somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেমন ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব? - ০২

১৫ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"আবু মুজাফ্‌ফর মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব আলমগীর" সম্পর্কে "ভারতজনের ইতিহাস" বইয়ে শ্রীবিনয় ঘোষ লিখেছেন " ভারতবর্ষ যদি ইসলাম ধর্মের দেশ হত তাহলে সম্রাট ঔরঙ্গজীব হয়ত ধর্ম প্রবর্তক মুহাম্মদের বরপূত্ররূপে পুজিত হতেন ৷ বাস্তবিক তার মত সচ্চরিত্র, নিষ্ঠাবান মুসলমান ইসলামের জন্মভূতিতেও দুর্লভ ৷"

তিনি আরও লিখেছেন "সম্রাট বলতেন বিশ্রাম ও বিলাসিতা রাজার জন্য নয় ৷ - বাস্তবিক বিলাসিতার অভ্যাস ঔরঙ্গজীবের একেবারেই ছিল না ৷ বাদশাহের বিলাসিতা তো দূরের কথা, সাধারণ ধনীর বিলাস স্বাচ্ছন্দও তিনি ব্যক্তিগত জীবনে এড়িয়ে চলতেন ৷ লোক তাকে 'ফকির ও দরবেশ' বলত তা স্তুতি না সত্য ৷ পোশাক-পরিচ্ছদে,আহার-বিহারে তিনি সংযমী ছিলেন ৷ সুরা-নারী বিলাস তাকে স্পর্শ করত না ৷ ঔরঙ্গজীব বিদ্যানুরাগী তো ছিলেনই, নিজে বিদ্বান ও সুপন্ডিত ছিলেন ৷"

যারা ফতোয়ার বই পড়েন, তারা হয়ত খেয়াল করেছেন কিছু ফতোয়ার পাশে রেফারেন্স হিসেবে "ফতোয়া-ই-আলমগীরি" লেখা আছে ৷ আওরঙ্গজেব নিজে আলেম ছিলেন এবং তৎকালীন সময়ের শীর্ষ আলেমদের সহায়তায় তিনি ফতোয়ার (ইসলামী আইনগ্রন্থ) বই লেখেন ৷ যা শ্রীবিনয় ঘোষও লিখেছেন ৷

শ্রীবিনয় ঘোষের লেখা হতেই জানা যায়, আওরঙ্গজেব হাফেজ ছিলেন এবং তিনি কুরআন নিজ হাতে কপি করে তা বিক্রি করে এবং টুপি বানিয়ে পৌষ্যদের প্রতিপালন করতেন ৷

টুপি বানিয়ে এবং কুরআন কপি করে তা বিক্রি করে আওরঙ্গজেব শেষ জীবনে আট শত পাঁচ টাকা সঞ্চয় করেছিলেন ৷ তার মধ্যে মাত্র চার টাকা আট আনা তার কাফন দাফনের ব্যয় করার জন্য রেখে অবশিষ্ট অর্থ দান করে দেবার জন্য উইল করে গিয়েছিলেন ৷ ধর্মপরায়ন আওরঙ্গজেব তার প্রজাদের ভক্তি শ্রদ্ধা আকর্ষণ করতে পেরেছিলেন ৷ যেসব ঐতিহাসিকরা এমন চরিত্রের আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে তারা ঐতিহাসিক না উপন্যাসিক এবং তাদের লেখা ইতিহাস নয় উপন্যাস ৷ আর জানা কথা - উপন্যাসে যাকে ইচ্ছা তাকে হিরো বানানো যায়, যাকে ইচ্ছা তাকে ভিলেন বানানো যায় ৷

বাতিলপন্থীদের লেখা পড়ে জেনেছি, তারা মাঝেই মাঝেই স্ববিরোধী কথা বলেন , উল্টা পাল্টা যুক্তি প্রমাণ দেন কিন্তু নিজেদের যুক্তি প্রমাণে নিজেরাই ফাস খায় ৷ শ্রীবিনয় ঘোষও তাদের ব্যতিক্রম না ৷ শ্রীবিনয় ঘোষ আওরঙ্গজেবের চরিত্রে কালিমা দেবার সময় স্বরণ রাখেন নাই তিনি নিজেই আওরঙ্গজেব সম্পর্কে এমন কিছু কথা বলেছেন তাতে তার দেবা অপবাদ মিথ্যা বলে প্রমাণ হয় ৷

