somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রমণ : দিল্লী থেকে অমৃতসর ... স্বর্ণমন্দির ছুঁয়ে একটি ঝটিকা সফর - ১ম পর্ব

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শুরুর কথা
ছয় সপ্তাহের ট্রেনিং-এ মুন যখন দিল্লী উড়ে গেল সবচেয়ে খুশি হলাম আমি। যাক দিল্লীতে আরেকটা সফরের অজুহাত পাওয়া গেল। দুজনে ঠিক করলাম ট্রেনিং-এর পঞ্চম সপ্তাহে আমি দিল্লী যাব, সুযোগমত ঘুরবো এবং ফিরে আসার সময় ওর বাড়তি জিনিসপত্র নিয়ে আসবো। সে মতে একা একা বাসে ঢাকা থেকে কলকাতা, সেখান থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে দিল্লী। একা ভ্রমণ করার একটা আলাদা মজা আছে। বিপুল স্বাধীনতা, কোন বাড়তি দায়িত্ব নাই, নির্ভার হয়ে ইচ্ছে হল থামলাম ইচ্ছে হলো চললাম। তো এই করে আগের দিন কলকাতা শেয়ালদা ষ্টেশন থেকে বিকাল ৪:৫০ টায় রাজধানী এক্সপ্রেসে রওনা দিয়ে পরের দিন নির্ধারিত সময় সকাল ১০:২০ টার স্থলে ঠিক ১০:৪৫ টায় নিউ দিল্লী রেলষ্টেশনে ঢুকলাম। এর আগে দুবার এসেছি এখানে। ষ্টেশন থেকে বের হয়ে প্রথম কাজ হল উল্টোদিকে পাহাড়গঞ্জের একটা লস্যির দোকানের লস্যি খাওয়া। এত সুস্বাদু লস্যি কোথাও খাই নাই। প্রথমবার দিল্লী এসে এই ছোট্ট দোকানটার খোঁজ পেয়েছিলাম।

মুনদের হোস্টেল ছিল কোরলবাগ বলে একটা জায়গায়। মধ্যমমানের হোটেল ও বিভিন্ন সেরা ব্র্যান্ডের শপিংমলের জন্য বিখ্যাত। দিল্লী মেট্রো সার্ভিসের একটা ষ্টেশন কোরলবাগের পাশ ঘেঁষে থাকাতে ওখান থেকে শহরের অন্যান্য জায়গার যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ সুবিধাজনক। সোম থেকে শুক্র সকাল ৯টা-৩টা টানা ক্লাস, শনি-রবি বন্ধ। ট্রেনিং ক্লাস বাদ দিয়ে কোথাও যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। কাজেই দিল্লীর বাইরে বেড়াতে হলে উইকএন্ডের ঐ ২দিনই ভরসা। ভ্রমণে ট্রেন সবসময়ই আমাদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু বিশাল ভারতের কোথাও ট্রেনে বেড়ানোর পক্ষে ২দিন খুবই অপ্রতুল সময়। দুজনে ভেবে ভেবে কিছুই ঠিক করতে পারি না, অথচ দ্রুত শনিবার কাছিয়ে আসছে। আগ্রা, জয়পুর কিংবা আজমীর - ১ দিনেই ঘুরে আসা যায় দিল্লি থেকে। কিন্তু সবগুলো জায়গাতেই আগে গেছি দেখে বাতিল করে দিলাম। অবশেষে ঠিক করলাম রেলষ্টেশনে গিয়ে নতুন যে যায়গার টিকেট পাবো সেখানেই যাব। সিদ্ধান্ত নেয়া হতেই বেশ একটা এ্যাডভেঞ্চার ভাব চলে আসলো।

