somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: অচেনা: 6ষ্ঠ পর্ব

২৯ শে জুলাই, ২০০৬ সকাল ৭:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলিং বেল বেজে উঠলো এমন সময়। দরজা বন্ধ করে দেখি মামা, মামী আর অলকা। অলকা সবে দুবছরে পড়লো, এখনই প্রচন্ড মজার মজার কথা বলে। ও এত সুন্দর! সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকলেও দেখা শেষ হয় না, বরং চোখের সামনে ও আরও সুন্দর হতে থাকে। এলেই আমাদের মধ্যে কাড়াকাড়ি পরে যায় কে আগে কোলে নেবে তাকে। আজ যেহেতু আমি দরজা খুলেছি, সেই সুযোগটাও আমিই প্রথম পেলাম। ও বড়দের মত চোখমুখ করে বললো - সোনামনি তুমি কেমন আছ?

সোনামনি ডাকটা তাকে আমি শিখিয়েছি আর আমাকে শিখিয়েছিল সায়ন।

মামা বললো - আপা দুলাভাই কই রে?

- বাজারে গেছে বললো ওরা..

- তুই কখন আসলি?

- এইতো একটু আগে

আমি অলকাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।

- অলিবাবু। তুমি কি আমায় ভালোবাসো?

- হুম ! ভালোবাথি!

- এই, ওই গান টা গাও না

- কোনতা?

- পাগলারে ছাড়িয়া পাগলি যায় চলিয়া..

- পাগলাল মন ঘলে তাকে না...তাকে না.

এই গানটা সায়ন গাইতো মজা করার জন্য। কোন গানেরই সুর হতো না ওর। কিন্তু এই দুই লাইন ওর মতো করে কেউ গাইতে পারে না, কেমন যেন ভেঙে ভেঙে গায়, খুব মজা লাগে শুনতে। ক্যাসেট প্লেয়ারে চন্দন দাশের গান বাজছে -

উয়োহ না হোগা তো কিয়া কামি হোগী
বাস আধুরী সি জিন্দেগী হোগী...

আব্বা আম্মা চলে এসেছে এর মধ্যে । সঙ্গে রাজ্যের সব বাজার। আব্বা কোন জিনিষই কম কিনতে পারে না।

- কিরে মা! কেমন আছিস?

- ভালো। তুমি কেমন আছ?

- আছি রে মা। এই গরীবের খোঁজ কে রাখে বল।

এটা আব্বার প্রতিদিনের ডায়ালগ।

আমি বললাম - কেন গরীবের খোঁজ গরীবের বউ রাখে। আম্মা প্রতিদিন আমার হলে ফোন করে তুমি যখন অফিসে থাক, আর বলে যে ইতি তোর আব্বা তো এখনও এল না, কি যে করি! আম্মা তোমাকে মহা ভালোবাসে তুমি খোঁজ তো রাখোনা কিছু।

আব্বা হেসে ফেলে আমার মাথার চুল এলো মেলো করে দিতে দিতে বললো - থাম তুই, তুই একটা মহা ঘটক। আমি আর তোর কথা বিশ্বাস করছি না।

মাঝখান থেকে আম্মা বললো - সত্যি কথা বিশ্বাস করবে কেন?

- সত্যি নাকি? না মেয়ের সামনে একটু দেখিয়ে নিচ্ছ?

- দেখানোর জন্যও তো কিছু থাকতে হয়। তুমি তো দেখাতেও পার না।

আমরা সবাই বসার ঘরে বসে গল্প করছিলাম। মামা সবসময়েই মজার মজার কথা বলে। ওদের ছোটবেলার এক একজনের কথা বলে বলে অভিনয় করে দেখাচ্ছিল আর আমরা সবাই হাসতে হাসতে চোখে পানি এনে ফেলছিলাম। ভীষণ পরিপূর্ন লাগছিল ঘরটাকে।

হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো। আমি ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে অপারেটার বললো বাংলাদেশের ফোন, লাইনে থাকতে। আমি আব্বার হাতে ফোন দিলাম।

ফোনে কথা বলতে বলতে হঠাৎ আব্বা খুব গম্ভীর হয়ে গেল। কেমন একটা ছায়া নেমে এল তার চোখে। বুঝতে পারছিলাম খারাপ কোন খবর। ফোন রেখে দিয়ে আব্বা প্রায় মৃত মানুষের গলায় বললো - ভাই মারা গেছে, মা খুব অসুস্থ।'

ঘরের ভেতর একটা অসস্তিকর নীরবতা নেমে এল। আব্বার কষ্টটা আমরা সবাই বুঝতে পারছি কিন্তু কেউ অনুভব করতে পারছি না তেমন করে।

আব্বার ভাই, অর্থাৎ আমার বড় চাচার সাথে সেরকম ভাবে মেশার সুযোগ আমরা পাইনি কখনও। বাংলাদেশে যখন ছিলাম তখনও না। আর এখানে আসার পরে সেই ব্যবধান আরও বেড়েছে। তাই এই মৃতু্য তেমন ভাবে আমাকে স্পর্শ করলো না, যেমনভাবে করলো আব্বার কষ্ট। আমি তার পাশে বসলাম, হাত ধরলাম। কিই বা বলার আছে আমার? মৃতু্যর মত সুনিশ্চিত অথচ আকস্মিক ঘটনাও তো আর নেই পৃথিবীতে। আব্বার চোখের পাতায় ফোঁটায় ফোঁটায় শিশিরের মত পানি জমতে লাগলো...

প্রকাশ: পরবাস
ছবি: সাহিদুর রহমান

(চলবে)

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম: আপসহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত ইশতেহার।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০১




​ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের খতিয়ান নয়, ইতিহাস মূলত লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকা কিছু অবিনাশী কণ্ঠস্বরের গল্প। আজ ২৬ জুন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাওয়াত দিয়েছে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭

দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার ‍সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×