একটা সময় ছিলো যখন অনেক গল্প বলতে ইচ্ছে করত। মনে ছিল প্রফুল্লতা আরেক ধরনের শক্তি, মনে হত মানুষকে ডেকে ডেকে নিজের গল্প বলি। বন্ধুরা মিলে সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ফিরার গল্প, রাত জেগে ফোনে মানুষকে জ্বালাতন করার গল্প, নিজের ঘরের চাবি হারিয়ে ফেলে ঘরে ঢুকতে না পারার গল্প অথবা মন খারাপ করা কোন এক বিষন্ন পড়ন্ত বিকেলে রেললাইনের ওই ব্রিজটায় একাকী বসে থাকার গল্প অথবা নিজের মনের কাছে পোষ-মানা ওই নদীটার কাছে গিয়ে বসে থাকবার এক প্রতিচ্ছবি। সবই। এখন আর ইচ্ছে করে না সেইসব । মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই সেই তরুণের।
কিন্তু, এখনো পড়ে আছে সেই রেললাইনের ব্রিজটি, নদীর সেই তীর, সন্ধ্যা হলে যেখানে নৌকো থাকেনা , ভাসে না কোন ভেলা শুধু ঢেও গুলো তীরে আছড়ে পরতে দেখা যায়। ওপারটা বড্ড দূরে। দেখা যায় না। যেনো অপেক্ষায় আছে, কেউ আসবে। অথবা, শুধু সময় অতিবাহিত করছে। আসলে তাড়া নেই সম্ভবত। কোথাও যাবার নেই। সন্ধ্যেবেলা ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির মাঝে ভেজা শীতল বালুতে পা দুটো মেলে দিয়ে বসে থাকতাম একসময়। এরকম অনেক কিছুই এখন আর পারিনা।
আসলে আজ কোন গল্প নেই। শরীর খারাপ করে অলস সময় কাটানো কোন গল্প হতে পারে না। শুয়ে থেকে ছাদের দিকে চেয়ে থাকা কোন গল্প হতে পারে না। অলস বসে থেকে যান্ত্রিক ও লোকদেখানো ফেইসবুকে নাটকের সাজানো চরিত্রগুলোর স্ট্যাটাস মেসেজের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা নিয়ে কোন গল্প লেখা যায় না।
আমাকে নিয়ে আমি কোন গল্প লিখতে পারি না।
অনুভূতিহীন এইসব বিষণ্ণ দিনেও আমি তীব্রভাবে বিষাদময়তায় আক্রান্ত হই, ইট সুরকির দেয়ালের মধ্যে বাস করতে করতে দম বন্ধ হয়ে ওঠে আমার। কানে গান লাগিয়ে, অনেক পুরনো কোন ফিকশন বইয়ে নিজের চেহারা আড়াল করে, ফাঁকা ট্রেনের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে অন্ধকার দেখি। স্মৃতির আয়নায় উপহাস করে আমার গত কাল । একান্তই নিজের গল্প। যে গল্প আমি আর লিখতে পারি না।
আমাকে পোড়ায় না রাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের বিদ্রোহ কিংবা নাশকতা, দেশ অথবা সময়ের পতন আমার কানে এসে থেমে যায়, আমার মস্তিষ্কে কোন অনুভূতির তৈরি করে না।নিজের কান নিজের অজান্তেই আমি বন্ধ করে রাখি, চোখে পড়ে থাকি ঠুলি। আগুন লেগেছে, বড়োজোর নিজের স্বজন আগুনের চারপাশে থাকার সম্ভাবনা না থাকলে আগ্রহ হারাই সে খবরে। কী দরকার যেচে পড়ে হাইপারটেনশন তৈরি করার? প্রতি মুহূর্তে স্বার্থপর অমানুষ হয়ে উঠি। প্রতি ক্ষণে ভালো মানুষ না হতে পারার ব্যর্থতা আমাকে তীব্র ভাবে বিদ্ধ করে। আমি অন্ধকার হেঁটে গিয়ে অন্ধ হয়ে উঠি, কূপমন্ডুক হওয়ার পথে আরেকটু এগিয়ে যাই।
কিন্তু এতকিছুর পর সবার থেকে দুরে থাকার কষ্টটাই বড্ড তীব্র হয়ে ওঠে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