শ্রীবিনয় ঘোষ আওরঙ্গজেবকে মুহাম্মাদ সাঃ এর বরপূত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং সেই শ্রীবনয় ঘোষই লিখেছেন "সৎনামীর জাদুমন্ত্র জানে মনে করে তিনি নিজের হাতে বাণী লিখে জাদুমূর্তি অংকন করে দেন মোঘল সৈন্যদের পতাকাতে এটে দেবার জন্য ৷"
অথচ ইসলামে জাদুমন্ত্র করা নিষিদ্ধ ৷ যার উল্লেখ ফতোয়া-ই-আলমগীরিতেই উল্লেখ আছে ৷ শ্রীবিনয় ঘোষের স্ববিরোধীতার আরও কিছু প্রমাণ পরবর্তীতে উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ ৷

ঔপন্যাসিক মার্কা ঐতিহাসিকরা শুধুমাত্র আওরঙ্গজেবের চরিত্রকেই কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেন নাই বরং তারা হযরত মুহাম্মাদ সাঃ সম্বন্ধেও কুৎসিত ধারণার জন্ম দিয়ে শিক্ষিত মুসলিম সমাজকে ইসলাম বিমুখ করে দেবার জঘন্য চেষ্টা করেছে ৷ এ ধরনের ঐতিহাসিকরা আওরঙ্গজেবকে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসারী বলে ঘোষণা দিয়েছে ৷ এরপর আওরঙ্গজেবকে অত্যাচারী, নির্মম বলে প্রচার করেছে ৷ এভাবে এসব ঐতিহাসিকরা বার্তা দিয়েছে "আওরঙ্গজেব যেহেতু খারাপ, যেহেতু আওরঙ্গজেব সে ধর্মকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে, সেই ধর্মও খারাপ ৷" ধর্ম যেমন সেই ধর্ম অক্ষরে অক্ষরে পালনকারী তো তেমনই হবে ৷

শ্রীবিনয় ঘোষসহ ইসলাম বিদ্বেষী ঐতিহাসিকরা মিথ্যাচার করার সময় স্বরণ রাখে নাই "সত্যের আলোতে মিথ্যার অন্ধকার দূর হয়ে যায় ৷" আওরঙ্গজেব সম্পর্কে প্রচলিত মিথ্যার অন্ধকার দূর করতেই সত্য ইতিহাস জানাবার চেষ্টা করব ৷ তবে কোন মিথ্যা মনে গেথে গেলে সত্যের আলো সেখানে পৌঁছাতে পারে না ৷ আলো পৌঁছার জন্য মনের দরজা জানালা খুলে দিতে হয়, চিন্তা ভাবনা করতে হয় ৷

সম্রাট আওরঙ্গজেব মারাত্বক যেসব অভিযোগ আরোপ করা হয় তাহল -
(১) তিনি কাউকে বিশ্বাস করতেন না,
(২) তিনি হিন্দু বিদ্বেষী ছিলেন, তাই হিন্দু কর্মচারীদের বিতাড়িত করেছিলেন,
(৩) হিন্দুদের মন্দির ধ্বংস করেছিলেন,
(৪) হিন্দুদের উপর জিজিয়া কর চাপিয়ে দিয়েছিলেন,
(৫) বৃদ্ধ পিতাকে বন্দি ও ভাইদের হত্যা করেছিলেন,
(৬) তার অযোগ্যতাই মোঘল সাম্রাজ্যের পতনের কারন ৷
এসব আরোপিত অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলে মোটা মোটা বই হয়ে যাবে ৷ যা পড়তে পাঠকগণের কোন আগ্রহ নাই এবং আমার পক্ষে লেখাও অসম্ভব ৷ সম্রাট আওরঙ্গজেবের উপর আরোপিত অভিযোগগুলো নিয়ে ধারাবাহিকভাবে যতটা সম্ভব সংক্ষেপে আলোচনা করব ৷ ইনশাআল্লাহ বিজ্ঞ পাঠক তাতেই কোনটা সত্য এবং কোনটা মিথ্যা তা সহজেই বুঝতে পারবেন ৷

চলবে ইনশাআল্লাহ…
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১:৩০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×