somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাইডে আহেন ..কথা আছে .... !! সাইড বাহিনী থেকে নিরাপদে থাইকেন ....এই ঈদে ...!!

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈদ কবে ! ২৩ না ২৪ না ২৫! জিলহজ্ব মাসের চাঁদ না দেখা পর্যন্ত তো সঠিক করে কিছুই বলা যায় নাই। বাড়ি যাবো, টিকিট কাটবো .... কবেকার টিকিট কাটবো সেটাই তো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আবার বুঝে ওঠা পর্যন্ত তো গাবতলীর টিকেট কাউন্টারে আমার জন্য নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ের নির্দিষ্ট সংখ্যাক টিকিট থাকবে, তারই বা কি নিশ্চয়তা? এমনই এক দোদুল্যমান মানসিক সংকটের মধ্যে কিছুদিন দিনাতিপাত করে অবশেষে গতকাল রাতে ২৪ তারিখের দুখানা টিকেট আমার নসীবে জুটলো। সেই টিকেট সংগ্রহ করতে গিয়েও আমাকে পড়তে হলো জীবনের এক গভীর বিপাকে। আল্লাহ সহায় .... তেমন কোন বিপদ যদিও সংঘটিত হয়নি, তারপরেও বিপদ তো বিপদই ...তাই না।

ঘড়ির কাটায় তখন রাত পৌনে ৮টা টাট্টা হবে। টিকেট প্রাপ্তির আনন্দ পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করার তর আমার আর সইছিলো না। মা-কে ফোনে টিকেট প্রাপপ্তির কথা জানাতে জানাতে হেটে চলেছি, গাবতলীর কাউন্টার পার হয়ে একটু নির্জন এলাকাটি অতিক্রম করতেই পেছন থেকে আমার ঘাড়ে একটি হাতের স্পর্শ অনুভব করতেই ঘুরে দাড়ালাম। দেখি ২২ কি ২৪ বছরের একটি যুবক হাতের ইশারায় আমাকে মাটির দিকে কিছু একটা দেখানোর চেষ্টা করছে। আমি ভাবলাম হয়তো আমার পকেট থেকে কিছু পড়েছে, সেটা বুঝাতে চাইছে। আমি মাথা ঝুঁকে কিছু দেখার চেষ্টা করেও যখন কিছু দেখলাম না, তখন ওকে জিজ্ঞাসা করলাম , কি ব্যাপার ভাই? আর এদিকে মা-কে বল্লাম আমি পরে কথা বলছি মা ... বলে ফোনটা কেটে দিয়ে মোবাইলটা পকেটে চালান করে দিলাম। সে তখন আমার কাছে এসে বল্লো ... হাটতে হাটতে যে পায়ে পাড়া দিয়ে চলে যাচ্ছেন, সেটা খেয়াল করেন না? .... আমি একটু তব্দা খাইলাম। ব্যাটা কয় কি? আমি বলে হ্যার পায়ে পাড়া দিয়া হাইটা যাইতাছি। অথচ আমি টের পেলাম না? যাই হোক ...আমি একটু দম টেনে বল্লাম ...ভাই ...পায়ে পাড়া লেগে থাকলে সরি .... ঠিকাছে! সে তখন বেশ উত্তেজিত হয়ে বল্লো ...সরি কইলেই হইলো? পাড়া দিয়া যাইবেন গা? ... আমি তখন একটু ঢোক গিল্লাম .... ওর ঝাড়ি খেয়ে গলাটা মনে হলো শুকনা হয়ে গেলো .... মিন মিন করে বল্লাম ...ভাই হয়তো খেয়াল করি নাই ... সরি ..এর বেশী আর কি করতে পারি বলেন? ....সে তখন বল্লো ...এইডা আমার এলাকা...আমারে চিনেন আমি কে? .... সাইডে আহেন.... ! আমি তো পুরা ঠাডা খাওয়া মাইনষের মতো খাড়ায় গেলাম। সাইডে যাইতে কয় ক্যান? পায়ে পাড়া লাগলে কি সাইডে গিয়ে সরি বলতে হয় নাকি? আমার দাড়িয়ে থাকা দেখে সে আবারো আমাকে তাগাদা দিয়ে বল্লো ...কইলাম না সাইডে আহেন? কথা আছে .... আমি তখন একটু শক্ত হয়ে (ভয়ে শক্ত হয়া গেছিলামগা...!) বল্লাম ভাই! পায়ে পাড়া লাগছে, সরি বলছি, আপনি কে , সেটাও আমার জানার দরকার নাই .... ঐ ...আমি কি তোর বাপের চাকর লাগি, যে তোর কথায় সাইডে যামু তোর লগে ...কি কবি সবার সামনে ক .... শেষ কথা গুলা কেমনে কেমনে জানি মুখ ফসকায়া জোর গলায় বাইরায়া গেলো .... !! আমার জোর গলা অবশ্য কিছু পথচারীরও দৃষ্টি / শ্রুতি আকর্ষন করলো। তারাও দাড়ায়া গেলো শাল গাছের মতো ...আমি তখন আরেকটু সাহসও পাইলাম ...মুখ খুইলা আরো কিছু কইতে যামু ... দেখি হালায় নিজেই আস্তে কইরা সাইডে চইলা যাইতাছে .... আমি আর কথা বাড়ালাম না .... সহিহ সালামতে বাসার দিকে সাইড কাটলাম .....
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:৩২
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×