somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেভাবে সামু ব্লগে আসা

১০ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিশোরী বয়স থেকেই আমার পড়ার দারুন নেশা।তবে পাঠ্যবই নয়।গল্প,উপন্যাস ও অন্যান্য বিনোদনধর্মী লেখা।রবিঠাকুর,শরৎচন্দ্র,বিভূতিভূষণ,বঙ্কিমচন্দ্র,সমরেশ মজুমদার,ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় এরা আমার প্রিয় লেখক।এদের অনেক বই আমি পড়েছি।আর যেগুলো এখনো পড়া হয়নি সেগুলো স্থানীয় লাইব্রেরীতে খুঁজে পাই না।কিছু না কিছু না পড়লে আমার আবার একদমই ভালো লাগে না।একদিন আমার এক মোটামুটি সবজান্তা বন্ধুর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম নতুন লেখকদের মধ্যে কেউ ভালো লেখেন কিনা।উত্তরে ও বললো এখন যারা সাহিত্য লেখে সেগুলো অখাদ্য পড়তে পারবি না।আমি বললাম সাহিত্য না হোক অন্য কিছু অন্তত...

ও আমাকে ফেসবুকে লেখালিখি করে মোটামুটি সেলিব্রেটি এমন কয়েকজনের নাম বললো।দেখলাম মন্দ লেখে না,ভালোই লাগতো পড়তে।ভাবলাম একবারে উপস থাকার চেয়ে,এতটুকু তৃপ্তি ও কম নয়।কিন্তু আমি সন্তুষ্ট হতে পারছিলাম না অন্য কারনে।যখনি একটা লেখা মনোযোগ দিয়ে পড়তে শুরু করেছি অমনি বন্ধুদের হায়,হ্যালো শুরু হয়ে যেত।ভদ্রতাবশত উত্তর না দিলে ও নয়।দশ- পাঁচ মিনিট চ্যাট করার পর পুনরায় ওই লেখা পড়ার এনার্জি থাকত না।বিরক্ত হয়ে লগ আউট হয়ে বেরিয়ে আসতাম।

নাহ! ফেবুতে আর নয়।ব্লগের নাম আগে থেকেই জানতাম।ঘুরে বেড়াতে থাকলাম বিভিন্ন ব্লগে।দেখলাম একমাত্র সামু ব্লগ ছাড়া অন্য সব ব্লগ গুলো কেমন যেন জনশূন্য এলাকা।বাস্তবজীবনে কিছু কিছু সময় একটু একাকী থাকা,একটু শূণ্য শূন্য অনুভূতি যদিও মন্দ লাগে না।কিন্তু ব্লগে শূন্যতা মনে হয় ভালো লাগে না।খুলে ফেললাম সামু ব্লগেই নিজের একটা ব্লগ একাউন্ট।অফ লাইনে নিরব পাঠক হিসেবে দিনের অনেক সময়ই আমি ব্লগে কাটাতাম।একসময় অনুভব করলাম শুধু অন্যের লেখা পড়ে ব্লগিং এর পুরোপুরি মজা পাওয়া যায় না।হঠাৎই একদিন রাতে লগইন করে ব্লগে ঢুকে দেখি আমার ব্লগিংয়ের বয়স আট মাস এক সপ্তাহ দেখাচ্ছে।

আমি তো হতবাক,এতোটা সময় চলে গেছে আমি তো বুঝতেই পারিনি।আমার নিচে যাদের নাম তারা কেউ কেউ অল্প দিনেই বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে,যেখানে আমি এখনো কোন লেখাই পোস্ট করিনি।তারপর থেকে এই দুই মাস যাবৎ পোস্ট দিচ্ছি।যদিও এখনো সেফ হতে পারিনি।অনেকেই আমার ব্লগে এসেছে,মন্তব্য করেছে যাদের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ।

"আজেবাজে লিখে ও এত সুন্দর সুন্দর মন্তব্য পাইছেন,আজিব তো!"এটা আমার পোস্টে একজন ব্লগারের মন্তব্য।উনি যদি আজেবাজে লিখেছেন কিংবা আমার লেখার আরও আরও সমালোচনা করতেন সেটা ঠিক ছিলো।সব লেখা সবারই যে ভালো লাগবে এমনটা নয়।কিন্তু অন্য ব্লগাররা আমার পোস্টে কেন সুন্দর মন্তব্য করছে উনার এহনও মন্তব্যের প্রতিউত্তর কি দেওয়া উচিত আমি বুঝতে পারছি না।

সম্মানিত ঐ ব্লগারের ব্লগ থেকে আমি ঘুরে আসছিলাম।উনি তিন মাস যাবৎ ব্লগিং করছেন।আর এই অল্প সময়ে পোস্ট করেছেন 182 টি।আর উনার বেশিরভাগ পোস্টে কেউ মন্তব্যই করেনি।সম্ভবত এখনো সেফ হননি।অসাধারন লেখার হাত উনার।আমি তো অবাক হচ্ছিলাম এই ভেবে যে এত ভালো লিখেও আর এত এত পোস্ট করেও উনি এখনো কেন সেফ হননি।অথচ ওইরকম চার-পাঁচটা পোস্ট দিয়েই সেফ হওয়ার কথা।

আমি একটু লাজুক স্বভাবের।তাই অন্যের ব্লগে গিয়ে আমার ব্লগে আসার নিমন্ত্রণ জানাতে সংকোচ হয়।শুধুমাত্র দুইজন ব্লগারকে নিমন্ত্রণ করেছিলাম আমার ব্লগে আসার জন্য।বাকিরা নিজের ইচ্ছেই এসেছে মন্তব্য করেছে।

আমি পদ্য লিখতে পারি না।যা লিখেছি ওগুলো যে হাবিজাবি আমি নিজেও জানি।কিন্তু গদ্য আমি খারাপ লিখিনা।আগে থেকেই টুকটাক গদ্য লেখার অভ্যাস ছিলো।যদিও সেটা নেহাতই শখের বশে।ইদানিং একটু রেগুলার লিখছি।সম্মানিত ব্লগার কাওসার চৌধুরী একটা কথা বলেন,"লেখালিখি একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া,লিখতে লিখতেই লেখার মান ভালো হয়।"আর আমি তো মাত্র লিখতে শুরু করেছি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:৩৪
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ফোন কলের দূরত্বে ১০ হাজার মানুষের চাকরি!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



একটা ফোন কলের দূরত্বে ১০ হাজার মানুষের চাকরি!
বিষয়টি আপনি সমাধান করছেন না কেন, পিএম সাহেব? আপনার তো মাত্র একটা ফোন কলই যথেষ্ট—অন্তত ভুক্তভোগীদের এতদিনের অপেক্ষা দেখে সেটাই মনে হয়!
একটা ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

কার জন্য; কেন এতো লেখালেখি

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:২১

লিখে রাখো বৎস'রা ; এ দূর্মুর্খ আর বর্ন ব্লাইন্ড ও বেইমানদের বাংলাদেশ-এ ভালো কিছুই তৈরী হবে না ! লিখে রাখো বৎস'রা !!
যে যে ব্যক্তির মনে বিষাক্ত রাজনীতির বীজ ঢুকেছে;... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠেলায় নাম বাবাজি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৯


সময়টা সরকারের জন্য মোটেও ভালো যাচ্ছে না। একদিকে গ্যাস আর বিদ্যুতের সংকটে মানুষ প্রতিদিন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের বাধার মুখে পড়ছে। ফলে সরকার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×