য কিছু টাকা হলে ছেলে মেয়েদের ভালো স্কুলে কিংবা কলেজে ভর্তি করানো, মেয়ে বিয়ে দিয়ে ভারমুক্ত হওয়া মানে সুখ।

** একজন বৃদ্ধ যে কিনা বার্ধক্য এর ভারে নুয়ে পরে অসহায়, ছেলে মেয়েদের অবহেলা পেতে পেতে যে অতিস্ট, মৃত্যুর আগে শুধু একটু শান্তিতে বসবাসের জন্য মাথা গোজার একটা জায়গা পাওয়া তার জন্য সুখ।

এরকম হাজার হাজার কোটি কোটি ছোট বড় সুখ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আমাদের আশে পাসে। তবে সুখ কিন্তু পরিবর্তনশীল। মানুষের চাওয়ার উপর নির্ভর করে তার সুখ। একটি চাওয়া পূরণ হয় তৈরি হয় আরও একটি চাওয়া। তখন মনে হয় এই চাওয়া টি পূরণ হলে আমি সুখী। মানুষের চাওয়ার কোন শেষ নেই তেমনি শেষ নেই সুখের মানের।

তাই যার চাওয়া যত কম, যার দুনিয়া যত ছোট তার সুখ মনে হয় ততটাই বেশী।

আর থাকতে হবে সন্তুষ্টি। যার সন্তুষ্টি যত বেশী তার মনে এবং জীবনে সুখ তত বেশী। আর যে কোন কিছুতে সন্তুষ্ট না, যার শুধু চাই আর চাই তাঁকে তো আকাশের চাঁদ এনে দিলেও বলবে এটা গোল কেন।

কিছু মানুষ আছে সুখী হওয়ার মত সবকিছু থাকা সত্ত্বেও তার শুধু হাহাকার এটা নিয়ে ওটা নিয়ে। অথচ তার জীবন সমুদ্রে যতখানি জল আছে তার একফোঁটা জল হলে আরেকটা মানুষের জীবন পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

বড় অদ্ভুত জিনিস এই সুখ।

তবে পৃথিবীর কোন মানুষ ই হয়তো পরিপূর্ণ ভাবে সুখী হতে পারেনা। কারন সব মানুষের ই কিছু না কিছু অপূর্ণতা থাকে, দীর্ঘশ্বাস থাকে। অনেক সুখের মাঝেও কিছু কিছু সময়ে যেটা কষ্টের কারন।

আচ্ছা, সুখকে যদি বিনিময় করা যেত তাহলে অনেক ভালো হত, তাইনা? আশে পাশের মানুষ গুলোকে একটু একটু করে সুখ বিনিময়। তবে এটা সম্ভব হলেও হয়তো আমরা সুখ বিনিময় করতাম না। আমরা মানুষ এতটাই লোভী আর খারাপ। ব্যাংক এর টাকা পয়সা আর গয়নার মত সুখগুলোকে ও হয়তো জমা করে রেখে দিতাম কিন্তু তা দিয়ে আরেকটা অসুখী মানুষকে সুখী করার চেষ্টা করতাম না ।

তবে সুখ কে বিনিময় করা না গেলেও ভালোবাসা কিন্তু বিনিময় করা যায়। আমরা কিন্তু পারি আমাদের আশে পাশের মানুষের কার কি সমস্যা, কার কি প্রয়োজন তা জানার চেষ্টা করতে এবং তার প্রতি নিজের মমতা আর ভালোবাসার হাত টা বাড়িয়ে দিয়ে তাঁকে সুখী করার চেষ্টা কি একটু করতে পারিনা? তাহলে একসময় দেখা যাবে আমাদের আশে পাশের, এ পৃথিবীর সব মানুষ পুরোপুরি না হলেও অনেকটা সুখী ও শান্তির জীবন যাপন করছে, আমাদের একে অপরের ভালোবাসা বিনিময় দ্বারা।

ভবিষ্যতের পৃথিবী সুখময় হবে কিনা জানা নেই তবে বর্তমান পৃথিবী কে নিয়ে, গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলীর লেখা এবং আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে গাওয়া গানে এভাবে বলতে পারি

"সুখের ই পৃথিবী
সুখের ই অভিনয়
যত আড়ালে রাখো
আসলে কেউ সুখী নয়"

আসলেই কেউ সুখী নয়!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:০৩
২০টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুস্থধারায় ফিরছে রাজনীতি; আম্লিগের ফেরার পথ আরো ধূসর হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১০


গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একে অপরের মধ্যে কোথাও কোথাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে এই 'প্ল্যান'-গুলো আমাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর লিস্টে আছে কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



আসসালামু আলাইকুম।
দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিচের বিষয়গুলোর উপর নজর দেওয়া জরুরী মনে করছি।

প্ল্যান - ১
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যেকটিতে গবেষণার জন্যে ফান্ড দেওয়া দরকার। দেশ - বিদেশ থেকে ফান্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !



বাংলাদেশে নূতন ভাবে এই প্রসঙ্গটি আসতে শুরু করছে ।
আমাদের আইনে এই ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু আছে কিনা জানা নেই । তবে বিরোধী দল সংসদে
তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

আমরা ০৯ জিলহজ্জ্ব/০৫ জুন রাত সাড়ে দশটার দিকে মুযদালিফায় পৌঁছলাম। বাস থেকে নেমেই অযু করে একসাথে দুই ইকামায় মাগরিব ও এশার নামায পড়ে নিলাম। নামাযে ইমামতি করেছিলেন আমাদের দলেরই একজন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদের নতুন ধরন - জুলাই মাসে কই ছিলেন?

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬

১।

জুলাই মাসে কই ছিলেন – গত দেড় বছর ধরে অনলাইনে এই এক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি বহুবার। এই প্যাটার্নের প্রশ্ন, অভাগা দেশে বারবার ফিরে আসে। শেষমেশ এই ধরনের প্রশ্নগুলোই নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×