somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোয়ার্ক থেকে সভ্যতা ......চঞ্চল কুমার ,MSc in Nuclear Physics.2012(RU)

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘সবল নিউক্লিয়ার বল’ নাম টা শুনলেই বোঝা যায় এটা মহা জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল।প্রায় ১৪শ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাং এর ফলে যে কনিকা গুলি তৈরি হয়েছিল তাদের নাম কোয়ার্ক (Quark) . কোয়ার্ক এর ছয়টি ফ্লেভার আছে: আপ(Up), ডাউন(down), চার্ম(charm), স্ট্রেঞ্জ( strange), টপ(top) ও বটম(bottom)। এই প্রতিটি ফ্লেভারের আছে তিনটি করে বর্ণ: লাল, সবুজ ও নীল। কোয়ার্ক গুলো স্বত্রন্ত ভাবে অবস্থান করতে পারে না ।স্বত্রন্ত ভাবে অবস্থান করলেই তাদের কোনো না কোনো রঙ থাকবে কিন্তু সবল নিউক্লিয়ার বলের একটা ধর্ম হলো এই বলের ফলে যা সৃষ্টি হবে তার কোনো রঙ থাকবে না । আসলে গ্লুয়ন নামক একটি কনিকা সবল নিউক্লিয়ার বল বহন করে ।গ্লুয়ন শুধু নিজেদের মধ্যে এবং কোয়ার্ক গুলোর মধ্যে নিজের কার্যকারিতা বজায় রাখতে পারে ।গ্লুয়নও স্বত্রন্ত ভাবে অবস্থান করতে পারে না কারন গ্লুয়নের ও রঙ আছে । অনেক সংখ্যক গ্লুয়নের সমষ্টির ফলে একটা অস্থির কনিকার সৃষ্টি হয় যার নাম গ্লুবল(Glueball) .
সবল নিউক্লিয়ার বলের ফলেই কোয়ার্ক গুলো নিজেদের মধ্যে গ্লুয়ন(Gluon) বিনিময়ের করে সৃষ্টি করে হেড্রন (Hedron) ।এই হেড্রনের কোনো রঙ নেই।
হেড্রন দুই প্রকার। মেসন আর ব্যারিওন । একটি quark এবং একটি Anti quark নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে তৈরি করে মেসন আর ব্যারিওন তৈরি করতে তিনটি করে কোয়ার্ক নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে । সবচেয়ে হালকা আর stable ব্যারিওনের উদাহারন হলো প্রোটন এবং নিউট্রন । আরো ভারি কিছু ব্যারিওন সৃষ্টি হয় যেমন ওমেগা ,জাই ,সিগমা , ষ্টারসিগমা ইত্যাদি ।এগুলো stable না হওয়ার কারনে ভেঙ্গে গিয়ে প্রোটন এবং নিউট্রনে পরিনত হয় ।
প্রোটন এবং নিউট্রন নিউক্লিয়ার সবল বলের ফলে যুক্ত হয়ে তৈরি করে নিউক্লিয়াস। নিউট্রনের কোনো চার্জ না থাকলেও প্রোটনের ধনাত্মক চার্জ আছে তাই নিউক্লিয়াসের চার্জ হলো ধনাত্মক ।
প্রোটন এবং নিউট্রন মিলেই যদি নিউক্লিয়াস তৈরি হবে তাহলে সর্ব প্রথম কোন নিউক্লিয়াস টি তৈরি হয়েছিল ? হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস ? না তার কারন হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াসে নিউট্রন থাকে না । প্রোটন -নিউট্রন মিলে যে প্রথম নিউক্লিয়াস তৈরি হয়েছিল তার নাম হিলিয়াম ।তবে সবার আগে যে নিউক্লিয়াস তৈরি হয়েছিল তার নাম হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস কারন একটা প্রোটনকেই আমরা হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস বলি ।অর্থাৎ একটা প্রোটন যখন তার চারপাশ থেকে একটা ইলেকট্রন কে তার কক্ষপথে আটকে ফেলে তখন তৈরি হয় হাইড্রোজেন পরমানু । হিলিয়ামের নিউক্লিয়াস যখন তার চারপাশ থেকে দুটি ইলেকট্রন কে তার কক্ষপথে আটকে ফেলে তখন তৈরি হয় হিলিয়াম পরমানু । এভাবে বিগ ব্যাং এর ৩ লক্ষ আশি হাজার বছর পর তৈরি হয়েছিল হাইড্রোজেন, হিলিয়াম এবং লিথিয়াম ।
