
“ব্যস্ততা” এ যেন এক নীরব ঘাতকের নাম। যা সময়ের হাত ধরে ধীরে ধীরে প্রবেশ করে আমাদের জীবনে আর কেড়ে নেয় অনেক ভালোলাগার কিছু অভ্যাস, কিছু পছন্দের কাজ, কিছু সম্পর্ক এবং অনেক প্রতিভা।
জীবনের খাতিরে, জীবিকার খাতিরে, কাজের খাতিরে কাজ করতে হয় আর এই কাজের জন্য থাকতে হয় ব্যস্ত। কিন্তু এই ব্যস্ততা জীবনকে বানিয়ে ফেলে একটা রোবট। প্রতিদিন নিয়ম করে ঘুম থেকে উঠে সকালে কাজে যাও, সারাদিন কাজকর্ম করে সন্ধায় বা রাতে ক্লান্ত শরীরে বাড়ী ফিরে কোনরকম খেয়ে দেয়ে ঘুম। আর ছুটির দিনে একটু আলসেমিতে বেলা করে ঘুমানো। আর টুকটাক কিছু কাজ। এরই মাঝে সামাজিকতার খাতিরে কখনো আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে যাওয়া।
** "বন্ধু" জীবনের অন্যতম একটি অংশ । স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি শেষ হবার পর সেই বন্ধুরাও হারিয়ে যায় ব্যস্ততার ভীরে। একই শহরে থাকি অথচ কিছু প্রিয় বন্ধুর সাথে দেখা হয়না বছর হতে চলল। দু একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু যারা ঢাকার বাইরে থাকে তাদের সাথে দেখা তো দূরের কথা হয়তো ৬ মাসে একবার ফোন দেওয়া হয় । আর ওপাশ থেকে অভিযোগ আমি নাকি তাদেরকে ভুলে গিয়েছি
** একসময় অনেক গল্পের বই পড়তাম। বিকেলবেলা বারান্দায় কিংবা ছাঁদে বসে গল্পের বই পড়তে পড়তে হারিয়ে যেতাম গল্পের মাঝে । আহারে, কতদিন একটু রিলাক্স হয়ে একটা প্রিয় লেখকের বই হাতে নিয়ে দুটা পাতাও পড়তে পারিনা
** সিনেমা দেখতেও ভালো লাগে খুব। কিন্তু মনেই পরেনা শেষ কবে সিনেমা দেখেছি। আর দেখলেও তিন ঘণ্টার একটা সিনেমা দেখা শেষ হতে লাগে এক সপ্তাহ। এ দেখায় কি কোন মজা আছে ?
** একটা অপূর্ণ শখ আছে। নাচ শেখা। খুব, খুবই ইচ্ছে নাচ শেখার। ষ্টেজ পারফর্ম করার জন্য না। শুধুমাত্র নিজের শখের জন্য । কিন্তু কই সেই শখ পূরণ করার মত সময়। আদৌ পূরণ হবে বলেতো মনেই হয়না । হায়রে ব্যস্ততা, জীবনের অনেক শখের একটা কিছু তুই কেড়ে নিচ্ছিস আমার থেকে
** ঢাকা শহরে কিছু জায়গা আছে, সেখানে বেড়াতে যেতে খুব ইচ্ছে হয়। সবাই দেখি মাওয়া ফেরি ঘাটে ইলিশ মাছ ভাজা খেতে যায়। কিন্তু মাওয়ার ইলিশ খাওয়াতো দুরের কথা আজ পর্যন্ত ইলিশের গন্ধটাও পেলাম না ।
উত্তরা দিয়া বাড়ী, ঢাকা শহরে এমন মানুষ খুব কমই আছে যে কিনা সেখানে যায়নি বেড়াতে। আর আমি শুধু অবাক আর অসহায় চোখে তাঁর ছবিই দেখে যাচ্ছি
সাভারের কাছাকাছি এক গোলাপ বাগান আছে
নদী খুব ভালো লাগে। মাঝে খুব মন চায় একটু নদীর কাছে গিয়ে বসে থাকি কিছুক্ষণ
বিকেল বেলা হাঁটতে ভালো লাগে। কোলাহল ছেড়ে কোন দুরের পথে একটু হেটে আসতে মন চায় কিছুক্ষণ
এমন আরও কত ইচ্ছে যেগুলো নিজের ব্যস্ততা কিংবা সঙ্গীদের ব্যস্ততার চাপে পড়ে আছে অনাদরে আর অবহেলায়।
