প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ে অথচ তার পাবলিক ভার্সিটিতে পড়ুয়া বন্ধু কতৃক ফার্মের মুরগী বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভরা কথা শুনে নাই এমন ভাগ্যবান ছাত্র বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কোন কিছু হলেই ""তোমরা ত ফার্মের মুরগী ,তোদের দ্বারা হবে না,তোরা পারবি না,অমুক তমুক অনেক কিছু"" এরা প্রাইভেটের পোলাপাইনেরে ফার্মের মুরগী বলে নিজেরাই নিজেদের দেশী মুরগী দাবি করে নিজেরাই গর্ববোধ করে। তারা মানুষ তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হয়ে নিজেদের মুরগী দাবি করে কেন? তা আজও আমার বোধগম্য নয়! তারা মনে হয় জানে না দেশী মুরগীরা মানব বিষ্ঠা থেকে শুরু করে সব খায়। তাহলে হয়ত নিজেদের এসব ভাবত না বা তাদের স্বভাব ই দেশী মুরগীর মত না ত??

গত কয়েক দিন ধরে এই ফার্মের মুরগী কথাটা একটু বেশিই শুনতে হয়েছে। কারন শিক্ষার উপর ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য রাস্তায় নেমেছিলো হাজার হাজার প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্ররা। যাদের আন্দোলনের প্রথম কথাই ছিল ,আন্দোলন হবে অহিংস। কারো সম্পদের ক্ষতি করে নয়। তাদের এই কথায় অনেকেই মুচকি হেসে ছিল। বাঙ্গলাদেশে অহিংস আন্দোলন করে দাবি আদায়!! এরা আসলেই ফার্মের মুরগী।
গত শুক্রবারে টিএসসিতে বিকালে কিছু ফ্রেন্ড এবং বড় ভাইদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। সবাই ই পাবলিক ভার্সিটিতে পড়ে বা পড়া শেষ করছে। আমি এই বিষয় নিয়ে লিখালিখি করে বলে তিতুমীর থেকে মাস্টার্স করা ভাই আমাকে খোচা দিয়েই বলল "" কিরে ফার্মের মুরগি,আন্দোলন কত দূর?? তোদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না। এভাবে আন্দোলন হয়? আমাদের যদি হত এক দিনেই বুঝিয়ে দিতাম আন্দোলন কি?? আমাদেরও এক সময় ২ টাকা বেতন বাড়াইছিলো,তখনই বুঝিয়ে দিয়েছি আমরা কি?"" ঐ ভাই ঠিকই বলেছে তারা কি জিনিস। মহাখালী গুলশান রোডে বাসে ভাড়া না দেয়া,২/১ টাকার বাস ভাড়ার জন্য বা বন্ধুদের নিজেদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় রাস্তায় গাড়ি ভাঙ্গার জন্য বিশেষ পারদর্শী তারা। আজকেও আন্দোলনের শেষ দিকে তিতুমীরের পোলাপাইন প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্রদের উপর হামলা করে তার প্রমান দিছে ,আসলেই তারা কি জিনিস যেখানে মেয়েরাও তাদের আঘাতের হাত থেকে রক্ষা পায় নাই।
প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্রদের উপর তিতুমীর কলেজের ছাত্রদের হামলা

ছবিঃ তিতুমীরের ছাত্ররা।
আরেক বন্ধু বলল "" রাস্তায় গাড়ি যদি না ভাঙ্গে তবে কিসের আন্দোলন?? বাংলাদেশে কবে জ্বলাও পোড়াও ছাড়া দাবি আদায় হইছে? আসলে তোদের দিয়া আর যা ই হোক আন্দোলন হবে না,ফার্মের মুরগী"
এর প্রতিবাদে আমি বলেছিলাম "" যাদের গাড়ি নাই তারাই ক্ষোভে গাড়ি ভাঙ্গে। তারা যদি জানত গাড়ি কিনতে কতটাকা লাগে তবে ভাঙ্গত না। ত্রিশ চল্লিশ লাখ টাকা, মুখে বললে খুবই সামান্য শুনায় কিন্তু সেই জানে যে টাকাটা উপার্জন করতে কত ঘাম জড়াতে হয়েছে তার। অপেক্ষা কর,বাংলাদেশে হয় নাই আমরাই তা করে দেখাবো""
