ঝড়ো হাওয়া আর আস্তমেয়ের মধ্যে প্যাচ লাগানোর চিন্তা যখন করছি সে সময়টাকে প্রি-ত্রিভূজীয় যুগ বলা যায়। তখন আমাদের একটা গ্রুপ ফর্ম করে করে অবস্থা। পিয়াল ভাই কি যেন শব্দটা বলতো! দাড়ান, মাথার অবিশষ্ট চুলগুলো নিয়ে একটু টানাটানি করি, হ্যা, মনে পড়েছে। পিয়াল ভাই যে শব্দটা দিয়ে গ্রুপটাকে ডিসটিনগুইস করতো সেটা হচ্ছে, ফ্রিকুইন্সী, সবার একই ফ্রিকুইন্সী। আমার যদিও মনে হতো, আমার একটু এ বিষয়ে কম ফ্রিকু্ইনসী রয়েছে তারপরেও স্বীকার করার মত দুঃসাহস দেখাইনি, পাছে কম ফ্রিকুনইসীর গ্রুপে পড়ে যাই। সে যাইহোক, সেসময়ে অবশ্য ওয়ালী হচ্ছে অন্য ফ্রিকুইনসীর লেজুরবিশিষ্ট নেতা। আস্তমেয়ে সেখানে একজন চরমভাবাপন্ন নেতা (নেত্রী বলার চল নেই বলে বাদ দিলাম)। আমাদের সবসময়ের আক্রমনের কেন্দ্রবিন্দু, ওয়ালী-আস্তমেয়ে-ধানসিড়ি। মোটামুটি একটা ত্রিভূজীয় ফ্রিকুইনসী - এফএম নয়, জটিল মেগাহার্জে।
প্রাপ্তি ক্যাম্পেইনের জন্য তৈরী করা ডকুমেন্টারীটা এডিট করতে গিয়ে আমি একটু ধাক্কা খেলাম। শরৎ এত চমৎকারভাবে সিকোয়েন্সগুলো সাজিয়েছে, সে সাথে পেছনের ধারাবিবরনী যে আমার ভন্ডামীর কয়েক ফোটা অশ্রু সে ভিডিওটা দেখতে দেখতে চোখে জমে গেল। অভিনয় করে কখনও কাঁদতে পেরেছিলাম কিনা জানি না, তবে এখনও নিশ্চিত নই, সেদিনের অশ্রু অভিনীত নাকি অরিজিনাল! কালপুরুষের বাসায় যারা ভিডিওটি দেখেছিলেন তারা নিশ্চয়ই আমার সাথে একমত হবেন যে, ভিডিওটি চমৎকার হয়েছিল, আপনাদের হৃদয়কে নাড়া দেবার মতই ছিল সেটার মেকিং। আমার অবশ্য ক্রেডিবিলিটি কনসার্ন। কাউকে ভাল লাগলে প্রশংসা করি অত্যধিক, খারাপ লাগলে প্রশংসা করি তারচেয়েও বেশী। শরতের ভিডিওটি সে ক্ষেত্রে আমার মূল্যায়নে পক্ষপাতদূষ্ট হতেই পারে। কি করবো বলেন, অভ্যাস! লোকে বলে অভ্যাস যায় না মল্লেও!
প্রাপ্তি ক্যাম্পেইনে কতটাকা উঠেছিল তা কিভাবে খরচ হচ্ছে এর কোন খোজ খবর আমার কাছে থাকার কথা নয়। তারপরে এর কিছুদিন পরে আতাউর যখন ব্লগে তার ঋণদায় মোচনের জন্য সাহায্য চাইলো সেসময়ে এ প্রসংগটি উঠেছিল। কে একজন ছদ্মনামে আমাকে অভিযোগ করলো, প্রাপ্তি ফাউন্ডেশনের টাকা পয়সা আমি মেরে খেয়েছি। আমি তখন সন্দেহ করলাম ছদ্মনামের পেছনে আতাউরের উপস্থিতি থাকবে হয়তো। কারণ তার আপিলটা আমরা কয়েকজন ব্লগার তার বাসায় গিয়ে ইনভেস্টিগেশন চালিয়ে খারিজ করে দিয়েছিলাম। সেজন্য ক্ষেপে থাকতে পারে। তবে এতে আমার যে লাভ হলো সেটা হচ্ছে ব্লগারদের প্রাপ্তি ফাউন্ডেশনের মত চমৎকার একটা উদ্যোগ থেকে পিছু হটা। প্রাপ্তিকে বাচানোর জন্য ব্লগারদের প্রচেষ্টা ছিল অভাবনীয়। সে ধারাবাহিকতায় একটা সংগঠনও জন্ম নিচ্ছিল প্রায়। আমি দেখছিলাম, ক্রমশ জরিয়ে যাচ্ছি। পরিচয় যত বাড়ছে তত আমি আমার ব্লগের বাইরের জীবন ব্লগে দেখতে পেলাম, কাউকে গালি দিতে ইচ্ছে হচ্ছে, কিন্তু পারছি না।
এই টানপোড়নের সময়ে মনে হলো আতাউর অভিযোগ তুলে ভাল করেছে। প্রচন্ডভাবে আমি আহত হয়েছি এমন টাইপের একটা পোস্ট দিলাম। সেখানে অনেকে এসে বেশ সহানুভূতি দেখিয়ে গেল। অবশ্য পরের চালটা তখন আমার অলরেডি ঠিক হয়ে গেছে। মুক্তি - ব্লগের অতিআবেগীয় কম্যুনিজম থেকে মুক্তির একটা উসিলা খুঁজে পেলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

