somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইয়েমেনী বাদশাহ তুব্বে আউয়ালের এক হাজার বছরের পুরানো চিঠির ইতিহাস.....

২১ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইয়েমেনী বাদশাহ তুব্বে আউয়ালের এক হাজার বছরের পুরানো চিঠির ইতিহাস.....

কিতাবুল মুসততরফ, হুজ্জুতুল্লাহেল আলামিনে এবং তারিখে আবনে আসাকেরে বর্ণিত আছে যে, হুজুরে পাক (সাঃ) এঁর পৃথিবীতে আগমনের হাজার বছর পূর্বে একজন ইয়েমেনের বাদশাহ ছিলেন যার নাম ছিলো- তুব্বে আউয়াল হোমাইরি। একবার তিনি দেশ পরিভ্রমণে বের হন। বাদশাহর সাথে ছিলো বহু সংখ্যক অশ্বারোহী, আলেম ওলামাগন ছিলেন। যেহেতু তিনি বিশাল বাহিনী নিয়ে পরিভ্রমণে বের হয়েছিলেন, তাই সকল জনপদ থেকেই তাকে দেখার জন্য, সম্মান করার জন্য দলে দলে লোকজন এসে জড়ো হয়েছিলো। এভাবে দেশ পরিভ্রমণ করতে করতে তিনি মক্কা শরীফের নিকটে পৌছান। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো মক্কা শরীফের কোন লোক তার বাহিনীকে দেখতে বা স্মান দেখাতে এলো না। এই ঘটনায় তিনি খুব আশ্চর্যবোধ করলেন। তিনি এর কারণ অনুসন্ধান করতে বল্লেন। কারণ হিসাবে তিনি জানতে পারেন যে, এই মক্কাতেই বায়তুল্লাহ নামে একটি ঘর (ক্বাবা শরীফ) আছে, লোকজন সেই ক্বাবাকেই সম্মান প্রদর্শনের জন্য দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে এবং এই মক্কাবাসীদেরকেই সম্মান করে বিদায় নিয়ে চলে যায়। সেই কারণেই মক্কার অধিবাসিরা তার শান শৌকত দেখতে বা তাকে সম্মান করতে এগিয়ে আসার প্রয়োজন মনে করে না।

এই কথা জানতে পেরে তিনি খুব মর্মাহত এবং রাগান্বিত হন। তিনি মক্কাশরীফ আ্ক্রমনের জন্য দৃঢ় সংকল্প করেন। কিন্তু এর পরই তিনি খুব অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। অনেক চিকিৎসার পরেও তার রোগ ভালো হলো না। তখন তার বাহিনীর একজন জ্ঞ্যানী ব্যক্তি, আলেমে রাব্বানী,তাকে পরামর্শ দেন যে, যদি বাদশাহ কোন খারাপ সংকল্প করে থাকলে তা যেনো বাদ দেন। সেই মোতাবেক তিনি মক্কা শরীফ আক্রমনের সংকল্প ত্যাগ করেন এবং তওবা করেন। ফলে তিনি আরোগ্য লাভ করেন। এই খুশিতে তিনি ক্বাবা শরীফে রেশমী গিলাফ চড়ান।