নিউক্লিয়াসের কক্ষ পথে ইলেকট্রন কে আটকে রাখতে সাহায্য করেছিল যে বল তার নাম তড়িৎ চৌম্বক বল( Electromagnetic Force) । এই বল সবল নিউক্লিয়ার বলের চেয়ে কম শক্তিশালি হলেও এর শক্তি ওতটা কম নয় ।
এই হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ,লিথিয়াম পরমানু গুলো নিজেদের মধ্যে fusion reaction এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তৈরি করলো নক্ষত্র যাদের বিস্ফোরণে আরো ভারি মৌল তৈরি হলো যা দিয়ে সৃষ্টি হলো গ্রহ ,উপগ্রহ,ও এই ইউনিভার্স এর অনেক জানা অজানা বস্তু ।
এই হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ,লিথিয়াম পরমানু থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টির কথা দুই লাইনে লিখলেও এটা ঘটতে সময় লেগেছিল প্রায় ১বিলিয়ন বছর (১ বিলিয়ন=১০০০০০০০০০ বছর) । নক্ষত্র গুলো থেকে গ্রহ উপগ্রহ সৃষ্টি হয়ে সেগুলো তাদের ই কক্ষপথে ঘুরতে থাকে ।একটা নক্ষত্র তার চারপাশে যে বলের ফলে গ্রহ উপগ্রহ গুলোকে ধরে রাখে তার নাম মহাকর্ষ ।এই বল না থাকলে কি হত আমরা নিউটনের মহাকর্ষ সুত্র থেকে জানতে পারি ।নিউটন তার বিখ্যাত মহাকর্ষ সূত্র ও বিধি প্রনয়ন করে ব্যখ্যা করেন কিভাবে সারা মহাবিশ্বে নক্ষত্র , গ্রহ ও উপগ্রহ সমূহ ঘোরাঘুরি করছে। অবশ্য এর আগেই জোহান কেপলার নামের এক জার্মান জ্যোতির্বিজ্ঞানী সূর্য কেন্দ্রিক সৌরজগতের চিত্র তুলে ধরেছিলেন। নিউটন এসে উক্ত সৌরজগতের চিত্রের আসল তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দান করেন এবং মহাবিশ্বে কিভাবে নক্ষত্র জগত বিচরন করে গুচ্ছ গুচ্ছভাবে বিশেষ করে গ্যালাক্সির আকারে তার জন্য মহাকর্ষীয় আকর্ষনের ব্যখ্যা প্রদান করেন এবং এ সম্পর্কীয় সূত্র ও বিধি প্রনয়ন করেন।
এই বিরাটকায় ইউনিভার্সের এক ক্ষুদ্র নক্ষত্রের এক বিন্দু সমতুল্য গ্রহের এক কোনায় বসে ভাবতে ইচ্ছে করে আমি নিজেও তো এই ইউনিভার্সেরই একটা অংশ আর এটা ভেবে ভাল লাগে যে আমি ছিলাম ,আমি আছি ,আমি থাকব । আমি মরে গেলেও আমার শরীরের কোটি কোটি প্রোটন ,নিউট্রন ,ইলেকট্রন ,কোয়ার্ক গুলো মরবে না ।এগুলো মিশে যাবে এই অসীম ,শূন্য ,বৃহৎ ইউনিভার্সেই ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহকে আমরা আসলে কেন ভালোবাসি—জীবনাচারের জন্য, নাকি পাকিস্তানের জন্য?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

ইতিহাসের কিছু চরিত্রকে আমরা ভালোবাসি না তাঁদের পুরো জীবনকে বুঝে; বরং তাঁদের ঘিরে তৈরি হওয়া একটি রাজনৈতিক প্রতীকের জন্য। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

জিন্নাহ ছিলেন নিঃসন্দেহে অসাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×