হ্যা ,তা করে দেখিয়েছে প্রাইভেট ভার্সিটির সব ছাত্ররা। দেখিয়ে দিয়েছি জ্বালাও পোড়াও ছাড়াও আন্দোলন সফল করা যায় নিজের অধিকার আদায় করা যায়। এই আন্দোলন বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি একটা ম্যাসেজ। সবাই এক থাকলে নিজের অধিকার অন্যের বা রাষ্ট্রের ক্ষতি ছাড়াই আদায় করা যায়। কোন আন্দোলনেই এম্বুলেন্স,স্কুল-কলেজের গাড়ি যেতে পারে নাই। কিন্তু এই আন্দোলনে এম্বুলেন্স সহ সব জরুরী গাড়ি ছাত্ররা নিরাপদে যেতে দিয়েছে। যা একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ছবিঃ পুলিশকে ফুল দিচ্ছে আন্দোলনরত প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্ররা,ধন্যবাদ স্বরুপ পুলিশও ছাত্রদের পানির ব্যাবস্থা করে দিয়েছিল।
এই আন্দোলনে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বমর্থন ছাড়াও সাধার মানুষের সমর্থন ছিলো চোখে পড়ার মত। বাস,লেগুনা রিক্সা চালক পর্যন্ত আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। তারা তাদের যানবাহন রাস্তার মাঝে ঘুরিয়ে রাস্তা বন্ধ করতে সহায়াতা করেছে। অনেকে নিজের বাসে ছাত্রদের স্লোগান সংবলিত প্লেকার্ড লাগিয়ে রেখেছে। ধন্যবাদ তাদের আমাদের এভাবে সমর্থন দেয়ার জন্য।
এবার শুরু হইছে নতুন গল্প। আন্দোলনের শুরুতেই অনেকেই ঘুরিয়ে প্যাচিয়ে বলতে চেয়েছিলেন এই আন্দোলনের সাথে বিরোধী রাজনৈতিকদলের যোগসাজশ আছে। অনেকে অবাক হয়ে গিয়েছিল প্রাইভেটের ছাত্ররা !! কিভাবে এত বড় আন্দোলন পরিচালনা করছে! অনেক জ্ঞানী-গুনিকেই রাতের টকশোতে এই সব কথা বলতে শুনেছি। কিন্তু ছাত্ররা যখন স্পষ্ট ভাবে বলে দিল আমাদের আন্দোলনের সাথে কোন রাজনৈতিকদল বা গোষ্ঠির কোন ধরনের সংযোগ নেই। আমাদের নেতাও নেই। নিজেরাই নিজ থেকে এই অহিংস আন্দোলন পরিচালনা করছি। তখন কিছুটা দমেগেল তারা।
এরপর শুরু করে ছিল একটা প্লেকার্ড নিয়ে। মন পাবি,দেহ পাবি,ভ্যাট পাবি না। সুশীলরা তার শিক্ষার মান নিয়ে কথা বলা শুরু করল।সেটার ব্যাখ্যা কিন্তু সে মেয়েটা দিয়েছে। এবং বুঝিয়ে দিয়েছে সেই সব মানুষদের মন মানষিকতা কত নিচু মানের। মজার ব্যাপার হল মেয়েটা ইষ্ট ওয়েষ্ট থেকে অনার্স শেষ করলেও মাস্টার্স কিন্তু ঢাকা ভার্সিটিতে করতেছে। প্রাইভেটের শিক্ষার মান তথা যোগ্যতা যদি না থাকত সে কি ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পেত? অন্য উপায় আছে নাকি??
এবার আবার বলতেছে,ছাত্রলীগ যদি এই আন্দোলনের সমর্থন না দিত তবে নাকি দাবি দাওয়া পুরন হতো না। ধানমন্ডিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশের সাথে এক হয়ে কারা যেন হামলা চালিয়েছিল?? এটা কি তাদের সমর্থনের ভাষা?? আজ সকালে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগ এই আন্দোলনের সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু যা হাওয়ার তা ত গত রাতেই প্রধানমন্ত্রী আর অর্থমন্ত্রীর বৈঠকেই হয়েগেছে। সেখানেই ফয়সালা হয় ভ্যাট প্রত্যহার করা হবে। আজ সকালের মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে ৭.৫% ভ্যাট নিয়ে কোন আলোচনা হয় নাই। তবে ভ্যাট প্রত্যহার করা হবে এটা সাংবাদিকদের বলেছিলেন,খদ্য মন্ত্রী এবং নৌ মন্ত্রী।
এখানে তাহলে ছাত্রলীগের কৃতিত্ত্বটা কি? কেউ কি আমাকে বলবেন?? সারা সপ্তাহ আন্দোলন করলাম রাস্তায় আমরা। তোমরা তার বিরোধিতা করলে,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে ত আন্দোলনরত ছাত্রদের লাঠিপেটা করার হুমকিও দেয়া হয়েছিল। তাহলে তারা কিভাবে দাবি করে এটা তাদের সফলতা??
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




