অফিসে ঢুকেই দেখি আমার ডেস্ক চেঞ্জ হয়ে গেছে। বিনা নোটিসে একজন সিনিয়রের দায়ীত্ব আমার দেয়া হয়েছে, তাকে দেয়া হয়েছে আমার দায়িত্ব। কঠিনতম পন্যের প্রাইচিং করতে হবে এবং সেটা কোনভাবেই স্যালারিকে প্রভাবিত করবে না । আধো অন্ধকারে জ্বলজ্বলে ডেস্কটপের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমার হিসু পেল। ওয়াশরুমের আয়নায় তাকিয়ে দেখলাম চোখ গাজাখোরদের মতো লাল হয়ে গেছে। অফিস থেকে বেরুলাম চোখে টনটনে ব্যাথা নিয়ে। কয়দিন আগে এক্সিডেন্ট করে হাটুর চামড়া উঠে গিয়েছিল, বাসে উঠতে গিয়ে ব্যাথা পেলাম। চোখ আর হাটু একসাথে কোরাস গেয়ে উঠলো ।
বাস থেকে নেমে দেখলাম দুনিয়ার তাবৎ রিকসাওয়লা জমিদার হয়ে গেছে। খোড়াতে খোড়াতে বাসার সামনে আসলাম, টং দোকান থেকে পাচ টাকা দিয়ে একটা লাঠি বিস্কুট কিনলাম। কেচি গেট খোলার সাথে সাথে একটা কুকুরের বাচ্চা কুই কুই করতে করতে পায়ের কাছে আসলো। বিস্কুটটা দিলাম। কুকুরের বাচ্চাটা দুই পা দিয়ে বিস্কুট ধরে পরম আগ্রহে খাওয়া শুরু করলো আর লেজ নাড়লো। প্রতিদিনের মতো আমি খাওয়া শেষ পর্যন্ত দেখলাম। সিড়ি দিয়ে উঠার সময় টের পেলাম পায়ের ব্যাথা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, উঠতে হবে চার তলায়।
বাসায় ঢুকেই বিছানায় বসে পড়লাম। বুঝলাম জ্বর আমার দিকে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছে। একটু চোখ বুজলাম। মনে পড়লো কালকে অফিস আছে আজ বাজার করে রাখতে হবে। বাজারের ব্যাগ নিয়ে সিড়িতে নামতে থাকলাম। কুকুরের বাচ্চা পায়ের কাছে এসে কুই কুই করতে লাগলো। তাকিয়ে দেখি কুকুরের বাচ্চাটা খোড়াচ্ছে...
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১০:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



