somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুষনাক্রান্ত তাজমহল

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

([লিংক=যঃঃঢ়://িি.িঢ়ড়ৎংযর.পড়স/]পড়শী[/লিংক] 6ষ্ঠ বর্ষ 10ম, মাঘ 1413 সংখ্যায় প্রকাশিত)

কি আছে গানটায়? "How many roads must a man walk down before you can call him a man?" কড়া দক্ষিনের উচ্চারনে গাওয়া গানটিতে একুয়্যাস্টিকের টুংটাং আর হারমোনিকার প্যাঁপো ছাড়া বিশেষ কোন বাদ্যযন্ত্রও নেই। অথচ কি অসাধারন রিনরিনে অনুভুতি ছড়িয়ে দেয় মনে, কি অদ্ভুত সাহস জোগায়। মনে হয় করে ফেলতে পারি যে কোন কিছু। ঠিক এই জায়গাটিতে এসে একটি শিল্প অমর হয়ে যায়, আপন সময়কে ছাড়িয়ে যায় খুব সহজে। যমুনা নদীতীরে দাঁড়িয়ে সম্রাট শাহাজাহান কি কখনও ভেবেছিলেন তাজমহল ছাড়িয়ে যাবে তাকেও? হয়ে উঠবে বিশ্বব্যাপী একটি অনুপ্রেরনার প্রতীক?

হাতে গোনা এই গোটাকতক মানুষ ছাড়া আমরা সবাই আসলে মাতৃহন্তারক। পৃথিবীকে কিছু না দিতে পেরেছি তাতে কি? পৃথিবী থেকে কিছু নিতে ছাড়ি না। তাজমহলের মত একটা ভালোবাসা ও অনুপ্রেরনার প্রতীকও হার মানতে বাধ্য হয়েছে মানুষের লোভের কাছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন দুখ: করে বলেই বসেছেন, সাড়ে তিনশ বছরের যুদ্ধ, হানাহানি, এবং প্রাকৃতিক দুযের্াগ যা করতে পারেনি, পরিবেশ দূষণ সেটা করে দেখিয়েছে। তাজমহলের অসাধারন দেয়ালগুলোতে বসিয়েছে তার মরন কামড়।

গত দুদশকে ভারতের সবচেয়ে বড় এই টুরিষ্ট আর্কষন আগ্রার তাজমহল দুষনের কবলে পড়েই বারবার সবার আলোচনায় উঠে এসেছে। বিষেশজ্ঞেরা অনেকবার সাবধান করেছেন, যে পরিবেশ দূষণে কিন্তু ক্ষয়ে যাচ্ছে সৃত্মি স্তম্ভগুলো এবং রংহীন হয়ে পড়ছে একদা সফেদ মার্বেলের দেয়াল। এর সমাধান হিসেবে তাজ ট্রাপেজিয়াম জোন বা তাজমহল এবং এর তৎসংলগ্ন এলাকার 10,400 বর্গএকক জুড়ে যে সমস্ত কারখানা আছে সেগুলো বন্ধ করতে হবে। আবার এই এলাকার মধ্যেই পড়ে আগ্রার কেল্লা আর ফতেহপুর সিকরী। প্রশ্ন হচ্ছে কোনটা বেশী গুরুতত্দপূর্ণ, তাজমহল নাকি কারখানাগুলোতে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক? সমস্যাটা এতটাই জটিল যে তার সমাধানে ছুটতে হয়েছে সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। দোষী হিসেবে সাবস্ত্য করা হয়েছে মাথুরা রিফাইনারী, লৌহ ফাউন্ড্রি, গ্লাস কারখানা, ইটের ভাঁটা এবং আরও যেটা না বললেই না - হাইওয়ে ধরে চলাচল কারী ট্রাফিকের নিরবিচ্ছিন্ন স্রোত। এমনকি প্রায়ই দেখা গেছে স্ট্যার্ন্ডাড লেভেলের দশ গুন বেশী সালফার-ডাই-অঙ্াইড বাতাসে বিদ্যমান। অঙ্েিজন এবং জলীয় বাষ্পের সাথে মিশে সালফার-ডাই-অঙ্াইড মার্বেলের দেয়ালগুলোর ওপর গিয়ে বাসা বাঁধে এবং জন্ম দেয় একজাতীয় ছত্রাকের - যাকে বিশেষজ্ঞরা আখ্যায়িত করে থাকেন "মার্বেলের ক্যান্সার" হিসেবে।

দুষন কে দোষী করে এবং তাজমহলের প্রতি অবহেলার প্রতি আঙ্গুল তুলে মাহেশ চন্দ্র মেহতা নামের পরিবেশবাদী আইনজীবী 1984 সালে সুপ্রীম কের্াটে একটি কেস দাখিল করেন। তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন যে সাদা মার্বেলের জায়গায় জায়গায় কালো হয়ে গিয়েছে, আর ভেতরের মনুমেন্টটা ছাতা পড়ে ক্ষয়ে যেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভেতরের যে জায়গাটায় সম্রাট শাহ-জাহান এবং তাঁর স্ত্রী মুমতাজ মহলের আসল কবরটা রয়েছে সে জায়গাটার অবস্থা বেশ খারাপ। মেহতা কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন কারখানাকে দুষনমুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে বা একেবারে বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। তিনি এমনকি এও দেখিয়েছিলেন যে সেই দূষন সেখানকার শ্রমিক ও সাধারন নাগরিকের স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল নয়।

[গাঢ়]গ্যাস ব্যবহারে আইন[/গাঢ়]
শেষ পর্যন্ত 1996 সাল নাগাদ ভারতের সুপ্রীম কোর্ট এই মর্মে রুল জারি করে যে উক্ত এলাকায় কারখানাগুলো সত্যি সত্যি বায়ু দুষনে জড়িত এবং প্রধান কারখানাগুলোকে অতিসত্ত্বর দুষন রোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোর্ট অর্ডারের ভাষ্যে - ুNot even a one per cent chance can be taken when
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুদের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের ভালোবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


Two for joy!

আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×