আমি আজিজে পৌছে একটা সিগারেট শেষ করতে না করতেই রাসেল চলে এল। সংকলনটির জন্য যে টপিকগুলো প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে, সেগুলোর একটা রিভিউ করলাম দুজন। তারপরে ভাস্কর আর মৌসুম আসতেই স্যোশালিজম নিয়ে আলাপ শুরু হলো। সাখাওয়াৎ আর বাকী আসতে সেটা কিছুটা স্পষ্ট হতে থাকলো আমার কাছে। একসময় মনে হলো, শোষিত, দরিদ্র, অসহায়দের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বা তাদের দুঃখ ঘোচাবার জন্য সমাজতান্ত্রিক দলগুলো ছাড়া আর কেউ নেই। কারণ বিএনপি-জামাত-আওয়ামী লীগ-এলডিপি-জাতীয় পার্টি সব তো উৎপত্তি ও প্রয়োগিক দিক থেকে একই রকম। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক দলগুলোর কর্মপন্থা বাস্তবায়নের বিভিন্ন মডিউল নিয়ে তাদের পারস্পরিক মতবিরোধ আছে। শ্রেনী চিন্থিতকরণ ও শত্রু নির্ধারণ বিষয়টি নিয়ে ঘাপলা আছে মনে হলো।
তারপরে আজকে সারাদিন চিন্তা করলাম। সমাজতান্ত্রিক প্রয়োগিক জায়গাটাতে কোথায় একটা যেন বড় ধরনের সমস্যা আছে। কি সেটা! অনেক ভেবে আমার খটকা লাগাটা আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি, সেটা হচ্ছে ঐ শত্রু চিন্থিকরণ!এটা মনে হচ্ছে সমাজ-দর্শন-বাস্তবতা বিবর্জিত একটা তত্ত্ব ও সূত্র। কারণ আদপে আমরা সমাজে সেই সংগায়িত শত্রুর সাথে বসবাস করতে অভ্যস্ত, কারণ নিপীড়কের জায়গাতে নিজের অধিষ্ঠানের স্বপ্ন দেখে তেমন অধিকার অর্জনের একটা লক্ষ্যে চলতে থাকি। এটা হচ্ছে আনলিমিটেড স্বপ্ন, অধিকার, ইচ্ছে যা স্বাভাবিক প্রবৃত্তিগতভাবে ভাল বা খারাপ দিকে প্রবাহিত করার একটা ক্ষমতা দেয়। মানুষ এ জায়গাটা শৃংখলিত দেখতে চায় না কারণ প্রতিটি শ্রেনী আমাদের জীবনের সাথে নানাভাবে সামাজিক সম্পর্ক নির্মাণ করে আছে, যাকে নিমর্ূল করতে আমরাই চাই না।
শ্রেণী শত্রু নির্ধারণের এ বিষয়টা আসলে তেমন হালে পানি পাবার মত আইডিয়া নয়, প্রবক্তারা এখন এ সময়ের হলে, নিঃসন্দেহে এটাকে অন্যভাবে সাজাতেন। কিন্তু এখনও যারা এটা ধরে আছে, তারা নিঃসন্দেহে ননক্রিয়েটিভ, নন কমিউনিকেটিভ এন্ড নন প্রাকটিক্যাল। বঞ্চিত মানুষদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য তাদের তত্ত্বগত লড়াই কোনভাবেই সে বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর কিছু হতে পারে না।
আর কারা কর্মী হবে! যদি কর্মীকে প্রফেশনাল বিপ্লবী হতে হয়, তবে আইডিয়াটা এখনই প্যাকেট করে যাদুঘরে পাঠানো উচিত। কারণ একজন বঞ্চিতের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য নিবেদিত মানুষ তার ভাগ্যকে যদি জিরো করে ফেলেন সেটা নতুন কর্মী তৈরীর সম্ভাবনাকে ঋণাত্মক করে ফেলবে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিকরা কি বিষয়টা একটু ভাববেন! আপনাদের দরকার বেসিক ইনস্টিংকট মানবতার দিকে এমন লোকজন, অহেতুক ধর্মীয় আচার-আচরণের মত বিধিনিষেধ আর ফরজ, ওয়াজিব নির্ধারণ করে গণমানুষের উন্নয়নের আন্দোলন কে তত্ত্বগত সূত্রে ভারী করে ফেলবেন না! পরিবর্তন করুন সময়ের সাথে, মানবতার পক্ষে!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৭:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



