somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রক্তাক্ত হৃদয়ে কুয়েট আমার

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা চাপাতি - টপ টপ করে রক্ত পড়ছে সেটা থেকে। কিসের রক্ত? মুরগির? গরুর? ছাগলের? — নাকি মানুষের? এই রক্ত আপনার ব্যাচমেটের, আপনার বড় ভাইয়ের - শ্রদ্ধায় আর আস্থায় ছিল যে আপনার ছায়ার স্থান, আপনার ছোট ভাই - স্নেহে ভরপুর আপনার মন যার জন্য। একসাথে বসে তার সাথে কত সময় কাটিয়েছেন আপনি, আড্ডায় - গানে, প্রেমে-বিরহে যে ছিল আপনার সঙ্গী তার রক্তই ঝড়ছে টপ টপ করে চাপাতি দিয়ে... এরকম আরো কাউকে পিটানো হয়েছে রড দিয়ে, চাপকানো হয়েছে ধাতব শিকল দিয়ে। শিউরে উঠছেন? হ্যাঁ আপনাকেই বলছি, আপনার বন্ধুর এরকম হলে আপনার অনুভূতি কি হইতো? শিরদাঁড়া বেয়ে হিম রক্ত বেয়ে যাচ্ছে কি? এখনই না আরো আছে গল্প।

আপনাকে মারতে এসেছে যে, সে কে? আপনারই ছোট ভাই - এই সেদিনও যাকে পড়া বুঝিয়ে দিয়ে এসেছিলেন, গত পরশু যে আপনার পাশেই বসে চা খাচ্ছিল। হয়তো কখনো একটু তর্ক হয়েছে, কখনো তাও হয় নি; আপনার সাথেই সে ক্লাস করে, বা আপনার আশে পাশের ক্লাসে। আপনার বন্ধুকে মারতে দেখে আপনি এগিয়ে যাবার সাহস পান নি, বরং প্রাণভয়ে নিজের ইনস্টিংক্টেই লুকিয়ে থাকতে চেয়েছিলেন; তারপরও ঠিকই তো খুঁজে পেল আপনাকে... ঘরের ভেতর থেকে টেনে হিঁচড়ে, এমনকি খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন তো - সেখান থেকেই বের করে মারতে মারতে পাঁচতলায় আপনার ঘর থেকে বের করে নিচে নিয়ে গেলো — পিটাতে... মনের সুখে পিটালো তারা আর সেখানে মার খেলেন আপনি... দুইজন তিনজন, পাঁচ-ছয়জন মিলে আপনাকে পিটাচ্ছে - বাঁধা দেবার সাহস আছে? ক্ষমতাই তো নেই! এতক্ষণে অবসন্ন পুরা শরীর, ব্যাথাটাও ঠিকমত অনুভব করা যাচ্ছে না। "বেশ মেরেছি এবার - চল আরেকটারে ধরি, বানাতে হবে" - বলে আরেকজনের দিকে ধেয়ে গেলো তারা।

এসব ঘটনায় আপনারা কি করবেন? বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আপনি - আপনার শিক্ষকদের উপর ভরসা রাখবেন তো? হ্যাঁ ছিলও তারা আপনার পাশে - আপনাকে বাঁচাতে এসে নিজেরাই জখম হয়ে গেলো - তাদের কেউ কেউ আইসিউই তে শুয়ে এখন লড়ছে।

তাহলে উপাযার্চ, ছাত্র কল্যান পরিচালক - আরও যারা আছেন তারা। গতকাল রাতে "সাধারণ ছাত্রদের কারো কিছু হবে না, হলে তার দায়িত্ব আমার" বলে আজ ক্যাম্পাসেই নেই উপাচার্য স্যার। ছাত্রকল্যান পরিচালক যিনি, তিনিও এলেন পুলিশ সাথে নিয়ে ঠিক তখনি - যখন কালপ্রিটরা সব তাদের কাজ সেড়ে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে গেছে।

আপনি কুয়েটের একুশে হলের ছাত্র, ফিস্টের খাবারের বাজেট এতো বেশি হইলেও খাবারের মান এতো খারাপ কেন সেটা গতরাতে জানতে চাওয়ায় আজ দুপুরে আপনার ভার্সিটির ছোটভাই, বড়ভাই, ব্যাচমেটরা আর তাদের রাজনৈতিক দোসর বি.এল. কলেজের ছাত্ররা আপনাকে পিটিয়ে, মেরে কেটে, জখম করে, আধা আতুর করে রেখে গেলো। তখন জনগণের সেবক পুলিশ ঠিক বাহিরেই বসে আয়েশ করছিল - অনুমতি নেই বলে কিছু বলে নাই কাওকে। তারপর, সিনেমার শেষ দৃশ্যে যেমন, তেমনি সব শেষ হবার পর তারা আসলো।