এর পর তিনি মদিনা শরীফে গমন করেন। তার বাহিনীতে যে সকল জ্ঞ্যানী ব্যক্তি ছিলেন, তাদের অনেকেই পূর্ববর্তি আসমানি কিতাব সম্পর্কে জ্ঞ্যত ছিলেন। উক্ত আসমানী কিতাবে রাসুলে পাক (সাঃ) এঁর হিজরত সম্পর্কে যে সকব আলামতের কথা বলা ছিলো, তাঁরা মদিনা শরীফে সেই আলামত খুজে পান এবং রাসুলে পাক(সাঃ) এঁর খেদমত করার উদ্দেশ্যে মদিনা শরীফেই স্থায়ী ভাবে বসবাস করার জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হন। এই কথা শুনে উক্ত বাদশাহ ঐ সকল আলেম গনের জন্য সেখানে ৪০০ ঘর তৈরী করে দেন এবং উক্ত আলেমে রাব্বানীর গৃহের পাশে একটি দোতলা ঘর তৈরী করেন এবং অছিয়ত করেন যে যখন রাসুলে পাক(সাঃ) মদিনা শরীফে তাশরীফ আনবেন, তখন যেনো এই ঘরটি তাঁর আরামগাহ হয়। উক্ত বাদশাহ ঐ সকল আলেমগনকে অনেক সাহায্য সহযোগিতা করে এখানেই চিরস্থায়ী ভাবে বসবাস করতে বল্লেন এবং আলেমে রাব্বানীর নিকট একটি চিঠি লিখে তা রাসুলের খেদমতে পেশ করতে বল্লেন। তিনি এও বলে দিলেন যদি আপনার জীবদ্দশায় রাসুলে পাক (সাঃ) এঁর আগমন নাও হয়, তবু যেনো বংশ পরম্পরায় এই চিঠির হেফাজত করা হয় এবং রাসুলের খেদমতে যেনো তা অবশ্যই পেশ করা হয়।

এভাবে ঐ চিঠিটি বংশ পরম্পরায় হেফাজত হতে হতে তা শেষ পর্যন্ত হযরত আয়ুব আনসারী (রঃ) এঁর নিকট এসে পৌছে। তিনি উক্ত চিঠিটি তার বিশ্বস্ত গোলাম আবু লাইলার নিকট হেফাজত করার জন্য রেখেছিলেন। যখন রাসুলে পাক (সাঃ) মক্কা শরীফ হতে মদিনা শরীফে হিজরত করেন, যখন তাঁর কাফেলা মক্কা শরীফের প্রান্ত সীমা অতিক্রম করে সানিয়তুল ঘাঁটি থেকে তাঁর উষ্ট্রি দৃষ্টি গোচর হলো, তখন সকল মদিনা বাসি মাহবুবে খোদা রাসুলে করিম (সাঃ) কে অভিবাদন জানালেন এবং সবাই রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে তাদের নিজ ঘরে তাশরীফ রাখার জন্য অনুরোধ করছিলেন।

এমতাবস্থায় রাসুলে খোদা বলেন, আমার উষ্ট্রির লাগাম ছেড়ে দাও। যেই ঘরের সামনে গিয়ে সে দাড়াবে ও বসে যাবে, সেই ঘরই হবে আমার অবস্থানের জায়গা। উল্লেথ্য যে, ইয়েমেনের বাদশাহ তুব্বে আউয়াল হোমাইরী যে ঘরটি রাসুলের জন্য তৈরী করেছিলেন, তা তখন হযরত আইয়ুব আনছারী(রাঃ) এর অধীনে ছিলো। উষ্ট্রিটি ঠিক সেই ঘরের সামনে গিয়েই দাড়িয়ে পড়ে। সবাই তখন আবু লাইলাকে বল্লো- ইয়েমেনের বাদশাহর সেই চিঠিটি হযরত রাসুলে খোদার নিকট পেশ করো। সে যখন চিঠিটি নিয়ে রাসুলে খোদার সামনে এলো, তখন রাসুলে খোদা (সাঃ) আবু লাইলাকে দেখে ফরমালেন তুমিই কি আবু লাইলা? এই কথায় আবু লাইলা আশ্চর্যান্বিত হয়ে গেলেন। রাসুলে খোদা পুনরায় ফরমালেন,আমি মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ, ইয়েমেনের বাদশাহর সেই চিঠিটা, যেটা তোমার হেফাজতে আছে, সেটি আমাকে দাও। অতঃপর উক্ত চিঠিটি পাঠ করে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, নেক বান্দা তুব্বে আউয়ালকে মোবারকবাদ!!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১১:২৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×