বনবাতাসীর সাথে চতুর্থ কাল যাপন করছি। প্রত্যেকটা কাল পৃথক হয়ে আছে দীর্ঘ একেকটা বিরতীতে। বিরতীকালে আমি ও বনবাতাসী কি কি করেছি তা অনুল্লেখ্য। আসলে সে সময়ের কোন কর্মকান্ড যুগলবন্দীর কালে মনে থাকে না তেমন। এই কালটা শুরুটা হয়েছিল অদ্ভুতভাবে। তৃতীয়কালের পরিসমাপ্তির পরে আড়াইবছর অতিবাহিত হয়েছে। একদিন বিকেলে মনে হলো বনবাতাসীকে খুঁজে বের করা উচিত, কারণ মনে হচ্ছিল তাকে দেখলে আমি ফিরে পাব নিজেকে। যেখানে চাকুরী করে সম্বল কেবল সেই ঠিকানা, যে বাসায় থাকে তার পথ গেছি ভুলে। কিন্তু বাসাটা তার কর্মস্থানের পথে পড়ে বলে খুঁজে বের করা গেল। ছ'য়তলা ভবণের শেষ তলাটাতে তারা থাকতো। কলিং বেল চেপে অপেক্ষায় থাকি। যে বাসায় বনবাতাসীর থাকার কথা, সে বাসায় তারা থাকে না, ছেড়ে গেছে বছরখানেক হয়েছে। নতুন ভাড়াটেরা চেনে না। তবে একটা ক্লু দিলেন, দোতালায় মালিক থাকে, সে জানলেও জানতে পারে। দোতালায় জিজ্ঞেস করলে জানতে চাইলেন, কি হই তার! বললাম রিলেটিভ। জানালেন তার কাছেও নতুন বাসার ঠিকানা নেই, তবে মেয়েটি পাশের বাড়ীর একটা মেয়েকে পড়াতে আসে, এটুকু খবর দিলেন। এতেই আমি কৃতার্থ। কড়া নাড়লাম পাশের বাড়ীতে। অনেক ইন্টারভু্য নিলেন, শেষে দিলেন বনবাতাসীর ফোন নম্বর।
রাস্তায় বের হয়ে ফোন করলাম। হ্যালো, আমি কৌশিক! ওইপাশে কিছুক্ষণের নিস্তব্ধতা। তারপরে, কি খবর, কেমন আছেন, এতদিনে মনে পড়লো! আমি বলি, তোমার বাসার ঠিকানা দাও, দেখতে আসবো। সে বাসার ঠিকানা বলে। মুখস্ত করে নিয়ে হেঁটে হেঁটে চললাম অল্প সে দূরত্ব অতিক্রমে। বনবাতাসীদের বাসা পাঁচতলাতে। রাস্তায় নেমে অপেক্ষা করছিল যেন চিনতে অসুবিধা না হয়। আড়াইবছর পরে দেখা হলো। কেমন যেন অস্তিত্বের সম্পন্নতা বোধ তৈরী হলো, বিপন্নতা থেকে উত্তরণের একটা অবলম্বনের মত। বনবাতাসীর সাথে চতুর্থ কালটার শুরুতে আমি ও বনবাতাসী অনেক গল্প করি, হৃদয়ের তারল্য ধরা পড়ে না, কিন্তু একধরণের পুলক চোখে জাগতে দেখি, অদ্ভুত অন্তস্থ আলোড়ন! তৃতীয় কালের শেষ দেখার শেষ সংলাপটা ছিল আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি। তারপরে চতুর্থ কালের নির্মাণ আসলে বোধহয় বুঝিয়ে দিয়েছে তাকে, হ্যা - তুমি বিয়ে করেছো!
সেই রাতে ঘরে ফিরে নতুন এক মানুষ আমি। আমি পরিষ্কার টের পেলাম, বনবাতাসীকে এখনও বলা হয়নি, কতটা ভালবাসি, সুতরাং ভালাবাসা আমার বন্দরে অনুচ্চারিত শব্দমালা ছাড়া আর তেমন প্রয়োগিত কোন বিষয় ছিল না কোনকালে। কিন্তু আমি যতটা তাকে ভালবাসি বলে সে নিশ্চিত, ততধিক তার আমাকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে কনফিউজড মনে হতো। আমি জানি সে আমাকে ভালবাসে, কিন্তু তার প্রকাশ থাকতো ভিন্ন, সম্ভবত আমার প্রকাশের অসচ্ছতাই তাকে কনফিউজড করে দিতো।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



