somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যদি ১৯৮৫-৯৫ সালের মধ্যে জন্মে থাকেন, তারা পড়ে আবেগাপ্লূত হয়ে যাবেন!

১২ ই মে, ২০১৯ দুপুর ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদি ১৯৮৫-৯৫ সালের মধ্যে জন্মে থাকেন, তারা পড়ে আবেগাপ্লূত হয়ে যাবেন! আমরা যারা ১৯৮৫-৯৫ সালের মধ্যে জন্মেছি, তারা নতুন প্রজন্মের চেয়ে বিশেষ কিছু ছিলাম না। আমাদের খেলার জন্য, বিনোদনের জন্য এত শত প্রযুক্তি ছিল না। তখন দেশের দুর্বল অর্থনীতির মতোই আমাদের বাবাদের আয়ও ছিল সীমিত। তবে তারপরও আমরা কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের চেয়ে যথেষ্ট ভাগ্যবান ছিলাম। কেন জানেন?যখন আমরা ছোট ছিলাম, হাতগুলো জামার মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়ে বলতাম, ‘দেখো, আমার হাত নেই’। জামার হাতাটা ঝাঁকিয়ে দোলাতাম আর এমন ভাব করতাম, যেন যাদু দেখিয়ে ফেলেছি।




আসলে আমাদের ছিল সৃজনশীল মন। বাবা-মায়েরা সেটা বুঝতেন, তাই বাধা দিতেন না।আমরা বড়শি দিয়ে পুকুরে মাছ ধরেছি, আর এখনকার ছেলেপুলেরা পুকুরই দেখে না যখন আমরা ছোট ছিলাম, স্টেশনারির দোকানে তখন একটা কলম পাওয়া যেত। সেটাতে স্প্রিংয়ে আঁটা চারটে শিশে চার রঙের কালি। আমরা তার চারটে বোতাম একসাথে টেপার চেষ্টা করতাম, কাজ হবে না জেনেও। আসলে বারবার চেষ্টা করার মানসটাও আমাদের গড়ে উঠেছিল এভাবেই। তাই বড় হয়ে আমরা ধৈর্য ধারণ করতে শিখেছি, অধ্যবসায় করতে শিখেছি।যখন আমরা ছোট ছিলাম, প্রায়ই আমরা দরজার পেছনে লুকিয়ে থাকতাম, কেউ এলে চমকে দেবো বলে। সে আসতে দেরি করছে বলে অধৈর্য হয়ে বেরিয়ে আসতাম।





দেখা যেত, যাকে চমকে দিতে চাইতাম, সেই আমাদের চমকে দিত। আমাদের বিনোদন ছিল এতটাই নির্মল, এতটাই সুস্থ্য।আমাদের সময়ে ফিউচার পার্ক ছিল না, তবে এক্কা দোক্কা খেলেছি মন ভরেযখন আমরা ছোট ছিলাম, ভাবতাম আমি যেখানে যাচ্ছি, চাঁদটাও আমার সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে চাঁদকে ফাঁকি দিতে থেমে যেতাম। চাঁদটাও থেমে যেত। নাছোড়বান্দা চাঁদকে ফাঁকি দিতে না পেরে কখনো কখনো কেঁদেও ফেলতাম। বাবা কিংবা মা বলত, ‘চাঁদ তোমার বন্ধু’। এভাবেই আমরা প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শিখেছি কেউ বলে কুতকুত, কেউ বলে কিতকিত। না খেললে পেটের ভাতই হজম হতো না মার্বেল অথবা পাথরের গুটি খেলা ছিল আমাদের শৈশবজুড়ে যখন আমরা ছোট ছিলাম, ইলেকট্রিক বোর্ডের দুই দিকে আঙুল চেপে সুইচটাকে অন্-অফ এর মাঝামাঝি অবস্থায় আনার চেষ্টা করতাম। তবে গায়ের জোর নয়, আঙুলের ওপর নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষা ছিল ওটা।







