- এইতা কে লে! ইতিস পিতিস পুতুস পাতুস নাকি লে?
আমি হেসে ফেলতেই ও হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমার গাল টিপে দিল। আমার খুব ভাল লাগছিল, কারণ ইরা কে এইরকম খুশীমনে দেখতে পাওয়া ইদানিং বিরল সব ঘটনার একটি। নিজের চারপাশে ধীরে ধীরে কেমন এক দেয়াল তৈরী করে ফেলছে ও। সে না চাইলে তাকে ভেদ করে ওর মন স্পর্শ করা প্রায় অসম্ভব।
ও হয়তো জানে তাকে আমি প্রচন্ডরকম ভালোবাসি। বুঝতে পারার কথাই তো। কারণ ভালোবাসা কোন না কোন ভাবে তো অনুভব করাই যায়। কিন্তু বেশীর ভাগ সময়েই ও আমার ছোঁয়ার বাইরের মানুষ হয়ে থাকে। ওর মনে সব সময়েই কোন না কোন চিন্তা চলতে থাকে। কী যে এত ভাবে সারাক্ষণ আমি অনেক চেষ্টা করেও বুঝতে পারি না।
বেশীর ভাগ সময়েই সে তার নিজের ঘরে ব্যস্ত থাকে, কেউ ঘরে ঢুকলে বিরক্তভাবে তাকায়। বন্ধুরা মজা করে ওর ঘরের নাম দিয়েছে 'গুহা', আর ও হলো সন্যাসী উপগুপ্ত। উপগুপ্ত কারণ এখনও মাঝে মাঝে গুহার ভেতর থেকে মাথা বের করে চারপাশের জীবনধারা লক্ষ্য করে। যেদিন থেকে আর এটুকুও করবেনা, সেদিন উপগুপ্তর জায়গায় নাম হবে পুরাগুপ্ত।
- আব্বা আম্মা কই?
- বাজারে গেছে,
ইলা বললো - তোমার দেশ পত্রিকা এসেছে।
ইরা বললেঅ - হুম। তোমার সুনীর বুইড়্যার কবিতাও আছে একটা।
- এই খবরদার! সুনীলের নামে উলটা পালটা কথা বলবি না!
ওরা দুইজন সমস্বরে বলা শুরু করলো - সুনীল কিছুই পারে না, ওর কবিতা কিছুই হয় না। বুইড়্যা ব্যাটা কি সব ন্যাকা ন্যাকা কবিতা লেখে!
- ওই, চুপ কর কইলাম! সুনীর মোটেও ন্যাকা ন্যাকা কবিতা লেখে না।
- লেখেই তো, আর কবিতার মধ্যে গালাগালি দেয় এইটাই বা কেমন অভ্যাস?
- কোন কবিতায় গালাগালি দিল আবার?
ইরা বললো - ওই যে
সাধ ছিল তো সকাল বেলার শুভ্র মানুষ হবো,
তবু ভেতরে ভেতরে এক শুয়োরের বাচ্চা...
- ধুর! তুমি এক কবিতার সাথে আরেকটা জোড়া দিছো।
- সেইটা না হয় দিলাম। কিন্তু আসল কথা হলো শুয়োরের বাচ্চা। বলো has he used this word or not?
- তা করেছে। কবিতায় গালাগালি অবশ্য আমারও একটু কেমন জানি লাগে। মানে কবিতায় যে কোন অনুভুতিই সাবলীল আর জোড়ালো ভাবে প্রকাশ করতে পারা উচিৎ। এখন একেকজনের প্রকাশ ভঙ্গি তো একেকরকম। কারো যদি মনে হয় যে গালিটাই সবচেয়ে যুৎসই শব্দ কোন একটা লাইনে, তাইলে তো গালি দিতেই পারে।
- কেন রবীন্দ্রনাথ জোরালো ভাবে মত প্রকাশ করে নাই? উনি তো গালি দেয় নাই।
- আহা, এর মধ্যে বেচারা রবীন্দ্রনাথ কই থেকে আসলো। the two aren't even comparable! দুইজনের প্রকাশ ভঙ্গিই তো আলাদা। সবাই রবীন্দ্রনাথ হইলে সুনীল হবে কে? তবে ওইটা আলাদা তর্ক। আমার পয়েন্ট হলো সুনীল ট্র্যাশ লিখে না। কবিতা তাই, যা মনকে ছুঁয়ে যায়, and his surely does.
'দেশ' এর পাতা উলটাতে উলটাতে সুনীলবাবুর কবিতা বের করলাম - ইয়াল্লাহ! দেখ দেখ! এই দুই লাইন আমাকে নিয়ে লেখা!
- কোন দুই লাইন? ওরা ঝুঁকে পরে
- একটি পাখির শিষ মাঝেমাঝে শুনি
কোনদিন দেখাও হবে না।
উফ! ইতি আপা! তুমি যে কোন দুনিয়ায় থাকো! ওই বুড়ার তো খাইয়া দাইয়া কাজ নাই, তোমারে নিয়া কবিতা লিখবে, না?
- যাই বলো না কেন, এই কবিতা আমাকে নিয়েই লেখা।
প্রকাশ: পরবাস
ছবি: সাহিদুর রহমান
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


