
বর্ধমান জেলার অজয় নদীর ধারে একটি গ্রাম। গ্রামের নাম পাথরচুড়। এই গ্রামের উত্তরে অজয় নদী, দক্ষিণে দামোদর নদী আর পূর্ব ও পশ্চিমে বিশাল সবুজ খেত। পরে অন্য গ্রাম হিজলগড়া, জামশোল, বাড়ুল , কুমারডিহি, বীরকুলটি ও লালবাজার গ্রাম।
হিজলগড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ একটি ছোট গ্রাম। 2 নং ব্লক জামুরিয়া, থানা-জামুরিয়া, আসানসোল মহকুমার অধীনে গ্রামটিতে বহু জাতির বাস। গ্রামের অধিকাংশ বাড়িই কাঁচা মাটির। চাল খড়ের ও টিনের। আর টালি দিয়ে ছাওয়া। গ্রামের রাস্তা মরাম দেওয়া মাটির। সাইকেল, গরুর গাড়ি চলে। ট্রাক ও ট্যাক্সি আর রিক্সাও চলতে দেখা যায়।
গাঁয়ের কাঁচা রাস্তা দরবারডাঙা পর্যন্ত গিয়ে অজয়নদীর ঘাট পর্যন্ত এসে মিশেছে। রাস্তার চার পাশে কোথাও নিম, তেঁতুল ও অর্জুন গাছ আছে। কিছুদূরে গিয়ে বীরকুলটির পাশ দিয়ে যেতে যেতে পলাশবন ও কাঁটা কুলের বন দেখা যায়।অজয় নদীর ওপারে বীরভূম জেলা। বর্ধমানের শেষ সীমান্তের গ্রাম এটি। অজয় নদীর ওপারে বীরভূম জেলার গ্রামগুলিকে এপার থেকে স্বপ্নের মতই দেখায়।
গাঁয়ের মাঝখানে নাটশালা ও ধর্মরাজের মন্দির আছে। নাটশালায় বৈশাখ মাসে কীর্তন গান ও চব্বিশ প্রহর হরিনাম সংকীর্তন হয়। দুর্গাপূজায় খুব ধূমধাম হয়। গাঁয়ে একটি মাত্র দুর্গামন্দির। আগে এই মন্দিরের মাটির দেওয়াল ও টিনের চাল ছিল। এখন তা ঢালাই করা হয়েছে। দূর্গাপূজায় গোটা গ্রাম আনন্দে মেতে উঠে। বিজয়া দশমীর রাত্রে যাত্রাগান, নাটক, থিয়েটার করা হয়। সারা রাত ধরে হ্যাজাকের লাইটে যাত্রা পালা মঞ্চস্থ হয়।
সেদিন আর নেই। এখন গ্রামে গ্রামে বিদ্যুত এসে গেছে। বিদ্যুতের আলোয় এ গ্রামকে মনে হয় স্বপ্নের পুরী। প্রথম যেদিন গ্রামে বিদ্যুতের আলো জ্বলে সেই দিনটা অতি স্মরণীয় দিন। এই গ্রাম আমার মা, আমার স্বর্গধাম। আমার জীবনসাধনা শুরু এই গ্রামকে ঘিরে।
"গাঁ আমার মাটি আমার,
যেন বারে বারে এই গাঁয়ে ফিরে আসি আবার"

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




