''ঠাই নাই, ঠাই নাই ছোট সে তরী আমারি সোনার ধানে গিয়াছে ভরি''
রবীন্দ্রনাথ সোনার ধানে তরী ভর্তি হতে দেখেছিলেন আর আমরা শাইখ সিরাজের অনুষ্ঠানে দেখি তরী ভর্তি মানুষের বসবাস। পটুয়াখালীর চর মোন্তাজের সেইসব সংগ্রামী মানুষের জীবনচিত্র তুলে ধরার জন্য শাইখ সিরাজকে অভিনন্দন জানাই। আশা করি সরকার এই অসহায় মানুষদের অল্প কিছু খাসজমি দিয়ে সাহায্য করবে।
মূল প্রসঙ্গে আসি। আমাদের দেশে জমির তুলনায় মানুষের সংখ্যা অনেক বেশী। ঢাকার কিছু কিছু এলাকায় প্রতি বর্গ কি.মি.তে ২ লাখেরও বেশী লোক বসবাস করছে যেমন(লালবাগ, সূত্রাপুর, খিলগাও, মালিবাগ, আজিমপুর, যাত্রাবাড়ী)। এইসব এলাকার জনগণ খোলা জায়গা, প্রশস্ত রাস্তা, পর্যাপ্ত মাঠ, ময়লা ফেলার স্থান, বিনোদন কেন্দ্র, হাটার জায়গা থেকে বঞ্চিত। এটি সৃষ্টি করছে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা এবং এলাকার পরিবেশকে করছে দূষিত।

বাংলাদেশের মত বিপুল ঘনবসতিপূর্ণ কয়েকটি দেশ হচ্ছে জাপান, সিংগাপুর, হংকং, থাইল্যন্ড, ফিলিপাইন। এই দেশগুলো তাদের বিপুল জনসাধারণকে যেমন আবাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে তেমনি পরিকল্পিত ফুটপাথ, গাড়ি পার্কিং এরিয়া, রাস্তা, পার্ক, খেলার মাঠেরও ব্যবস্থ করেছে। ড্রেনেজ, বিদ্যুতের লাইন, পানির লাইন রক্ষণাবেক্ষণ সহজ করেছে। এটা সম্ভব হয়েছে তাদের বিজ্ঞানসম্মতভাবে ভূমির ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে।

এইসব দেশে হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের ব্যবহার যেমন দেখা যায় তা আমাদের দেশে নেই। একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি সহজ করা যাক। ২-২.৫ কাঠার ১০ টি প্লটে আলাদা বাড়ি বানানো হলে প্রত্যেকে আইন অনুযায়ী ৪-৫ তলার বেশী করতে পারেনা(আইন না মেনে অনেকে ৮ তলাও বাড়ি বানাচ্ছে যেটা স্থাপনাকে মারাত্মক ঝুকির মধ্যে ফেলছে)। চারপাশে জায়গা ছাড়ার পর ফ্ল্যাটের সাইজ ছোট ছোট করে প্রতি বিল্ডিং এ ১০ টা করে সর্বোচ্চ ১০০ টি ফ্ল্যাট হবে এবং বাসিন্দারা খোলামেলা জায়গা থেকে বঞ্চিত হবে। অথচ সমন্বিতভাবে ২০-২৫ কাঠার উপর ৪০% জায়গা খালি রাখার পরও অনায়াসে ১৬-২০ তলা বাড়ি নির্মাণ করা যায় যেখানে ১৪০-১৬০ টি ফ্ল্যাট বানানো যাবে।খালি জায়গাটি শিশুদের খেলার মাঠ, বাগান, ক্লোজড ডাস্টবিন, সুয়্যারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের সুযোগ থাকে।
তবে এটা ঠিক বেসরকারী ভাবে ৮-১০ জন মানুষকে একত্রিত করে সেখানে হাইরাইজ বিল্ডিং বানানো একটি জটিল কাজ। কারণ
• জমির মালিকানা নিয়ে সমস্যা থাকে
• নিজেদের পছন্দ নিয়ে মতবিরোধ থাকে
• একই সময় সবার হাতে টাকা থাকে না
এই সমস্যা উত্তরনে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি
• ভূমি ব্যবহার আইন সংশোধন
• জমির মালিকদের সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদী লোন প্রদান
• পানি-বিদ্যুত-গ্যাস লাইন প্রাপ্তিতে সহযোগিতা
• হোল্ডিং ট্যাক্সে বিশেষ ছাড়
প্রভৃতি দিতে হবে। ভূমিস্বল্পতার কারণে আমাদের এই নীতী(হাইরাইজ বিল্ডিং) গ্রহণ করা ছাড়া উপায় নেই। তা না হলে বর্তমান ১৭ কোটি যা আগামী ৫০ বছরে ২৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে, সেই জনসংখ্যার বড় অংশকে গৃহের নিশ্চয়তা দেয়া যাবেনা।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



