somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গালিব আফসারৗ
পড়ছি দর্শনশাস্ত্র নিয়ে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। লেখালেখির চেষ্টা করি, তা ফল হিসেবে কাব্যগ্রন্থ "ভালোবাসা এবং অন্যান্য অশ্লীলতা" বইমেলা '১৭ তে প্রকাশিত হয়েছে। একা থাকতে ভালোবাসি।

শীতের মিষ্টি রোদ

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় "একটি শীতের দৃশ্য" কবিতায় শীতের রোদের কথা বলতে গিয়ে বলেন
"মায়ামমতার মতো এখন শীতের রোদ
মাঠে শুয়ে আছে
আর কেউ নেই "

মায়ামমতাই বটে শীতের রোদ। বাংলার চলমান সৌন্দর্য আর ঋতুবদলের পটকালে যখন শীতের হাওয়া আমাদের গাঁয়ে এসে লাগে, তখন একটুখানি উষ্ণতার জন্য আমরা কত কি-ই না করি। শীত আসার আগেভাগেই মোটামোটা গরম কাপড় মার্কেটে আসতে থাকে আর আমরা শীত তাড়াতে সেগুলো কিনে ফেলি। লেপ-কম্বলের তলে দিনের অধিকাংশ সময় পার করে দেই শীতের ভয়ে। বেচারা শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে শহুরবাসী তো কোন ছাড়, গ্রামের মানুষেরা শীত আসার অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে দেয়। শীতে পিঠা-চিড়া বানাতে হবে, তার জন্য ধান,চাল,আটা মজুত করা শুরু হয়। প্রতি শীতের সকালে উঠে উঠোনে আগুন জ্বালিয়ে পোহাতে হবে, তার জন্য শুকনো লাকড়ির জোগাড় করতে হয়। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে ও শীতকে উপভোগ্য করতে আমরা বাঙ্গালীরা অনেক কিছুই করে থাকি।

একটুখানি ঠাণ্ডাঠাণ্ডা আবহাওয়া দেখলেই আমরা যেটা করি তা হলো শীতকালের মায়ামমতার মত মিষ্টি রোদ পোহানো। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে যেখানে রোদ আসে সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রোদ পোহাই। দুপুরবেলা গোসলের পর একটু রোদে না দাঁড়ালে জীবন সাথে থাকে না বোধহয়, এমন লাগে আমাদের। বিকালে শেষবেলাকার সুর্যতাপ গাঁয়ে না মাখালে রাতটা যে শীতে কাহিল হবো, তাই রোদের মিষ্টি আমেজ গাঁয়ে মেখে শীতের সুখে মেতে উঠি আমরা।

আমরা শীতকালে হরহামেশাই দেখি যে, কেউ রাস্তা দিয়ে হাটার সময় যে পাশে রোদ থাকে সেই পাশ দিয়েই হাটে। মোবাইল ফোনে কথা বলতেছে, রোদে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। রিকশায় কেউ কোথায় যাচ্ছে, হুডটা না নামিয়ে বরং রোদ মাখাতে মাখাতে যেতেই ভালো লাগে।

শীতের সকালে চায়ের পেয়ালা হাতে অনেককেই বারান্দায় বসে থাকতে দেখি একটু উষ্ণতার জন্য। কেউ কেউ পেপার নিয়ে রোদে বসে পড়েন। গ্রামে দেখা যায় শীতের রোদে বসে লোকজন জটলা পাকিয়ে আড্ডা দিচ্ছে, মায়েরা তাদের সন্তানদের রোদে বসিয়ে রাখে এবং দুপুরে বাচ্চাদের গোসল করিয়ে দেয়ার পর তেল মাখিয়ে দিয়ে রোদে দাড়া করিয়ে রাখা হয়। শীতের এসব দৃশ্যের পেছনে কারণ একটাই, আর তা হচ্ছে শীতের মিষ্টি রোদ থেকে উষ্ণতা আরোহণের আকাঙ্ক্ষা। আমরা বাঙ্গালীরা একটু শীতেই কাবু হয়ে যাই, তাই শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে শীতের মিষ্টি রোদ গাঁয়ে মাখাতে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

কিন্তু শীতের এই মিষ্টি রোদ কি আসলেই মিষ্টি? এরকম প্রশ্নের জবাবে কি বলবো আমরা? না, শীতের এই উপভোগ্য রোদ শুধু উপকারীই নয় বরং ক্ষতিকর।
আমরা জানি এমনিতেই রোদ ত্বকের অন্যতম শত্রু। রোদ ত্বককে পুড়িয়ে দেয়। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে শীতের সময় রোদের ক্ষতিকর প্রভাব বেশি থাকে। যদিও শীতের সময় রোদের প্রখরতা কম থাকে, কিন্তু বায়ুমন্ডলে ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মি যাকে বাংলায় বলে অতিবেগুনি রশ্মি এটার পরিমান তখন বেশি থাকে।

শীতের সময় বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকার কারণেই আলট্রাভায়োলেট রশ্মি তুলনামূলক কম জলীয়বাষ্পের বাধা অতিক্রম করে ত্বকের সংস্পর্শে পৌছে। বছরের অন্যান্য সময় বাতাসের জলীয়বাষ্পের পরিমান বেশি থাকার কারণে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি জলীয়বাষ্পের বাধা অতিক্রম করে আসার ফলে এর তেজ অনেকটা কমে যায়।

আর শীতে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি অনেকটা সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে। তাই শীতের রোদে ত্বকের ক্ষতিও বেশি হয় । ত্বক মলিন ও গাড় হয়ে যায়। কাজেই শীতের সময় রোদের মধ্যে বেশি থাকার জন্য ত্বকের ক্ষতি আরও বেশি হয়।

অন্য দিকে গরমকালে রোদের প্রখরতা বেশি থাকে বলে লোকজন এমনিতেই রোদ এরিয়ে চলে এবং তখন রোদের আলট্রাভায়োলেট রশ্মির তেজও থাকে কম। ফলে গরমকালে রোদে ঘুরলে ত্বক শীতের সময়ের চেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের শীতের রোদ হলো মায়ামমতার মত, উষ্ণতায় আগলে রাখে শীতল জীবন। কিন্তু এই মায়ামমতার পিছনে রাক্ষুসে রুপটাও এবার দেখতে হবে যে। কারণ, শীতকালের রোদের এই আলট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এই রশ্মি থেকে ত্বককে যত দূরে রাখা যাবে, ততই মঙ্গল। ত্বকের সজীবতা ও হালকা বর্ণ ধরে রাখার জন্য শীতের সময় রোদ এরিয়ে চলায় ভাল। শীতের রোদকে যতই আরামের মনে হোক না কেন, তা আসলেই ত্বকের ক্ষতি করছে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:০৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



যুদ্ধের আগে
আকাশের দিকে তাকিয়ে,
মানুষ নিজ নিজ পতাকা ঈশ্বরের রঙে রাঙায়।

প্রথম আঘাতের পর,
প্রথম রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়ার পূর্বে,
মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে—
"ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন।"

প্রতিটি যুদ্ধের আছে একেকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×