প্রথমে আমাদের দেশের কিছু সাধারন চিত্র দেখে নেই এ বিষয়ে। ধমর্ীয় বা সাংস্কৃতিক যে কারনই বলুন না কেন বাঙ্গালীরা খুব রক্ষনশীল ধরনের। যুবক যুবতীর সাথে মেলামেশা করবে এ ব্যাপারটা কেউ মেনেই নিতে পারবে না। যুবক-যুবতীর সাথে ঘনিষ্টতা দেখলে প্রেম ছাড়া আমাদের মাথায় কিছুই আসে না। গাড়িতে চড়ে বসলেন, দেখলেন একজন মহিলা দাড়িয়ে আছে। লোকেরা কথা শোনায়, 'যাক না দাঁড়িয়ে, নিজেদের সমান দাবী করে না? তাহলে এখন তাদের ফেভার করতে হবে কেন?'
ছেলে-মেয়ের মধ্যে মেলামেশাটা কমে আসে যখন তারা কৈশোরে পদর্াপন করে। কেমন যেন একটা বাঁধা, চেনা মানুষের মধ্যে অচেনা পরিবর্তন। মুরুব্বীরাও ভয় দেখিয়ে দেয়। মেয়েদেরকে সাবধান করে দেয়া হয় - 'পুরুষদের থেকে সাবধান'। ছেলেদের বলে দেয়া হয় মেয়েদের সাথে মেশা মানা। জটিল শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তনের সময় জটিল বিধিনিষেধ। এরকম পরিস্থিতি আমরা কম বেশী সবাই পেরিয়ে এসেছি।
সময়ের সাথে সাথে আস্তে আস্তে অনেক সময় অনেক কিছু ঠিক হয়। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ ঠিকই সাঈফ শরিফ থেকে যায়। অনেক সময় দেখেছি পরিবার, বন্ধু (বিশেষ করে নারী) বর্জিত পরিবেশে থেকে অনেক স্কুল কলেজের ছেলেরা আর স্বাভাবিক ভাবে মেয়েদের সাথে মিশতে পারেনা। কোন ছেলে কোন মেয়ের বন্ধু হতে পারে এই ব্যাপারটাই মেনে নিতে পারেনা। ধরেই নেয় মেয়েটা ছেলেটাকে ম্যানিপুলেট করছে। নিজের অজান্তে ছড়াতে শুরু করে কুৎসা। অনেক সময় নিজে পছন্দের কাউকে না পেয়ে তার নামে শুরু করে কুৎসা। আমি বুয়েটের অনেক সাঈফ শেরিফের সাথে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় নিরানন্দভাবে পার করে এসে এখন দু:খ করি।
সাঈফ শেরিফরা যে সমস্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের যুক্তি তুলে ধরে সেসব ঘটনাকে আমি বলছিনা বানোয়াট বা মিথ্যে। কিন্তু সেসব ঘটনা হাজারে একটা। শুধু মাত্র সেসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে পস্টুলেট বা সুত্র দাঁড় করালে ভীষন ভুল হবে। মেয়েদেরকে মানুষ হিসেবে সম্মান দিতে শিখুন। বন্ধু হিসেবে ভাবতে শিখুন। প্রেমিকা হিসেবে ভাবতে শিখুন। তবেই দেখবেন তাদের আপনি বুঝতে পারছেন। এভাবে দুটো একটা [গাঢ়]ভুল[/গাঢ়] ঘটনাকে পুঁজি করে মেয়েদের সম্বন্ধ্যে নেতিবাচক ধারনা নিয়ে থাকলে পিছিয়ে পড়ে থাকবেন আপনিই।
শুভ সন্ধ্যা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



