somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আম্মার যন্ত্রণা নাই, ঈদের সেই মজাও নাই (প্রবাসী কথন) !!

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল থেকেই আম্মার ডাকাডাকি । আম্মা উঠছি .. বলে ঘুম। হাতে ব্রাশ ধরিয়ে দিয়ে উঠ বাবা উঠ বলে আম্মার যন্ত্রণা শুরু। ব্রাশ হাতে নিয়ে আবার ঘুম। যত ঘুম ঈদের দিন সকালেই যে কেন হয় বুঝি না। চোখ মেলে তাকাতে পারি না। রান্নার ব্যস্ততা সেরে আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। নিজ হাতে গোসল করাবেন। ছেলে যে বড় হয়েছে , একটু যে লজ্জা হয়েছে, এসব তারে বলে লাভ নাই। শরীরের কোথাও কোনো ছেড়া কাটা দেখলে আর রক্ষে নাই। এটা কবে হয়েছে , কেন হয়েছে , আমাকে বলিস নি কেন ? গোসলের ফাঁকে চলতে থাকে মা ছেলের খুনসুটি। শ্যাম্পু কপাল বেয়ে চোখে এসে ভর করছে , আম্মা শরীর ধোয়া মোছার কাজ করেই যাচ্ছে , চোখ বন্ধ করে আমি স্ট্যাচুর মতো দাড়িয়ে থাকি। তার জমানো সব কথা গোসলের সময় বলতে থাকেন।

নাস্তা করার সময় শুরু হয় আবার যন্ত্রণা। তার প্রতিটা আইটেম খেতে হবে। নিজ হাতে খাবার শেষ করে আম্মার হাতের খাবার খেতে হবে। কোনো কিছুতে না করার উপায় নাই। নতুন পাঞ্জাবীর বোতাম লাগাতে কষ্ট হয় এটা জেনেই পাঞ্জাবি নিয়ে দাড়িয়ে থাকবেন। নিজ হাতে পাঞ্জাবি পড়াবেন ,বোতাম গুলো লাগিয়ে দিবেন। সূরমা দানী নিয়ে প্রস্তূত। শিশুদের কাজল দেয়ার মতো করে চোখে সূরমা দিবেন। কখনো মোটা হচ্ছে কখনো হালকা হচ্ছে , যতসময় না তার পছন্দ হচ্ছে ততবার মুছবেন আর দিবেন। সারা পাঞ্জাবীতে আতর লাগিয়ে দিবেন। একটুকরা তুলায় আতর নিয়ে কানে লাগিয়ে দিবেন।

আম্মারে সালাম করে সেলামি নিয়ে বাবার হাত ধরে ঈদ গাহের দিকে যাত্রা করার সময় আম্মাও আমাদের সাথে সাথে আসবেন বিদায় জানাতে।নামাজ শেষে বাসায় ফিরে দেখবো আমার স্মার্ট আম্মা নতুন শাড়ি পড়ে সেজে গুজে বাইরে দাড়িয়ে আছেন আমাদের বরণ করে নিতে। যেন কোনো যুদ্ধ জয় করে ফিরছি। সব মায়েদের গল্পই মোটামোটি একই রকম। আম্মাদের কাছে সন্তানেরা কখনই বড় হয় না। বড় হতে নেই। তাদের কাছে সারাজীবন ছোট হয়ে থাকতেই যে ভালো লাগে। প্রবাসী হওয়ার আগে এটাই ছিল আমার ঈদ রুটিন। এছাড়া আত্বীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডাবাজি তো আছেই। আজকে এসব শুধুই স্মৃতি। সব আছে তবু যেন কিছুই নেই। আছে নিজের প্রাণের মানুষগুলোর অনুপস্থিতি। কেমন জানি খুব অসহায় লাগে। কেউ প্রবাসী না হওয়া পর্যন্ত এ কষ্ট অনুভব করা সম্ভব না। আপন জনদের রেখে ঈদ করা যে কতটা কষ্টের, ব্যথাতুর এটা একমাত্র প্রবাসীরাই বুঝে।

প্রবাসে স্বদেশী মানেই সজ্জন। এক্ষেত্রে আমরা বাঙালিরা আরো এক ধাপ এগিয়ে। পরম প্রিয় মমতা দিয়ে আগলে রাখি। পরিচিত কাউকে ডেকে এনে না খাইয়ে গল্প গুজব না করে শান্তি নাই । এভাবেই ঈদের দিন দুঃখ-কষ্ট ভালবাসায় কেটে যায়। এ বারের ঈদে আগে থেকেই পাভেল ভাই বলে রাখছিলেন একসাথে নামাজ পড়তে যাব। নামাজ শেষে পাভেল ভাই আর শ্যায়ানের সাথে কুলাকুলি করে চারদিকে পরিচিত মুখ খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা। কোথাও কেউ নেই। বুক চিরে দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে ভাবলাম আমি তো ভিনদেশি। পাভেল ভাইয়ের বাসায় এসে সাবরিনা আপুর বানানো অসাধারণ নাস্তা খেয়ে, গল্পগুজব করে বাসায় ফিরছি। এখনো অনেক ভাই বোনের বাসায় যেতে হবে। ফাইন আপুর স্পেশাল রান্না বান্না তো রয়েছেই। মনে হচ্ছে দিনটা খুব একটা খারাপ যাবে না। এছাড়া ভার্চুয়াল খুদে বার্তার শুভেচ্ছা বিনিময় তো চলছেই। ফিকে অনুভূতিকে একটু জলরং দিয়ে রঙিন করার চেষ্টা। শুধু ভয় আম্মার ফোন নিয়ে। যত কম কথা বলা যায় ততই ভালো। সকালে ৩০ সেকেন্ডে কথা বলে শেষ করেছি। বেশি কথা বললে সেও কাঁদবে আমাকেও কাঁদাবে।

দোয়া করি ঈদ সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা আর অনেক অনেক শুভ কামনা !!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৪৬
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিদায় বন্ধু

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ইফতার করে আজ সন্ধ্যের দিকে একটু হাটতে আর চা খেতে বের হয়েছিলাম। বিগত কয়েকদিনের মতোই গিয়ে দেখি চায়ের রেস্টুরেন্ট আজও বন্ধ। উপায় না দেখে ছোট একটা দোকান থেকে মেশিনে তৈরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১২

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সত্যতা কতটুকু ?
সাধারণ মানুষ জানতে চায় !




বাংলাদেশ কি বিক্রি হচ্ছে ডা*র্ক ওয়েবে ?
Redlineinvestigation নামে ডা*র্ক ওয়েবের কেবল ফাইলে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ফাঁস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান বনাম ইজরাইল আমেরিকা যুদ্ধ; কার কি লাভ?

লিখেছেন খাঁজা বাবা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



২০০৬ থেকে আহমাদিনেজাদ ইজরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে, আমেরিকা ২০০২ থেকে ইরানে হামলার প্ল্যান করছে, নেতানিয়াহু ৪০ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন ইরানে হামলা করার। তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯


দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার হারিয়ে যাবার গল্প

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।

তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×