সাধারণত আমি স্বপ্ন মনে রাখতে পারি না। মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেলে শুধু সেই সময়টার জন্য মনে থাকে আবার ঘুমালে কি দেখছিলাম ভুলে যাই। মাঝরাতে ঘুম ভাঙলে মাঝে মাঝে মনে হয় যে ইনটারেষ্টিং স্বপ্ন, মনে রাখতে হবে। সকালে খালি মনে থাকে যে একটা ইনটারেষ্টিং স্বপ্ন দেখেছিলাম।
আজকে অফিস ছিল, কিন্তু যাই নাই। আদিব ছুটি নিল ওয়ালড কাপ দেখবে তাই। আর ভোর বেলায় এমন বৃষ্টি হচ্ছিল যে এর মধ্যে বাস ধরতে ইচ্ছা হলো না। ও খেলা দেখলো আর আমি সোফায় ঘুমালাম আর তখনই স্বপ্নটা দেখলাম...
ভাই আর বোন সন্ধ্যার দিকে একটা শহরে আসছে, বোন এক বাড়ীতে থাকবে, ভাই আরেক বাড়ীতে। শহরটা কোন মফঃস্বল ও হতে পারে, কারণ রাস্তায় ভীড় ছিল না। চারপাশে দোকান পাট ছিল বোধহয় কিছু, একটু শীতও ছিল, বোনটা একটা ওড়না দিয়ে কান মাথা ঢেকে ছিল, কিংবা ছিল না।
শহরটা ছম ছম করতেছে কিছুটা। ওরা টের পাচ্ছিল কিনা জানি না, কিন্তু আমার ভয় ভয় লাগতেছিল। বোনটা একটা ফ্ল্যাটের একটা ঘরে গেল, ওর বান্ধবীর বাসা। সু্যটকেস খুলতেছে এমন সময় একটা বুড়ি আসলো ঘরে। বান্ধবীর শাশুড়ীও হতে পারে। ব্যাকগ্রাউন্ডে আরো কিছু মানুষ ছিল, কে ছিল মনে নাই।
বুড়ি অনেক প্রশ্ন করলো বোন কে। একটার পরে একটা। উত্তর শেষ করার আগেই নতুন একটা প্রশ্ন করছিল। প্রশ্নগুলি ঠিক কি কি ছিল মনে পড়তেছে না, কিন্তু সবই বোনের পরিচয় বিষয়ে ছিল। বুড়ি বুঝতে চেষ্টা করছিল যে বোন কোন দেশী। জার্মান হলে মেরে ফেলবে এইরকম ভাবতেছিল বুড়ি। বোন একটার পরে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতেছিল না থামতে পেরে আর একদম নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না।
হঠাৎ ভাই টা রাস্তা পার হতে থাকে। আর বোনটা ভাইয়ের পিছনে। তখনও সন্ধ্যা। বুড়ি হঠাৎ কই থেকে এসে ভাইকে বলে যে সে ওর বাসায় থাকতে পারবে কিনা। বুড়ির শাড়ী আর শালটা বাতাসে দুলতে থাকে আর বোন ভয় পায় পেছন থেকে। বুড়ি ততক্ষণে ভাইকে বলতেছে যে তার থাকার কোন জায়গা নাই, চার মেয়ে আছে আর দুই ছেলে। কিন্তু সবার বাসায় খুব ভীড়। বুড়ি একটা বাসায় ছিল, ওইখানে দ'য়ের মত বসে থাকতে হয়। আর ভালো লাগতেছিল না তাই ভাইয়ের বাসায় থাকবে।
বোন বললো - কিন্তু উনি তো বুড়া মানুষ, তুই কি তার দেখাশোনা করতে পারবি? যদি তুই মারা যাস?
এই কথা শুনে ভাই খুব রাগ করলো, ওর মুখটা কেমন ছাই ছাই হয়ে যাচ্ছিল। আর যখন মুখ হা করলো, কিছু বলবে বলে হয়তো, তখন মুখের ভিতরে দাঁত দেখা যাচ্ছিল, আর মাঝখানে কালো কালো দাগ, ভিতরেও কালো।
ভাই হাসলো। বুড়ি হাসলো। বোন হাসলো।
বুড়ি বলো - এইটা কেমন কথা, young ছেলে মারা যাবে কেন?
ভাই বললো আমার সাথে থাইকেন।
পরের দৃশ্য। ভাইয়ের বাসার বাগানে একটা নৌকা আছে। নৌকার মধ্যে বোন শুয়ে আছে। এক পাশে ভাই, অন্য পাশে বুড়ী বসছে। বাগানের মাটি ভেজা ভেজা। বৃষ্টি ছিল বোধহয় একটু আগে। ঘাস আছে, কিন্তু কিছু কিছু যায়গায় মাটি দেখা যাচ্ছে। নৌকার ভিতরে শীত শীত ভাব। বুড়ী একটা কালো শাল গায় দিয়ে আছে। মুখটা সাদা সাদা।
পাশের বাড়ীতে বাগান বিলাস আছে। তার পাতা অনেক বড় বড়। বাড়ির টিনের চালের উপর থেকে দেখা যায়। ফুলগুলি কি রং মনে নাই, কিন্তু বাগানবিলাস ছিল।
তখনও গোধুলী। বোনটা চোখ বন্ধ করে আছে আর একটু একটু খুলতেছে।
বুড়ি টা ভাইকে সেই আগের মত প্রশ্ন করতেছে। একটার পর একটা। ভাইটা প্রত্যেক প্রশ্নের সাথে সাথে কপাল কুঁচকায়ে ফেলে হাসতেছে একটু একটু । আর বারে বারে ওর দাঁত দেখা যাচ্ছে। বোনটা চোখ বন্ধ করে আছে, কিন্তু আমি দাঁত দেখতেছি। একটু মাড়িও। ভাইটা উত্তর দিলো সব প্রশ্নের। বললো ওর বাবা হারে কৃষ্ণা (স্বপ্নে এইটা একটা জাতি)। বোনটা ভয় পাচ্ছে। ও বুড়ি কে বলছিল ওদের পদবী - হানসবারগার। বুড়ি নাকি মেরে ফেলবে, জার্মান হয় যদি।
বাগানবিলাসে একটা সাপ দেখা যায়।
বুড়ি বলে - আচ্ছা লিলি স্নেক কি বিষাক্ত?
ভাইটা বলে - না
আর ডরি স্নেক?
ভাই বলে - না
বোন ভাবে, এইগুলা কি সাপ? ঢোঁড়া? মেয়েটার ভয় করতে থাকে। সে হঠাৎ খুব ছটফট করে আর ভাই এবং বুড়িকে জোর করতে থাকে ঘরের ভিতরে যাওয়ার জন্য।
বলে, চলো ভিতরে যাই, এইখানে সাপ...
আর, ওরা দুইজন হাসতে থাকে...
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১১ রাত ১০:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




