গত কিছুদিন আগেই উত্তরায় এক স্কুল পড়ুয়া কিশোর সহপাঠিদের সাথে মারামারিতে খুন হলো। পরে জানা গেল এইসব স্কুল পড়ুয়া কিশোরদের রয়েছে অনেক গুলি দল। একেকটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন একেক জন বড় ভাই। এই বড় ভাইরা আবার স্থানীয় পাতি পুতি নেতা। এরা মাঝে মাঝেই নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে মারামারি করে। কিশোর বয়সের সময়টা থাকে এক রোমাঞ্চকর সময় যখন কিশোররা নিজেকে সবার দৃষ্টি আকর্শন করাতে চায় আর ভাবতে থাকে নিজেকে এক অসিম ক্ষমতাধর হয়ে উঠার কিংবা দেখে অনন্য হয়ে উঠার স্বপ্ন। আর এই সময়ই তার প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা সঠিক জ্ঞান যা তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে। কিন্তু দূর্ভাগ্য হলো ছোটকাল থেকে সে ঐ শিক্ষাটা কোথাও পায়না, না পায় বাসায় না পায় স্কুলে। আজকাল বাবা মারা ছেলেমেয়েদের সঠিক যত্ন বলতে যা বুজে তা হল সে ক্লাশে ফাস্টবয় হবে আর ভাল পাশ করে অনেক অনেক আয় রোজগার করবে। অথচ একটা ছেলে কিংবা মেয়ের মানুষ হয়ে উঠা মানে শুধু টাকা রোজগার নয় তার হওয়া উচিত বিবেকবান, নৈতিক, সহনশীল আর মানবিক মূল্যবোধ সম্পূর্ন মানুষ। কিন্তু হায় তাকে কে শেখাবে এইগুলি? আমার বাসার পাশেই আছে একটি স্কুল প্রতিদিন সকালে আমার কানে ভেসে সে তাদের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি--, এর পর - আমি শপথ করিতেছি যে, মানুষের সেবায় সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখিব। দেশের প্রতি অনুগত থাকিব--- হে আল্লাহ, আমাকে শক্তি দিন। আমি যেন বাংলাদেশের সেবা করিতে পারি। এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গড়িয়া তুলিতে পারি। এর পরে--আমরা হলাম ভাই বোন পড়া লেখার দেবো মন, দেখা হলে সালাম দেবো, গুরু জনকে সন্মান করবো, ছোটদের স্নেহ-- ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বড় আশ্চার্যের বিষয় এই ছেলে মেয়েরাই স্কুল থেকে বের হলে ঐ সব শপথ বাক্যের পথে হাটে না। বড়দেরকে সালাম দেওয়া এটাতো এখন দেখাই যায়না, দেশকে ভালবাসা, মানুষের সেবা করা এই গুলি শুধু ঐ শপথ বাক্যের মাঝেই সিমাবদ্ধ। তাহলে সমাধান কি হ্যা সমাধান তো অবশ্যই আছে। সমাধান হচ্ছে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা। হ্যা এটাই সমাধান আমি যদি একটি মুসলিম ছেলেকে বুজাতে পারি। হাদিসে আছে 'যে বড়কে সন্মান করেনা আর ছোটকে স্নেহ করেনা সে আমার উম্মত নয়' আর এই কথাটা ঐ ছেলের মনে যতদিন থাকবে তত দিন সে বড়কে সন্মান করবে ছোটকে স্নেহ করবে। এই ভাবে প্রতিটি ভাল কাজের যদি তাকে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় আমি মনে করি এটাই যথেষ্ট। কেউ কেউ হয়ত বলবেন অন্যান্য ধর্মের ছেলে মেয়েদের কি বলা হবে আমি বলবো তাদেরও ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে ভাল উপদেশ গুলি শোনানো উচিত এতে আশা করি খুব ভাল ফল পাওয়া যাবে। আর এতেই আশা করা যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নৈতিক মানুষ হয়ে উঠবে, কিশোররা আর পা বাড়াবেনা ঐ সব খারাপ পথে।
পরিশেষে বনান ভুল হলে ক্ষমা প্রার্থী।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



