somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

লক্ষণ ভান্ডারী
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী –নামেই কবির পরিচয়। কবির বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান জেলার পাথরচুড় গ্রামে। প্রকৃতির সাথে পরিচয় ছোটবেলা থেকেই। বর্তমানে কবি বাংলা কবিতার আসর, বাংলার কবিতা ও কবিতা ক্লাবের সাথে যুক্ত। অবসর সময়ে কবি কবিতা লেখেন ও স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন

ভালবাসা শুধু ভালবাসা (চতুর্থ পর্ব)

০৯ ই মে, ২০১৯ দুপুর ১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ভালবাসা শুধু ভালবাসা (চতুর্থ পর্ব)


চক্ষু দিয়ে কেনা ভালবাসা
লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তান চৈতালী। চৈতালী জন্মান্ধ। ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়েছে। বিধবা মায়ের সাধ্য নেই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার। আর তাছাড়া অন্ধ মেয়েকে কেইবা বিয়ে করবে? চৈতালীর মনে বড় দুঃখ। কি সুন্দর এই পৃথিবী। কত গাছপালা, পশুপাখি, পাহাড়, পর্বত -কন্দর নদ-নদী। সে চোখে দেখতে পায় না। কিন্তু কল্পনার চোখ দিয়ে সবই তার কাছে অতি সুপরিচিত।

দিন যায়, রাত আসে। রাত কাটে ভোর হয়, শুরু হয় নতুন দিনের সুচনা। এমনি করেই আঠারোটা বসন্ত পার হয়ে গেছে চৈতালীর জীবনে। চৈতালী বুঝতেই পারে নি কেমন করে কেটে গেছে তার জীবনের ফেলে আসা দিনগুলো। মাকে এখন সে কিছুটা সাহায্য করে থাকে। চৈতালীর গানের গলা ছিল অদ্ভুদ। সহজেই সে গান মুখস্থ করে নিতো আর হারমোনিয়ামে সুর সংযোজিত করে সবাইকে আকৃষ্ট করতো। পাড়ার ছেলেরা চাঁদা তুলে চৈতালীকে একটা গানের স্কুল খুলে দিল। গান শিখতে যারা আসতো তাঁদের পয়সায় মা তার সংসার চালাতো। চৈতালীও এতে কিছুটা আনন্দও উপভোগ করতো। সে গর্বিতা কেননা সে তার মায়ের বোঝা কিছুটা হালকা করতে পেরেছে।

সেদিন বেশ খুশি মনেই অনুপম এসে বললো, “মাসীমা! আমি সব ব্যবস্থা করেছি। আগামীকাল চৈতালীর চোখ অপারেশন করা হবে। কোন এক সহৃদয় ব্যক্তি তার একটি চোখ দান করবেন। একজন সমাজসেবী ডাক্তার বিনা খরচে তার নার্সিংহোমে তার অপারেশন করে চৈতালীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেবেন। চৈতালী তখন গানের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের গান শেখাচ্ছিল।

চৈতালী গাইছে-
“আমার এই চোখ দিয়ে
পৃথিবীর সব আলো
আমি তোমায় দেখাবো
বলনা কুহু সুরে
কোন পাখি ডাকে দূরে।।
ডালে ডালে কোয়েলিয়া
কোয়েলের সন্ধানে
গান গায় প্রেমের সুরে
বলনা কুহু সুরে
কোন পাখি ডাকে দূরে?”

চৈতালীর কাছে সবকিছুই গোপন করা হলো। পরদিনই সকালে তাকে নার্সিং হোমে ভর্তি করা হলো।
অপারেশন থিয়েটার। চৈতালী বেডে শুয়ে আছে। চৈতালী শুয়ে শুয়ে ভাবছে কে সে হৃদয়বান পুরুষ যিনি তাকে তার একটা চোখ দান করবেন। ভাবতে ভাবতে সে চোখ দুটো দারুণ ঘুমে জড়িয়ে পড়ল। এরপর কি হয়েছে চৈতালী জানে না। জ্ঞান যখন ফিরলো তখন সে বুঝতে পারলো তার চোখ দুটো পুরু কাপড় দিয়ে বাঁধা।
ডাক্তার বললেন- এবার তোমার চোখের পুরু কাপড় খুলে দেওয়া হবে। তুমি ধীরে ধীরে চোখ খুললেই সবকিছু দেখতে পাবে। চৈতালী বলে উঠে- আচ্ছা ডাক্তারবাবু! যিনি আমায় চোখ দান করেছেন তাকে আমি দেখতে পাব ?

“হ্যাঁ, অবশ্যই”। ডাক্তারবাবু ইশারায় অনুপমকে ডাকে।

অনুপম সামনে এসে দাঁড়ায়। চোখে কালো চশমা। ডাক্তারবাবু চৈতালীর চোখের কাপড় খুলে দিলেন। বললেন- “এবার ধীরে ধীরে তোমার চোখ খুলো”।
চোখ খুলতেই চৈতালী প্রথমে অনুপমকে দেখতে পেল। তার চোখে কালো চশমা দেখে চৈতালী সব বুঝতে পারলো। খুশির আনন্দে চৈতালীর দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। “এ তুমি কি করলে অনুপম! এতো আমি চাইনি। ” চৈতালী কাঁদতে থাকে।

অনুপম বলে, “দুঃখ কোর না চৈতালী এতদিন চোখে আমি একাই দেখতাম। এবার থেকে আমার চোখ দিয়ে তুমি আমাকে দেখছো এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কি হতে পারে? ওরা দুজনে একসাথে ডাক্তারবাবুকে প্রণাম করে।

চৈতালীর আজ বড় আনন্দের দিন। তার চোখ দিয়ে দেখতে লাগল চারদিক। চৈতালী অনুপমকে জড়িয়ে ধরে বলে- “আমার সামনে থেকে পৃথিবীর সব আলো নিভে গিয়েছিল, তুমি নতুন করে তা আবার জ্বেলে দিয়েছো? পৃথিবীতে কত আলো। সবুজ গাছপালা, পশুপাখি – ইত্যাদি।

আনন্দে চৈতালী গেয়ে ওঠে- “সুন্দর পৃথিবী – সৃষ্টি করেছো তুমি, তোমারে জানাই প্রণাম। ওগো ঘনশ্যাম…… তুমি যে আমার।”
দুইজনে একসাথে নার্সিংহোম থেকে বাড়ির পথে পা বাড়ালো।

গল্প এখানেই শেষ। কিন্তু এটাতো গল্প নয়। সমাজের আনাচে কানাচে, গ্রাম নগর, শহর, অলিতে গলিতে, যারা দৃষ্টিহীন, আঁধারের বুকে মুখ লুকিয়ে যারা আজও কাঁদছে, আসুন, আমরা তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। মনে রাখবেন মরণোত্তর চক্ষুদান এক মহত্ দান।আপনার দেওয়া চোখের বিনিময়ে কোন একজন অন্ধের দৃষ্টি ফিরে আসতে পারে। সহানুভুতির পরশ দিয়ে অন্ধজনের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিন। সাথে থাকুন, পাশে রাখুন। জয়গুরু!

(চলবে)
আগামী দিনে ভালবাসা শুধু ভালবাসা পঞ্চম পর্ব প্রকাশিত হবে।
মন্তব্যের প্রত্যাশায় মন্তব্য করবেন না। কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ততার জন্য
প্রয়োজনবোধে লেখক প্রতিটি মন্তব্যের প্রত্যুত্তর নাও দিতে পারেন।
সাথে থাকুন, পাশে রাখুন। জয়গুরু!

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৯ দুপুর ১:০৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×