somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

না হয় ঘুরে দাঁড়াই,একটু চেষ্টা করে দেখি আবার....

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাতির বাচ্চা যখন ছোট থাকে তখন সে গুলো খুব ই উড়নচণ্ডী হয়ে থাকে।এ দিকে দৌড়ায় ও দিকে দৌড়ায়।সব প্রানী ই বাচ্চা অবস্থায় এমন হয়ে থাকে।লাফালাফি করে এ দিকে ও দিকে। একটা হাতির বাচ্চা যখন জন্ম নেয় মানে পালিত হাতির বাচ্চা,তখন একে তার মালিক শক্ত শিকল দিয়ে বেধে রাখে।কারণ হাতি জম্নে ই অনেক বড় হয়ে।যেখানে সেখানে লাফালাফি করলে অনেক কিছু ই ভেঙে ফেলতে পারে তাই।বাধা অবস্থায় হাতি অনেক লাফায়,অনেক চেষ্টা করে ছুটে যেতে।সে তার পায়ে ঘা করে ফেলে।কিন্তু ছুটতে পারে না।আর যখন বড় হয় তখন একে একটা সাধারণ মোটা দড়ি দিয়ে বেধে রাখলে ও সে আর ছুটে যাবার চেষ্টা করে না।কারণ সে ভাবে আগেও অনেক ট্রাই করেছে হয় নি।সুতরাং আজ ও হবে না।সে চাইলে খুব সহজেই ছুটে যেতে পারতো।কিন্তু সে ভাবে আগেও হয় নি,আজও হবে না।এটা ছিল তার বিশ্বাস।

কোন রোগী কবিরাজের কাছে গেলে সাপ থেকে বা ভয় থেকে মুক্তি পেতে যদি কবিরাজ তাকে একটা তাবিজ দেয় তাহলে সে রাতের অন্ধকারে ই রাস্তায় হেটে চলে সাহসের সাথে।তখন আর তার ভয় লাগে না।কারণ টা হল তাবিজ।তাবিজ সাথে আছে মানে কোন ভয় নেই।কিন্তু সে জানতো না যে তাবিজের কোন কার্যকারিতা ই ছিল না।এটাও ছিল জাস্ট একটা বিশ্বাস।

এবার বলি অন্যরকম একটা কথা।
ভারতের মে বি উত্তর প্রদেশের এক মেয়ে(নাম টা ঠিক মনে নেই,ইউটিউবে বা গুগলে খুজলে পাবেন) একদিন ট্রেনের লাইনের নীচে তার পা পড়ে যায়।তাও আবার এমন এক যায়গায় যেখানে লোক সমাগম খুব ই কম।একটু পরেই এক ট্রেন আসে আর তার পায়ের উপর দিয়ে চলে যায়।সে তার একটি পা হারিয়ে ফেলে।হাসপাতালের বেডে যখন তার জ্ঞান ফেরে তখন সে নিজেকে আবিষ্কার করে একজন পঙ্গু হিসেবে।সেখানে বসেই সে ভাবে,ঈশ্বর যখন তাকে পঙ্গু ই করে দিয়েছে তাহলে তার মানে এভাবেই তার কিছু একটা করে দেখাতে হবে।সে ঠিক করে সে নকল পা লাগিয়ে এভারেস্ট এরর চুড়ায় উঠবে।স্পন্সর এর সাথে সে যোগাযোগ করে।স্পন্সর এর মালিক ছিলেন এক মহিলা।সে তাকে তখন বলেন,'আরে পাগলী তুই তোর এক পা নিয়ে ই যখন প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছিস যে তুই এভারেস্ট এ উঠবি তার মানে তুই এভারেস্ট এ উঠে গেছিস।'
আর তখন ই শুরু হয় তার স্বপ্ন পূরণ।এক এক করে সে সাতটি বড় বড় পর্বত আরোহণ করে ফেলে।ফল স্বরূপ ভারত সরকার তাকে তাদের সবচেয়ে সম্মানিত পদক পদ্মভূষণ এ তাকে ভূষিত করেন।
এটাও ছিল তার বিশ্বাস।
আসলে পঙ্গু আমাদের শরীর না,পঙ্গু আমাদের মন,আমাদের মানসিকতা,আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা।
একে যে জয় করতে পারলো সে বিজয়ীর হাসি হাসবে ই।আর যে জয় করতে পারে নি সে বেচে থেকেও সেই হাতির মত বন্দী।
এ লেখাটা শুধু মাত্র তাদের জন্য যারা জিততে পারবে না বলে যুদ্ধে ই নামে না অথবা তাদের জন্য যারা একবার-দুবার চেষ্টা করেই হার মেনে গেছেন।
জীবনটা বিশ্বাসের।বিশ্বাস নেই তো কিছু ই নেই।
আপনি ভেঙে যাবেন,মচকে যাবেন,কিন্তু বিশ্বাস হারাবেন না।
কেননা জীবন টা পুরোটা ই আর একটা সফল চান্সের জন্য।
নেমে পড়ুন,চেষ্টা ঠুকে দিন আর জিতে নিন......
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ২:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গান - জীবন যেন স্রোতের মাঝে ভাসমান দ্বীপের মতো

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

১৯৮৪ সাল। স্কুলের অফিস রুমে গিয়েছি বেতন দেবার জন্য। লাইনে অপেক্ষা আমি আর আমার লাল ঝুটি বন্ধুটি। আমাদের খুঁজে খুঁজে ঐ ভীড়ের মাঝে পুষি এলো। আদর করে পুষি ডাকতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×