somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লোডশেডিং এর সিদ্ধান্ত কতটুকু ফলপ্রসূ হবে?

৩১ শে জুলাই, ২০২২ দুপুর ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলমান জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকার ইতোমধ্যে নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছ। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশব্যাপী প্রতিদিন ১-২ ঘন্টা লোডশেডিং এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম হওয়ায় লোডশেডিং এর সময়সীমা কোন কোন জেলায় ৬-৭ ঘন্টায় গিয়ে পৌঁছেছে। যাতে করে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশের কৃষি ও শিল্প খাত।



লোডশেডিং এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। [1]

এই শিল্পে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব না হলে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেন। এবং, একবার স্টক লটের শিকার হলে (অর্ডারের পণ্য ক্রেতারা না নিলে) সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

লোডশেডিং এর ফলে যথাসময়ে পণ্য তৈরি এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ড ক্রেতারা পোশাকের দরের ক্ষেত্রে এক সেন্টকেও অনেক বেশি গুরুত্ব দেন। কিন্তু, লোডশেডিং এর ফলে কারখানাগুলোকে দিনে ২ ঘন্টারও বেশি সময় ডিজেলচালিত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। যার ফলে উৎপাদন ব্যয় ১১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। [2] আর উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, করোনা মহামারী ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশ রেকর্ডকালের মূদ্রাস্ফীতির মুখোমুখি হয়েছে। যেসব দেশে মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ বেশি সেসব দেশের ভোক্তাদের খাদ্যের পেছনেই আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে পোশাকের মতো পণ্যের চাহিদা কমে আসা স্বাভাবিক। এর মধ্যে লোডশেডিং এর কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে পোশাক খাতকে বড় বিপদে পড়তে হবে। এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যার প্রভাব পড়তে পারে।

লোডশেডিং এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেচের পানি সময় মতো পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে পানি সংকটে পড়েছে সাধারণ কৃষকরা।

দেশে চাষাবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ৮৪ লাখ হেক্টর। এর মধ্যে ৫৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে রোপা আমন চাষ হয়। জুলাই-আগস্ট মাস আমন ধান রোপণের মৌসুম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই শেষ হতে চললেও মাত্র ৩ লাখ ৮৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপণ হয়েছে। [3]

লোডশেডিং দীর্ঘায়িত হলে চলতি মৌসুমে সারাদেশেই আমন ধানের ক্ষেত হুমকির মুখে পড়ে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্রে খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে পড়েছেন পোলট্রি ও হ্যাচারি খামারিরা। পল্লী বিদ্যুতের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে মারা যাচ্ছে মুরগি। বাংলাদেশ পোলট্রি খামার রক্ষা পরিষদের (বিপিকেআরজেপি) এর তথ্যমতে অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং লোডশেডিং এর কারণে বাতাস না পাওয়ায় খামারের মুরগি স্ট্রোকে মারা যাচ্ছে।

লোডশেডিং এর কারণে দেশের কৃষিখাত এবং প্রধান রপ্তানি পণ্যসমূহের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।

এছাড়া, গত অর্থবছরের ১১ মাসে দেশের আমদানি ব্যয় সাড়ে ৭ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা তার আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি৷ [4]

আবার জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নেমে এসেছে ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে।

সুতরাং, বুঝা যাচ্ছে দেশের অর্থনীতিক পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং লোডশেডিং তাতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

ডিজেল সাশ্রয়ের জন্য সরকার কর্তৃক ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে।
কিন্তু, এর ফলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে জেনারেটরে ডিজেলের ব্যবহার বেড়েছে।

দেশের শিল্প কারখানা, বিপনী বিতান, বাসাবাড়িতে লোডশেডিং এর সময় ডিজেলচালিত জেনারেটর চালানো হচ্ছে। যার ডিজেলের ব্যবহার বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এর কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকলে বছরে ১ লাখ ৪০ হাজার টনের মতো ডিজেল সাশ্রয় হবে। এদিকে, দেশে বাসাবাড়ি এবং বাণিজ্যিক খাতে মোট চাহিদার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার টন। লোডশেডিং যত বাড়বে, এ খাতে ডিজেলের ব্যবহার তত বাড়তে থাকবে।

এছাড়া, ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখলেও সেগুলোর পেছনে সরকারের খরচ কমছে না। কারণ বেসরকারি খাতের ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ না কিনলেও সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জ নামে একটি মাশুল দিতে হয়। গত বছরের জুলাই থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিদ্যুৎ না কিনেও সরকারকে গুনতে হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

সুতরাং, লোডশেডিং এর ফলে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য কতটুকু বাস্তবায়িত হবে তা এখনো প্রায় অনিশ্চিত। উপরন্তু, দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যসমূহের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। যার ফলে রপ্তানি আয় কমতে শুরু করবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে।

Rreferences:

1. Click This Link

2. Click This Link

3. https://cutt.ly/sZtgrOo

4. Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০২২ দুপুর ১:৫৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×