somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খাওয়া শেষে ৮টি কাজ করা থেকে বিরত থাকুন; সুস্থ জীবনের অধিকারী হোন

১০ ই মে, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খাওয়া শেষে ৮টি কাজ করা থেকে বিরত থাকুন; সুস্থ জীবনের অধিকারী হোন
.
.
আমরা জানি, অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি। কিন্তু স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে আপনি যদি নির্দিষ্ট কয়েকটি কাজ করেন, তাহলেও আপনি অসুস্থ হতে পারে
.
.
হ্যা, খাওয়ার পর এ ৮টি কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। আশা করা যায়, এতে আপনি সুস্থ ও সুন্দর জীবনের অধিকারী হবেন।
.
.
১। খাওয়া শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। খাওয়ার পরপরই ফল খাওয়ার অভ্যাস অনেকের আছে। কিন্তু এটি ভালো অভ্যাস নয়। খাবার আমাদের পেটে যাওয়ার পর একটা নির্দিষ্ট সময় পর হজম হয়। এখন আপনি যদি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার ফলমূলও খান, তবে পাকস্থলির ওপর না-হক চাপ পড়বে। তাতে আগে খাওয়া খাবারও ঠিকমতো হজম হবে না এবং পরে খাওয়া ফলের প্রতি সুবিচার করা হবে না। আপনি যদি এ কাজ দীর্ঘকাল ধরে চালিয়ে যান, তবে পেট ব্যথা, উদরাময় ও কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত হতে পারেন।
.
.
২। খাওয়ার পরপরই চা পান করা
থেকে বিরত থাকুন। আমি জানি, এ অভ্যাসও অনেকের আছে। কিন্তু এটা ভালো অভ্যাস নয়। চা অনেকেরই প্রিয়। বাংলাদেশের চা খেতেও অনেক ভালো। কিন্তু খাওয়ার পরপরই চা খাওয়া ঠিক নয়। কারণ, চা খেলে তা আপনার পাচকরসকে পাতলা করে দেবে এবং তার কার্যকারিতা কমিয়ে দেবে। এ ছাড়া, চা-এর মধ্যে প্রচুর অ্যাসিডিক উপাদান থাকে, যা প্রোটিন জাতীয় খাবার হজমে বাধা সৃষ্টি করে। খাওয়ার পরপরই যাদের চা খাওয়ার অভ্যাস তাদের রক্তস্বল্পতা রোগে আক্রান্ত হবার ভয় আছে। অতএব খাওয়ার পরপরই নয়, বরং বেশ খানিকটা সময় পর চা খান।
.
.
৩। খাওয়ার পরপরই ধূমপান করবেন না। হ্যাঁ, ধূমপান শরীরের মাথা থেকে পা পর্যন্ত এমন কোনো অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ নেই যার ক্ষতি করে না। তারপরও যারা ধূমপান করেন, তাদের জন্য বলি, খাওয়ার পরপরই ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। কারণ, খাওয়ার পরপরই ধূমপান করা অন্য সময়ে ধূমপান করার চেয়ে ১০ গুণ বেশি ক্ষতির কারণ হবে। কারণ খাওয়ার পর আমাদের পরিপাকপ্রণালীতে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এ সময় আপনি ধুমপান করলে, তামাকে বিষাক্ত উপাদানগুলো আরও শরীরের আরও বেশি ক্ষতি করবে। এসময় ধূমপান আমাদের লিভার, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, হার্ট ইত্যাদির মারাত্মক ক্ষতির
কারণ হতে পারে।
.
.
৪। খাওয়ার পরপর গোসল করা থেকে বিরত থাকুন। এটি একটি খারাপ অভ্যাস। অনেকেই খাওয়ার পরপরই গোসল করে নেন। কিন্তু এটা ঠিক না। খাওয়ার পরপরই গোসল করলে শরীরে রক্তপ্রবাহের পরিমাণ বেড়ে যায় আর পরিপাকপ্রণালীর রক্তপ্রবাহের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কমে যায়। এতে আপনার হজমক্ষমতা কমে যাবে। এ অভ্যাস ত্যাগ না-করলে আপনি অজীর্ণ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
.
.
৫। খাওয়ার পরপরই কোমরের বেল্ট খুলবেন না। আমি জানি এতে আরাম বোধ হয়। বিশেষ করে একটু বেশি খেয়ে ফেললে তখন খাওয়ার পর বেল্ট খুলে ফেললে ভালোই লাগে। কিন্তু এটা ঠিক নয়। খাওয়ার পর পেট ফুলে যে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, তা বেল্টের ওপর দিয়েই যেতে দিন। পেটের চামড়াকে রেহাই দিন। তা না হলে আপনি Gastroptosis রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
.
.
৬। খাওয়ার পরপরই হাটাহাটি শুরু করা উচিত নয়। হ্যা, এটা ঠিক যে খাওয়ার পর হাটা ভালো। কিন্তু এ হাটার কাজ শুরু করতে হবে খাওয়ার খানিকটা পর, সাথে সাথে নয়। খাওয়ার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর হাটাহাটি করুন, কোনো সমস্যা নেই। সাথে সাথে হাটা শুরু করলে আপনার হজম- প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে, যে পুষ্টিকর খাবার আপনি খেয়েছেন, তার সুফল আপনি পুরোপুরি পাবেন না। অনেক সময় এতে বরং ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য এ অভ্যাস বেশি খারাপ। তারা হৃদরোগ বা রক্তনালীর সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন।
.
.
৭। খাওয়ার পরপরই গান গাওয়া ঠিক নয়। অনেকে পার্টিতে গান গাইতে পছন্দ করেন। কিন্তু এটা যেন খাওয়ার পরপরই না হয়। হয় খাওয়ার আগে গান গেয়ে শুনিয়ে দিন বন্ধুদের, নতুবা খাওয়ার খানিকটা সময় পর গান গাইতে মঞ্চে উঠুন। কারণ, খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গান গাইতে শুরু করলে, আপনার পেটের ওপর না-হক চাপ পড়বে। বেশিদিন এ অভ্যাস থাকলে আপনি অজীর্ণ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। অতএব সাবধান।
.
.
৮। খাওয়ার পরপরই গাড়ি চালানো শুরু করবেন না। আমরা শুনেছি, অনেকেই খাওয়ার পরপরই গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। আসলে খাবার হজম করার জন্য শরীরের পরিপাকতন্ত্রে পর্যাপ্ত রক্তের সরবরাহ থাকা চাই। এতে মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় অন্য যে কোনো কাজ করাই স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। বিশেষ করে গাড়ি চালাতে আমাদের বেশ শারীরিক ও মানসিক শক্তি ব্যয় করতে হয়। গাড়ি চালানো সময় আমাদের মস্কিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালন থাকা জরুরি। কিন্তু খাবার গ্রহণের পর তা পাওয়া যায় না। অতএব খাবার গ্রহণের পরপরই গাড়ি চালাবেন না।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×