ঊষা যখন আধার কাটঁতে শুরু করেছে সে সময়ের একটা স্বগর্ীয় প্রভা ছড়িয়ে পরলো মার্জির কপোলে। কিন্তু পিয়াস ও বাবুর কাছে তার আচরণ মনে হচ্ছে নরকের ফুলের মত। একটু আগে উদরপূর্তি পারঙ্গমতা দেখিয়েছে অনাহারীদের। নিদ্রাদেবী কাউকে করুণা করে নি। তিনজন মানুষ বেড়িয়ে পরে রাসত্দায়। মার্জি এখন পুরোহিতের মত। হো হো করে হেসে ওঠে। কার্তিকের একটা খাঁিট প্রেম হয়েছে! পিয়াস ও বাবু চমকে যায়। কিসের মধ্যে কি, গলা ভর্তি বমি! পিয়াস স্টেরিওটাইপ; বাবু ভাবুক। ভাবে মাথা ঠিক নাই। মার্জি বকে ইচ্ছেমত। তুই ব্যাটা একটা ডেভিল; তোর এক নারীতে প্রেম হবে! সবার আশ্রয় কারো আশ্রয় নয়!
হেটে হেটে সার্কিট হাউস। টিউলিপ মসজিদ পাশে ফেলে পৌঁছে যায় কার্তিকের বাসায়। নির্জন ফ্লাট। কার্তিক দরজা খুলে দিয়ে আবার বিছানায় ঝাপিয়ে পরে। মার্জি গিয়ে তার পাশে শুয়ে পরে। পিয়াস ও বাবু হাবার মত দাড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। পাশের রুমে খালি বিছানা উঁিক দেয়। দু'জন সেখানে ঝাঁিপয়ে পরে। দুপুর গড়িয়ে গেলে ঘুম থেকে ওঠতে হয় কার্তিকের ধাক্কায়। খেয়ে নে। ডাইনিং এ মার্জি খাচ্ছে। বিরানীর প্যাকেট।
দিস ইজ এ টিম অফ স্যাটানস্! কার্তিক খ্যা খ্যা করে বলে। পিন্টু ও রনিকে খবর দিয়েছি। সিঙ্ মেম্বারস্ টিম। পিয়াস বলে, কি ব্যাপার বস! স্যাটানিক টিম হলো আবার কবে থেকে! কার্তিক বলে, হয়নি, তবে হবে, অনেক কস্টে তোদের পেয়েছি। তালিম দিতে হবে; আমাদের স্যাটান হবে আগামী দিনের নিয়ন্তা । বাবু বলে কিছুইতো বুঝলাম না। মার্জি বলে বুইঝা কাম নাই। যদি এইটায় আমরা সফল হতে পারি তবে পৃথিবীর সব শৃংখল আমরা ভেংগে দিতে পারবো। পিয়াস ও বাবুর পাগলের প্রলাপ মনে হয়।
ওরা খাবার শেষ করে ড্রইংরুমে গিয়ে গোল হয়। পিন্টু ও রনিও এসে পৌছে যায়। পিয়াস ও বাবু। কার্তিক ও মার্জি। পাঁচটা ছেলে আর একটা মেয়ে। রনির সাথে এর আগে কথা হয়েছে অল্পসল্প। লম্বা, ডাবল পাওয়ারের চশমা। নিউমোরলজি, এস্ট্রলজিতে পিএইচডি। ব্রুকলিন আর ম্যানহাটনের ব্রীজ পার হয়ে দুইটার এপ্রোচ রোডের সনি্নকটে জেএন্ডজেতে কিং স্যাটান নামে যে ব্লাক আর্ট চর্চা কেন্দ্রটি ছিল সেখানে সেই ছিল লিড মটিভেটর। গম্ভীর কন্ঠে বলে মার্জির জন্য আমাদের এই অপেক্ষা। আর পিয়াস ও বাবু - তোমরা ভেব না মাত্র দু'মাস তোমাদের সাথে আমাদের পরিচয়। আমাদের তোমাদের মত দু'জন লোকের ঘাটতি ছিল। আমাদের সব পরীক্ষায় তোমরা উত্তীর্ণ হয়েছো। পিয়াস তোমার জন্ম 26 তারিখ! ঠিক? পিয়াস চমকে ওঠে। এ তথ্যতো জানার কথা নয় এদের। বাবু তোমার 17 তারিখ? বাবুর এবার অবাক হবার পালা। তোমাদের দু'জনেরই তিনকূলে কেউ নেই। নিজেদেরকে সবার আড়ালে রাখো - আর দু'জনাতেই দু'জন সন্তুষ্ট! নিজেদের মধ্যে প্রেম! পিয়াস ও বাবুর সবচেয়ে সিক্রেট বিষয়টাও এদের জানা! এবার ঘাবড়ে যায় দু'জন। ব্লাক মেইলিং নাতো!
কার্তিক হাত রাখে পিয়াসের কাধে। বৎসে - ঘাবড়াবার কোন কারণ নেই। তোমাদের জন্যই আমরা চারজন তিনবছর আগে নিই-ইয়র্ক থেকে এসেছি। আমাদের দরকার ছিল একটা গে কাপল যারা নরমাল সেঙ্ েবেড়িয়ে আসতে চাচ্ছে। আরো একটা অসুবিধা ছিল - তা হলো মার্জির মা'র বেঁচে থাকা। একমাত্র মার্জির মা ছিল আমাদের গ্রুপের পিছুটান। এখন কারো কোন ত্রিকূল জীবিত নেই। আমরা এখন সত্যিই জন্ম দিতে পারবো বহুল প্রতিক্ষিত স্যাটানকে। পৃথিবীর সব খোলস্ বন্দী মানবাত্মাকে মুক্তি দেবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




