ইস! কি করে রেখেছে বাথরুমের অবস্থা! কে যেন ফ্লাশ করতে ভুলে যায়। দেখলেই কেমন গা গুলিয়ে ওঠে। তবুও আজ অন্যরকম, আজ আমি বাড়ি যাচ্ছি।
বাসে যেতে যেতে সায়নকে মনে পড়লো আবার। জানি শেষ পর্যন্ত আবার একাকী। কি যেন কি হলো, সুর কেটে গেছে কোথায় যেন। স্বপ্নগুলো দূরের মনে হয়, ছোঁয়ার বাইরে। ওদেরকে কাছে ডেকে নিয়ে হারিয়ে যেতে পারি না আর তেমন করে।
সেদিন পুরানো কাগজ ঘাটতে ঘাটতে অনেকদিন আগে সায়নকে লেখা চিঠি পেলাম। এরকম কত চিঠি লিখতাম ওকে! পাঠানো হতো না। কেন যে চিঠিটা সাথে নিয়ে ঘুরছি। ...'কিছুক্ষন আগে স্বপ্ন দেখছিলাম, যদি আমার পাশে তুই থাকতি আর আমি তোর কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে। তোর ভেতর এমন হারিয়ে থাকতাম যে সময় কিভাবে চলে যেত টেরই পেতাম না। তোর সাথে দিনগুলি এরকমই কাটবে আমি জানি। প্রতিটি দিনকে মনে হবে নতুন, প্রতিটি মুহুর্তকে মনে হবে আনন্দের জন্যই তৈরী। এখনও আমি তোর মধ্যেই ডুবে আছি, তবে এ অন্য রকম ডুবে থাকা। এর মধ্যে ব্যবধানের কষ্ট আছে। স্বপ্নের অসুবিধাটা কোথায় জানিস? যদিও স্বপ্নে সব না পাওয়াকেই পাওয়া যায়, তবুও স্বপ্ন ভেঙে গেলে বাস্তবকে আরও রঙহীন, অপ্রয়োজনীয় আর কষ্টকর মনে হয়..'
সায়ন! আজ কেন আমি স্বপ্ন দেখি না! এখন তারাভর্তি বিশাল আকাশের নীচে দাঁড়ালে আর চুলের উপর তোর নিঃশ্বাস টের পাই না। আর মনে হয় না চোখ তুললেই চোখ পড়বে তোর চোখে। বরং এই বিশালত্বের নিচে দাঁড়িয়ে নিজেকে আরও একাকী মনে হয় আর কি প্রচন্ড প্রানহীন!
বারে বারে বুঝতে পারি আমার সমস্ত পাওয়া অঞ্জলিবদ্ধ পানির মতই। যত বেশী করে তাদের আঁকড়ে ধরতে যাই তত তারা গড়িয়ে পড়ে আমার আঙুল বেয়ে। আর আমি থাকি যেমন ছিলাম, ভিড়ের ভেতর একলা।
বড্ড মনে পড়ে যায় ইদানিং, সায়নকে বলতাম -
- এই কুত্তা! তোকে আমি ভালোবাসিতো!
- ছি ছি বাবু! তোর আব্বা আম্মা তোকে প্রেম করাও শেখায়নি?
নিজের মনে হেসে ফেলেই পাশের জনের অবাক চাউনিতে সচেতন হয়ে বসি। জানালায় দেখি বিকাল গড়ায় সন্ধ্যার দিকে।
প্রকাশ: পরবাস
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