ব্যস্ততা নিয়ে আমার প্রিয় একটি গান
ব্যস্ততা আমাকে দেয় না অবসর
তাই বলে ভেবো না আমায় স্বার্থপর
যেখানে যাই তুমি আছ মনের ভিতর
তোমার মনের কথা বুঝতে আমি
পারি নি হয়ত ভাবছো তুমি
ভালবাসার কথা বলি নি আজ
যেখানে যাই তুমি আছ মনের ভিতর
সুখের তুলি দিয়ে স্বপ্ন এঁকে
আমার চোখের নীলে দিয়েছি রেখে
আমার ভালবাসা নয়তো পাথর
যেখানে যাই তুমি আছ মনের ভিতর
এবার আসি আসল কথায়, মানে শিরোনামের কথায়। কয়েকদিন থেকে খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো কিছু লিখি। তাড়াহুড়ো করে তো আর যাই হোক লেখা যায়না কিছু। মনের মত তো হবেইনা উল্টো ভুল হবে অনেক কিছু। কিন্তু একটু সময় বের করে নিশ্চিন্ত হয়ে আর রিলাক্স হয়ে নিরিবিলি বসে যে কিছু লিখব, তারপর আবার সেই লেখা টাইপ করে পোস্ট করো, হায়রে কই সেই সময়
চলতে চলতে ভাবতে ভাবতে মনের মধ্যে কত কথা, কত লেখার ভাবনা, কত কবিতার লাইন মনে আসে। বাইরে থাকলে সেগুলো টুকে রাখি মোবাইল এ আর বাসায় থাকলে খাতায়। এমন অনেক টুকরো টুকরো ভাবনা টুকে রেখেছি কিন্তু সেই সময় কই যে সেই টুকরো টুকরো লেখাগুলো কে পূর্ণতা দিবো। আর এমন কোন টুকরো ভাবনা যদি হারিয়ে যায় তাহলে যে কতখানি কষ্ট লাগে তা শুধুমাত্র একজন লেখকই বলতে পারবে
আর শুধুমাত্র আমি না, সামুর অনেক লেখক আছেন যারা ব্যস্ততার জন্য মন চাইলেও বেশী বা নিয়মিত লিখতে পারেননা। আর আমরা বঞ্ছিত হই তাদের নতুন নতুন লেখা থেকে। কত ব্লগার ব্যস্ততার জন্য হারিয়েও গিয়েছেন সামু থেকে। এইসব লেখকদের যদি অবসর সময় থাকতো তাহলে আমরা আরও কত ভালো ভালো নতুন লেখা পেতাম তাদের কাছে থেকে। আরও কত সমৃদ্ধ হতো আমাদের সাহিত্য ভাণ্ডার।
ব্যস্ততা, তুমি কি জানো তুমি কত প্রতিভার ঘাতক !
আমি যদি সরকারপক্ষের কেউ হতাম তাহলে দেশের কবি সাহিত্যিক আর লেখকদের জন্য ফান্ড করতাম
ব্যস্ততা নিয়ে নিজের লেখা ছোট্ট একটি কবিতা
ওরে অবসর, তুই কবে থেকে আমায় করে দিলি পর
আপন করে নিয়েছে ব্যস্ততা
জীবনটা যে হয়ে যাচ্ছে যাচ্ছে তা !
সময় সে তো অমাবস্যার চাঁদ
টেরই পাইনা কিভাবে কেটে যায় দিন আর রাত
লিখতে চাই গল্প, কবিতা আরও অনেক কিছু
কিন্তু ব্যস্ততা যে ছাড়তেই চায়না পিছু
ও ব্যস্ততা, তুই দেনা আমায় একটু অবসর
আমি লিখতে চাই
আর পূর্ণতায় ভরিয়ে দিতে চাই আমার মনের ঘর
গাইতে গাইতে নাকি গায়েন হয়। আমি গায়েন না, কিন্তু আমি লিখতে লিখতে আরও ভালো কিছু লিখতে চাই, আমার মনের সব ভাবনাগুলো নিয়ে লিখতে চাই কিন্তু সেই লেখার জন্য অবসর টুকু কে দিবে আমায় ?
তাইতো অসহায় মনে আমি বলে যাই। কেউ আমাকে একটু অবসর দাও আমি লিখতে চাই, আমি পড়তে চাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