নিউ দিল্লী ষ্টেশনের দোতলায় বিদেশীদের জন্য টিকেট কাটার একটা হলরুম আছে। সারি সারি টেবিলে কম্পিউটার নিয়ে বসে আছেন রেলওয়ে অফিসাররা। সবগুলোর সামনেই বিদেশীদের ছোট ছোট লাইন। ভারতে যে কোন রেল রুটেই টিকেটের প্রচুর চাহিদা, ক্ষেত্রবিশেষে ৬ সপ্তাহ আগে থেকে টিকেট বুক করতে হয়। তবে আশার কথা, বিদেশীদের জন্য বিভিন্ন গন্তব্যের কিছু না কিছু টিকেট সংরক্ষিত থাকে। ভারতীয় ও আমাদের গায়ের রং এক হলেও সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে আমরা বিদেশী কোটার সুবিধা নিতে বৃহস্পতিবার বিকালে হলরুমে গিয়ে ঢুকলাম। রুমের মাঝে দাঁড়িয়ে দয়ালু চেহারার এক জন টিকেট অফিসার খুঁজছি, যার কাছে বিফল হতে হবে না। শেষমেষ সবচেয়ে ছোট লাইনটার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমাদের পালা আসতেই হিন্দীভাষী অফিসারকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম আমরা কি চাই। উনি হড়বড় করে যা বললেন তার সারমর্ম হল আমরা কোথায় যাব সেটা আমাদেরকেই ঠিক করতে হবে, উনি কোন সাজেশন দিতে পারবেন না। আমাদের কথা শুনে পাশ থেকে আরেকজন অফিসার খাঁটি বাংলায় জিজ্ঞেস করলেন, কি বাংগালী নাকি? আহ, কানে মধু বর্ষণ করল কথাটা। উনিই হাতছানি দিয়ে আমাদের ডেকে নিলেন। পরিচয় হল সুধীরদার সাথে, পরামর্শ দিলেন ভুপাল অথবা অমৃতসর যান ... ২দিনেই বেড়িয়ে আসতে পারবেন। দুই শহর থেকেই দিল্লীতে বাস, ট্রেন বা প্লেনে আসা-যাওয়া করা যায়। কিবোর্ডে অনেকক্ষণ খুটখাট করে বললেন ভুপালের টিকেট নেই, তবে অমৃতসরের একটা স্পেশাল ট্রেনের টিকেট আছে তাও শনিবার রাতের। যেহেতু ডিসেম্বর মাস, টুরিষ্ট সিজন, তাই টিকেটের এই আকাল। শনিবার সারারাত কমপক্ষে ৮ ঘন্টার জার্নি, পৌঁছুব রোববার ভোরে, সারা দিন অমৃতসর দর্শন এবং ঐদিনই আবার রাতের ফিরতি যাত্রায় দিল্লী। কারণ সোমবার সকাল ৯টায় মুনের ট্রেনিং ক্লাস, মিস করা যাবে না। যা থাকে কপালে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দুটো টিকেট কেটে ফেললাম। এখন যাওয়ার ব্যবস্থাতো হল, আসার? অমৃতসর থেকে ট্রেনের ফিরতি টিকেট পাওয়ার আশা নেই বল্লেই চলে। সুধীরদাই বুদ্ধি দিলেন ভলভো বাস চলে দুই শহরের মধ্যে, টিকেটও সহজলভ্য এবং ট্রেনের তুলনায় সস্তা। সো নো চিন্তা!

২য় পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:০৬
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান বনাম ইজরাইল আমেরিকা যুদ্ধ; কার কি লাভ?

লিখেছেন খাঁজা বাবা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



২০০৬ থেকে আহমাদিনেজাদ ইজরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে, আমেরিকা ২০০২ থেকে ইরানে হামলার প্ল্যান করছে, নেতানিয়াহু ৪০ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন ইরানে হামলা করার। তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯


দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার হারিয়ে যাবার গল্প

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।

তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৭


আজ মানব জাতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
তারিখঃ ২৪ শে মার্চ, ২০২৬
সময়ঃ বিকাল ৪টা, (নর্থ আমেরিকা)
আমেরিকার কংগ্রেস স্বীকার করে নিল ভীন গ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব। স্বীকার করে নিল পৃথিবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই কালরাতে Operation Searchlight নামের বর্বর অভিযানের মাধ্যমে পাক আর্মি নিরস্ত্র বাঙালির উপর ইতিহাসের জঘন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×