somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কথার বাঁশি-৩০ (দাবা ও মন্ত্রী)

০৫ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৮:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলায় বাবার সাথে দাবা খেলতাম। অফিস থেকে এসেই বাবা বলতেন--"কই রে! বোর্ড পাতা, একদান খেলি!"। আমি হন্তদন্ত হয়ে বোর্ড সাজাতে বসতাম। সব গুটিই ঠিকঠাক সাজাতাম, কিন্তু মন্ত্রী আর রাজা'কে বসাতে গিয়ে প্রায়ই গরমিল হয়ে যেত। বাবা এসে ঠিক করে দিতেন। শুরু হত তুমুল লড়াই। খেলা কিছুদূর এগোতেই দেখা যেত আমার মন্ত্রী গায়েব। বাবা খেয়ে ফেলেছেন। মন্ত্রী হারিয়ে আমার কাজ হত খেলায় হেরে যাবার জন্য অপেক্ষা করা আর হেরে যাবার পর কেঁদে কেঁদে বাবাকে বলা--"বাবা, আরো একদান খেলব!!"। বাবা হাসিমুখে আবার খেলা শুরু করতেন। আমি পরিস্কার বুঝতে পারতাম-এবার তিনি আমাকে জেতানোর জন্য খেলছেন। আমার সবসময়ই লক্ষ্য থাকত কিভাবে বাবা'র মন্ত্রী খাবো!! মন্ত্রী খেলেই খেলা শেষ! নিশ্চিত জয়-কে ঠেকাবে? মন্ত্রীর ক্ষমতা সম্পর্কে আমার এমনই উচ্চ ধারণা হয়ে গিয়েছিল। সেই বয়সেই আমি জানতাম, মন্ত্রী'র আছে সবকিছু করার ক্ষমতা, যে কোনো জায়গায় যাবার ক্ষমতা।

দাবার বোর্ডে একপক্ষের একজন মন্ত্রী থাকে। আমাদের দেশের মন্ত্রী সংখ্যা অনেক। সবার হাতেই আলাউদ্দিনের একটা করে চেরাগ। সেই চেরাগ দিয়ে যা খুশি তাই করতে পারেন তারা। পত্র-পত্রিকায় দেখি মন্ত্রীরা না দেখে, না বুঝে ফাইল সই করে দিচ্ছেন! দেশের ভাল-মন্দ চিন্তা না করেই করে ফেলছেন নানা রকম চুক্তি। কিন্তু এমন তো হবার কথা ছিল না! আমাদের আশা--মন্ত্রীরা কোনো ফাইল সই বা চুক্তি করার আগে শতবার ভাববেন আর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে কাজগুলোর কথা ভুলে যাবেন না। তবেই না দেখা যাবে সোনালী দিনের সূচনা!

আমরা কেন পারব না!! আমরা যে কোনো দেশের মানুষের চেয়ে বেশি ভদ্র, বেশি আন্তরিক, বেশি সাহসী, বেশি কর্মঠ। আমাদেরও হাত আছে, আমরা যে কোনো কাজ সৎভাবে করতে পারি। আমাদের পা আছে, উন্নয়নের রাস্তায় আমরাও হেঁটে যেতে পারি অনেক অনেক দূর!! আমাদের চোখ আছে, এ চোখের সামনে কোনো অন্যায় আমরা হতে দেবো না! আমাদের কান আছে, আমরা শুনবো না আর কোনো হত্যা-নির্যাতনের কাহিনী।

মন্ত্রীরা আমাদের হয়ে মিথ্যা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়বেন। পক্ষপাত, অসততা নামের প্রতিপক্ষগুলো যেন আমাদের মন্ত্রীদের খেয়ে ফেলতে না পারে!!
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কথার বুলেট ছুড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ভাবতে তোমার দোষটা কোথায়?
ভেবে দেখো পাপ করোছো নাকি
সংসারে কেনো জাহান্নামে পুড়ো-
ভাবতে তোমার দোষটা কোথায়?

দোষটা তোমার নিজের ভুলগাড়ি
কেমনে চালাও ব্রেক ফেল হয় আড়ি
অহমিকার ভুলটা তোমার নয় কি
দোষটা তোমার নিজের ভুলগাড়ি।

এক্সিডেন্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরি - ১৯৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১২



আজ সকালে হোটেলে নাস্তা করেছি।
ইচ্ছা ছিলো ঘুম থেকে উঠবো ১২ টায়। কিন্তু এক ছাগলে অকারণে ফোন করে ঘুমটা নষ্ট করে দিয়েছে। রাতে যে মোবাইলের সাউন্ড বন্ধ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×