মেয়ে, কি এক প্রগাঢ় অভিমানে তুমি
বৈশাখ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে,
লাল রঙের রেশমী কাঁচের প্রিয় চুড়ীগুলোর
জায়গা হলো কালো বাক্সের অন্ধকারে।
বুটিক হাউজগুলোর রঙিন আলপনা করা
শাড়ীগুলোর মাঝে দ্বিধান্বিতা তুমি;
কোনটা কিনবে, কিছুতেই বুঝতে পারনা,
যেন শিল্পী সব শাড়ীতে তুলির অাঁচড় বুলিয়েছিল
তোমাকে ভেবেই!
তোমার সেই আহলাদি মূহুর্তটুকু এখন অস্পষ্ট।
তোমার দীর্ঘ ভ্রূ যুগলের মাঝে ছোট্ট লাল টিপ,
আয়নায় নিজেকে দেখে
একটু মুগ্ধতাই কি ফুটে উঠতোনা
তোমার চঞ্চল চোখে ?
তোমার ত্রসত্দ পায়ে নুপূর
ছন্দ তুলতো একসময়,
খোঁপায় বেলী কিনবা রজণীগন্ধা ছাড়া
সাজে যেন পূর্ণতাই আসতোনা।
মেয়ে, তুমি কি ভূলে গেছ
বৈশাখের প্রথম আলোয়
বাঙালী সাজে তোমাকে ?
শোন মেয়ে, বৈশাখ কিনতু
তার পরিক্রমাকে এতটুকু বদলায়নি,
অভিমান আর অজানা ভয়ে মনের যে
দরজা, জানালা তুমি বন্ধ রেখেছো,
তাতে সে কড়াঘাত করবে এবারও।
আচ্ছা, তোমার চোখের তারা কি
কেঁপে কেঁপে উঠছে আবারও?
রেশমী চুড়ীগুলোকে আলগোছে
নেড়ে চেড়ে দেখছ ইদানিং,
তুমি কি আবার নিজেকে জড়াবে
বৈশাখী শাড়ীতে ?
রক্তিম টিপ, চুড়ীর টুনটাং আওয়াজ,
খোঁপায় জড়ানো মালা,
নুপূরের দুষ্টুমিভরা শব্দ,
দেখতে চাও কি আয়নায় নিজেকে
আরেকবার সলজ্জ্ব দৃষ্টিতে ?
মেয়ে, তুমি কি ফেরাতে পারবে
অভিমানী তোমাকে
বৈশাখের উম্মাতাল আহ্বান থেকে?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