কুয়েটের ছাত্রদের লীগের ছেলেরা পিটাচ্ছে? তাহলে এরপর কি হবে, লীগের ছেলেদের উপর কেও হাত তুলবে? না সে সাহস নাই... তারপরও দিই হল ভ্যাকেন্ট করে, তাহলে বিচার চেয়ে আন্দোলন করতে পারবে না! ভ্যাকেন্ট করতে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং করা লাগবে? কি দরকার, কেউ কিছু তো আর বলার সাহস পাবে না, দিয়েছি কয়েকটাকে আচ্ছা করে - বেশি তেড়িবেড়ি করলে বাকিদেরও দেবো।

তাও সাধারন ছাত্ররা ভিসি'র বাসার সামনে অবস্থান নেয় ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশায় - কিন্তু তাদের উপর টিয়ার শেল মেরে, হামলা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। তারপর জোর করে হল ভ্যাকেন্ট - যে যেমনে পারো জান নিয়ে পালাও।

পাঠক আপনিই বলেন, যে ক্যাম্পাসে একসময় কোন রাজনীতি ছিল না, কারো গায়ে কেও কোনদিন হাত তুলার কথা চিন্তাও করে নি, সেখানে নির্মম ভাবে আজ কেন পিটানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের? এমনকি শিক্ষকদেরও? এ ঘটনার যদি কোন সুষ্ঠু সমাধান না হয় তবে কেও কি ক্যাম্পাসে ঠিকমত চলতে পারবে? যে শান্ত ছেলেগুলো এ তাণ্ডব দেখে আজ বাড়ি বা অন্য কোথাও গিয়ে রয়েছে - সে কি ঘুমের মাঝে ভয়ে শিউরে শিউরে উঠবে না - যদি আদতেই ঘুমাতেও পারে?


কুয়েটের পরিবেশ ঠিক করতে আপনাকেও এগিয়ে আসতে হবে, আপনাদের সঙ্গ না পেলে আমরা আমাদের এ কুয়েটকে আর ঠিক করতে পারবো না - আর বাঁচাতে পারবোনা ভালোবাসার গর্বের এই ক্যাম্পাসকে। আর কোন বাবা-মা তার সন্তানকে ইঞ্জিনিয়ার হতে এখানে আর পাঠাবে না।

আপনার সমর্থনের আশায় রইলাম॥
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:৫২
১৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বৃহন্নলা-কথন এবং নিউটনের তৃতীয় সূত্রের একটি সামাজিক বাস্তবায়ন

লিখেছেন রূপম রিজওয়ান, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৮



মধ্যরাত। মুহুরিপাড়ার জোড়া-খাম্বার সামনের সুনশান রাস্তাটায় দু'টো মাত্র প্রাণী। একটি আপনমনে পায়চারি করছে এদিক-সেদিক;অন্যটি খাম্বায় আলতো হেলান দিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে।উভয়ের মধ্যেই অসম্ভব মিল। দু'টোই ম্যামিলিয়ান ভার্টিব্রেট। তাই একটা সময় পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শ্রাউড অভ তুরিন অথবা যীশুর কাফন (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন শের শায়রী, ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫৩



সন্ধ্যা তখন ঘনিয়ে এসেছে, সেদিন ছিল প্রস্ততির দিন অর্থ্যাৎ সাব্বাথের দিনের আগের দিন। সে জন্য আরিম্যাথিয়া নিবাসী জোসেফ সেখানে এলেন। ইনি ছিলেন ধর্ম সভার একজন সন্মানিত সদস্য। তিনি ঐশী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডে- ২০১৯

লিখেছেন শায়মা, ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০৮


"ব্লগ ডে" এ দু'টি শব্দ মনে পড়লে আমার চোখে ভাসে কৌশিকভাইয়ার অসাধারণ কন্ঠে উপস্থাপনার ছবিটি। চোখে ভাসে জানা আপুর ছিপছিপে শাড়ি পরা চেহারাটা। চোখে ভাসে প্রায় তুষার কন্যা টাইপ ধপধপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (শেষ পর্ব)

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:০২



আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১৮)

বুঝেছি আমার নিশার স্বপন হয়েছে ভোর।
মালা ছিল তার ফুলগুলি গেছে, রয়েছে ডোর।
নেই আর সেই চুপি চুপি চাওয়া,
ধীরে কাছে এসে ফিরে ফিরে যাওয়া-... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতাব্দী রায় ভালো আছেন, সুখে আছেন

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৫৯


যাঁরা সম্প্রতি আমার পোষ্ট মোষ্ট পড়েছেন, তাঁরা নিশ্চয় শতাব্দী রায় সম্পর্কে কিছুটা জানেন: শুধু ব্লগার নুরু সাহেব অনেকবার পড়ার পরও শতাব্দী রায়কে মনে রাখতে পারেননি; নুরু সাহেব মানুষের জন্মদিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×