১।।
ইনসমনিয়া আবার এসে ভর করেছে। অনেকদিন পর সম্পূর্ণ অন্যরকম অসস্থিকর সময় কাটাচ্ছি । ঘরের পর্দা টেনে দিয়ে, আলো বন্ধ করে, টিভি ছেড়ে দিয়ে শুয়ে থাকি। ঘর ঠান্ডা করে, একেবারে ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নামিয়ে এনে, কাঁথা মুড়ি দিয়ে। বড় ধরনের বিলাসিতা। টিভিতে
হরতাল আর অবরধের নিউজ দেখি।
হরতাল আর অবরোধে প্রায় সারাদেশ কুপকাত। যদিও ঢাকায় বসে পুরটা না বুঝা গেলেও কিছুটা আচ পাওয়া যাচ্ছে।
এই তো কালই কলাবাগান বাসস্টেন্ডের কাছে জয় বাংলা ধ্বনিতে মিছিল করে কয়েকটা ককটেল ফাটালো। সম্ববত ছাত্রদলের কাজ। অন্যদিকে সরকারি দলও কোমর বাধেই নেমেছে বিরোধীদলকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য। কিছুদিন থেকেই এই একইধরনের সংবাদ মনের মধ্যে একঘেয়ে সুরে বাজছে।
২।।
সব অভিজ্ঞতাই কেমন যেন দেজাভ্যুঁ হয়ে যাচ্ছে আজকাল।
কলেজে যখন পরতাম , তখনও লম্বা সময় শারীরিক অসুস্থতার জন্যে এইরকম টিভি ছেড়ে দিয়ে শুয়ে থাকতাম। পুরনো নাটক বা অনুষ্ঠান মাঝরাতে পুনঃপ্রচার করতো, মাঝেমধ্যে সেইগুলোতে মনোযোগ দিয়ে সব ভুলে থাকার চেষ্টা করতাম। সকালে অবশ্য তখন ক্লাস থাকতো। ওইরকমভাবেই সকাল হয়ে যেতো, সকালে না ঘুমিয়েই ক্লাসে চলে যেতাম। আসলে কলেজ লাইফে বাসায় থেকে কোন মজা পেতাম না, তাইএকটু কস্টকরে হলেও ক্লাসে চলে জেতাম।
সেইটা পার করে ক্লাসে হাজির হয়ে যেতাম ঠিকই সময় মতো। সকালের ক্লাসে কদাচিত ঘুমিয়েছি। আমার পাশে বসা বন্ধুটিকে বলতাম সার এদিকে আসলে জাগিয়ে দিতে। পরে অবশ্য এরকম অব্বস্ত হয়ে গিয়েছিলাম যে হোমওয়ার্ক অথবা ক্লাস টেস্ট এরকথা কানে গেলেই জেগে উঠতাম।
৩।।
পড়ালেখা নিয়ে ভেজালে আছি। প্রবলেম কোশ্চেন গুলো সলব করতে আর ইস্যু ধরতে ধরতে পেটখারাপ হওয়ার যোগার।
পরীক্ষা ঘারে নিঃশ্বাস ফেলছে। চোখের পাতা ফেলার যেখানে সময় নাই সেখানে শুধু পরিকল্পনা করে কাটাচ্ছি । মনটাকে এই পরিকল্পনা অনুযায়ী চালনা করাই এখন অনেককটাই দুঃসাধ্য মনে হচ্ছে। এই ভেজালে আটকে আছি কয়েকদিন।
৪।।
আগের চেয়ে একটু বেশি খুঁতখুঁতে হয়ে গেছি মনে হয়। মন-মেজাজ খুব খারাপ থাকে। খুব ছোটখাট বিষয় এখন খুব বড় বলে মনে হচ্ছে।
সত্যজিত রয় এর খুব ছোট ছোট গল্পের সংকলন ছোটবেলায় পড়তাম। এবারও বারো, একডজন গপ্প, এইরকম হতো নামগুলো। সেইরকম কোন একটা সংকলনে একটা মজার গল্প ছিলো, এক লোক মানুষের ভবিষ্যৎ ছবি এঁকে দিতে পারতো, সেই নিয়ে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি। না কোন সিরিয়াস চিন্তা না। এই নিজের ভবিষ্যতের ছবিটা আনুমানিক কেমন হতে পারে তাই। চিন্তা করলে একটাই ছবি ভেসে ওঠে একজন খুত খুতে, মধ্যমনা, নিয়মতান্ত্রিক একঘুয়ে বুড়ো। মাথায় পৈতৃক টাক আছে। পকেটে কেমন টাকা থাকবে বলা যাচ্ছে না। ভুরিটা না থাকাই ভাল। কারণ, তেল-চর্বি বড় অপছন্দের জিনিষ।
৫।।
পৌনঃপুনিকতা বড্ড বাজে জিনিষ। এই জীবনে কোন গল্প নেই। আগের জীবনটাই ভাল ছিল। একঘেয়ামি খুব একটা ভাল জিনিস না। এখনকার জীবনটাকে একটু যদি জ্যামেতিক আকারে চিন্তা করি মানে জীবনটাকে যদি সরলরেখা হিসাবে চিন্তা করি তাহলে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট কোন সময়ের উপর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেই পরবর্তী জীবনটা কেমন হবে তা অনেকাংশেই বুঝা যায়। তারাসঙ্করের কোন একটা উপন্যাসের নয়ক বলেছিল ‘জীবন এত ছোট কে রে’। কিন্তু আমার এরকম বলতে ইচ্ছা করে না।
কোন গল্প নেই, কোন বিশেষ ঘটনা নেই।
সময়টা বড্ড খারাপ, বড্ড খারাপ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