পিঠের ওপর দিয়ে লাফিয়ে পেরুনো ছিল কয়েকটি খেলার অংশতখন স্কুলে যাওয়ার পর আমাদের শুধু একটা জিনিসের খেয়াল রাখার দায়িত্ব ছিল, বই-খাতা। ক্লাসে বসে কলম-কলম, চোর-ডাকাত-বাবু-পুলিশ খেলতাম। স্কুল ছুটির পর কটকটি, বস্তা আইসক্রিম, পাইপ আইসক্রিম, হাওয়াই মিঠা না খেতে পারলে মনটাই খারাপ হয়ে যেত। নারিকেল গাছের পাতা টেনে ঝুলে থাকতাম স্কুল ছুটি হলে দৌড়ে বাসায় আসতাম মিনা কার্টুন, শক্তিমান দেখতে।শুক্রবারে দুপুর ৩টা থেকে অপেক্ষা করতাম কখন বিটিভিতে বাংলা সিনেমা শুরু হবে। সন্ধ্যার পরে আলিফ লায়লা দেখার জন্য পুরো সপ্তাহ অপেক্ষা করতাম।যখন আমরা ছোট ছিলাম, ফলের দানা খেয়ে ফেললে দুশ্চিন্তা করতাম, পেটের মধ্যে এবার গাছ হবে কি-না। কিছু একটা মনে করে ঘরের মধ্যে ছুটে যেতাম, তারপর কী দরকার ভুলে যেতাম, ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পর মনে পড়ত।






আমাদের রান্না-বাটি খেলায় শামিল হতেন বড় আপুরাও স্কুলের টিফিন ছুটিতে কটকটি খায়নি এমন কেউ আমাদের মধ্যে আছে?যখন আমরা ছোট ছিলাম, তখন ধৈর্য্য হতো না, কবে বড় হবো? আর এখন মনে করি, কেন যে বড় হলাম! সেসময় কুতকুত না খেললে বিকালটাই মাটি হয়ে যেত। কানামাছি, আরো অনেক কিছু খেলতাম।ব্যাডমিন্টন, ক্যারাম, সাপ-লুডু না খেললে কী হয়! ডিসেম্বর মাস আর শীতকালটা আমাদের ছেলেবেলায় এমনি কালারফুল ছিল। তবে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ যত এগিয়ে আসত মনের মধ্যে ভয় তত বাড়ত। কলেজে ওঠার আগ পর্যন্ত মন খারাপ, ফ্রাসট্রেশন কী জিনিস বুঝতামই না। মন খারাপ মানে ছিল ম্যাচের সময় প্রাইভেট থাকা।খুব মিস করি দিনগুলো, ফাইনাল পরীক্ষা যেহেতু শেষ সেহেতু সকালে পড়া নাই।







এত মজা কই রাখি? নানু বাড়ি, দাদু বাড়ি যাওয়ার এই তো সময়।কলাপাতা আর নারকেলের ডগা দিয়ে বানাতাম বুড়ির ঘর। মনে পড়ে?ছেলেবেলার সে দিনগুলোতে আমরা হয়ত খ্যাত ছিলাম, আমাদের এত এত উচ্চমার্গীয় জ্ঞান ছিল না হয়ত। লেমও ছিলাম। কিন্তু আমাদের সারাজীবন মনে রাখার মতো একটা ছেলেবেলা ছিল। আমি জানি, আমাদের জেনারেশনের যারা এগুলো পড়ছো, তোমাদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে, ছোটবেলায় সবথেকে বেশিবার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নটার উত্তর আমি পেয়েছি অবশেষে…-তুমি বড়ো হয়ে কী হতে চাও? উত্তর : আবার ছোট হতে চাই । যেই বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে শৈশবটাই কাটিয়ে দিলাম। আজ একটাই দুঃখ, কেন শৈশব হারালাম?


সুত: প্রথমবার্তা

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১৯ বিকাল ৫:৪১
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×