somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: অচেনা: 5ম পর্ব

২৬ শে জুলাই, ২০০৬ ভোর ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘরের ভেতরের এক অন্য ধরনের উষ্ণতা তার দুহাত মেলে ধরা আলিঙ্গনে আমাকে স্বাগত জানালো। আমি আমার এতক্ষণের একলা পথের সঙ্গী বিষন্নতাকে দরজার বাইরে বিদায় জানিয়ে ভিতরের দিকে পা বাড়ালাম। ইরা, ইলা বসার ঘরে বসে হিন্দী গান দেখছিল ভিসিআর এ। আমি ঢুকতেই ইরা শিশুর মত সুন্দর হাসিতে মুখ ভরিয়ে ফেলে চোখ গোল গোল করে বললো -

- এইতা কে লে! ইতিস পিতিস পুতুস পাতুস নাকি লে?

আমি হেসে ফেলতেই ও হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমার গাল টিপে দিল। আমার খুব ভাল লাগছিল, কারণ ইরা কে এইরকম খুশীমনে দেখতে পাওয়া ইদানিং বিরল সব ঘটনার একটি। নিজের চারপাশে ধীরে ধীরে কেমন এক দেয়াল তৈরী করে ফেলছে ও। সে না চাইলে তাকে ভেদ করে ওর মন স্পর্শ করা প্রায় অসম্ভব।

ও হয়তো জানে তাকে আমি প্রচন্ডরকম ভালোবাসি। বুঝতে পারার কথাই তো। কারণ ভালোবাসা কোন না কোন ভাবে তো অনুভব করাই যায়। কিন্তু বেশীর ভাগ সময়েই ও আমার ছোঁয়ার বাইরের মানুষ হয়ে থাকে। ওর মনে সব সময়েই কোন না কোন চিন্তা চলতে থাকে। কী যে এত ভাবে সারাক্ষণ আমি অনেক চেষ্টা করেও বুঝতে পারি না।

বেশীর ভাগ সময়েই সে তার নিজের ঘরে ব্যস্ত থাকে, কেউ ঘরে ঢুকলে বিরক্তভাবে তাকায়। বন্ধুরা মজা করে ওর ঘরের নাম দিয়েছে 'গুহা', আর ও হলো সন্যাসী উপগুপ্ত। উপগুপ্ত কারণ এখনও মাঝে মাঝে গুহার ভেতর থেকে মাথা বের করে চারপাশের জীবনধারা লক্ষ্য করে। যেদিন থেকে আর এটুকুও করবেনা, সেদিন উপগুপ্তর জায়গায় নাম হবে পুরাগুপ্ত।

- আব্বা আম্মা কই?

- বাজারে গেছে,

ইলা বললো - তোমার দেশ পত্রিকা এসেছে।

ইরা বললেঅ - হুম। তোমার সুনীর বুইড়্যার কবিতাও আছে একটা।

- এই খবরদার! সুনীলের নামে উলটা পালটা কথা বলবি না!

ওরা দুইজন সমস্বরে বলা শুরু করলো - সুনীল কিছুই পারে না, ওর কবিতা কিছুই হয় না। বুইড়্যা ব্যাটা কি সব ন্যাকা ন্যাকা কবিতা লেখে!

- ওই, চুপ কর কইলাম! সুনীর মোটেও ন্যাকা ন্যাকা কবিতা লেখে না।

- লেখেই তো, আর কবিতার মধ্যে গালাগালি দেয় এইটাই বা কেমন অভ্যাস?

- কোন কবিতায় গালাগালি দিল আবার?

ইরা বললো - ওই যে
সাধ ছিল তো সকাল বেলার শুভ্র মানুষ হবো,
তবু ভেতরে ভেতরে এক শুয়োরের বাচ্চা...

- ধুর! তুমি এক কবিতার সাথে আরেকটা জোড়া দিছো।

- সেইটা না হয় দিলাম। কিন্তু আসল কথা হলো শুয়োরের বাচ্চা। বলো has he used this word or not?

- তা করেছে। কবিতায় গালাগালি অবশ্য আমারও একটু কেমন জানি লাগে। মানে কবিতায় যে কোন অনুভুতিই সাবলীল আর জোড়ালো ভাবে প্রকাশ করতে পারা উচিৎ। এখন একেকজনের প্রকাশ ভঙ্গি তো একেকরকম। কারো যদি মনে হয় যে গালিটাই সবচেয়ে যুৎসই শব্দ কোন একটা লাইনে, তাইলে তো গালি দিতেই পারে।

- কেন রবীন্দ্রনাথ জোরালো ভাবে মত প্রকাশ করে নাই? উনি তো গালি দেয় নাই।

- আহা, এর মধ্যে বেচারা রবীন্দ্রনাথ কই থেকে আসলো। the two aren't even comparable! দুইজনের প্রকাশ ভঙ্গিই তো আলাদা। সবাই রবীন্দ্রনাথ হইলে সুনীল হবে কে? তবে ওইটা আলাদা তর্ক। আমার পয়েন্ট হলো সুনীল ট্র্যাশ লিখে না। কবিতা তাই, যা মনকে ছুঁয়ে যায়, and his surely does.

'দেশ' এর পাতা উলটাতে উলটাতে সুনীলবাবুর কবিতা বের করলাম - ইয়াল্লাহ! দেখ দেখ! এই দুই লাইন আমাকে নিয়ে লেখা!

- কোন দুই লাইন? ওরা ঝুঁকে পরে

- একটি পাখির শিষ মাঝেমাঝে শুনি
কোনদিন দেখাও হবে না।

উফ! ইতি আপা! তুমি যে কোন দুনিয়ায় থাকো! ওই বুড়ার তো খাইয়া দাইয়া কাজ নাই, তোমারে নিয়া কবিতা লিখবে, না?

- যাই বলো না কেন, এই কবিতা আমাকে নিয়েই লেখা।

প্রকাশ: পরবাস
ছবি: সাহিদুর রহমান

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেইস

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ২:০৯


এরা সাড়ে তিনফুট থেকে চারফুট দীর্ঘ,ছোট খাটো,পাতলা গড়ন বিশিষ্ট। চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়,ত্বক ছাই বর্ণের,অমসৃণ এবং কুঁচকানো। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। পুরোই... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। ভাড়াটে খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×