somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: অচেনা: 4র্থ পর্ব

২৫ শে জুলাই, ২০০৬ ভোর ৪:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাতাসে কেমন একটা হালকা শান্তিময় বিষন্নতা । যার ভেতর নিজেকে হারিয়ে ফেলা যায় অনায়াসে। ক্লান্ত লাগে না আর। কোন এক অদৃশ্য, অশ্রুত ছন্দময়ের ছন্দে পা ফেলি ধীরে ধীরে। রাস্তায় মাঝেমাঝেই কেউ কেউ বসে বসে হারমোনিকা, গিটার অথবা ব্যাগপাইপ বাজাচ্ছে, সামনে ধরে থাকা টুপি...। আরেকটা দিন, মেলবোর্নের প্রতিদিনকার মতই। তবুও অন্যরকম লাগে। হয়তো আজ নতুন কিছু আছে যা কাল ছিল না, অথবা আজ হয়তো কোন একটা কিছু নেই যা কাল পর্যন্তও ছিল। পাশেই কোথাও থেকে গান ভেসে আসছে...


Another day another dream but it's still you
like a vision of dream that seems to be true

আজকের এই বিষন্ন পরিবেশে সুরটা বেমানান। তবুও আশ্চর্যভাবে মিলে যাচ্ছে সবকিছুর সাথে। এই গানটা সায়ন আমাকে একবার টেলিফোনে শুনিয়েছিল। সায়ন! না থেকেও এত বেশী কাছে!

শেষের দিকে ও আর আমার সাথে কথা বলতে চাইতোনা। কোন না কোন ছুতায় ফোন রেখে দিত ঠিক। তখন আগের সায়নের সাথে ওকে মেলাতে পারতাম না। এক সময় আমরা কথা বলে সারারাত্রি পার করেছি। এক সময়ের সায়ন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো কখন আমি তার কাছে যাব। আজ ওর সব কথা ফুরিয়ে গেছে, আমাকে বলার মতন আর কিছু নেই। আর কষ্ট পাই না আমি, ধরে রাখার চেষ্টাও করি না । আমার সে শক্তি নেই।

ভাবতে বড় অবাক লাগে মাঝেমাঝে। কতটা পথ চলে এসেছি এভাবে হাঁটতে হাঁটতেই তো। চারদিকে গত জন্মের কোন সৌরভ মিশে আছে। অনেক ছোটবেলায় হালকা কুয়াশাঘেরা সকালে আব্বার হাত ধরে শিউলি কুড়াতে বের হতাম। নিজেকে যে কি প্রচন্ড সুখী আর নিরাপদ মনে হতো সে সময়। সেই প্রচন্ড শীতের মধ্যেও আব্বার হাতটা সবসময় গরম থাকতো। অন্যরকম একটা অনুভুতিতে মনটা ভরে যেত, তখন বুঝতাম না, এখন জানি, তার নাম পরিপূর্ণতা। তখন সুখের কাঙাল ছিলাম না। একটু আনন্দের জন্য ঘুরে বেড়াতাম না বিশ্বময়। তাই তারা আমাকে ঘিরে থাকতো। ছোট ছোট আনন্দের শূণ্যতাহীন মুহুর্ত। হাতের মুঠোয় ধরে রাখা সাদা কমলায় মেলানো অদ্ভুত রঙের শিউলি ফুল, শূণ্য হাতের পাতায়ও রেখে যায় মিষ্টি কোন সেীরভ। তাতে শূণ্যতাই আরো তীব্র হয়ে বাজে। আনন্দের সুরও আমার কানে ধরা দেয় বিষন্নতার আর্তি নিয়ে।

প্রকাশ: পরবাস
ছবি: সাহিদুর রহমান
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেইস

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ২:০৯


এরা সাড়ে তিনফুট থেকে চারফুট দীর্ঘ,ছোট খাটো,পাতলা গড়ন বিশিষ্ট। চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়,ত্বক ছাই বর্ণের,অমসৃণ এবং কুঁচকানো। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। পুরোই... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। ভাড়াটে খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×