কলেজ শেষ করে যখন আমাদের ত্রিরত্নের বিরহ প্রায় চলে আসে আসে, তখন গীটারের গুরু হিসেবে হাসানের সাথে ঘনিষ্টতা বাড়ে। অসাধারন বাজাত তখন থেকেই। একটা ব্যান্ডের লীডারও ছিল। আমাদের তখন খুব ধারনা ছিল হাসান কিছু একটা করবে।
এরমধ্যে গীটার বাজানো শেখা নিয়ে হাসানের সাথে যোগাযোগ ঠিকই থাকল। আনস্মার্ট আমি বুয়েটের চানস পেয়ে গেলাম। আমার গীটার গুরু হাসান থেকে গেল। দুরত্বটা বাড়তে গিয়েও বাড়ল না, আমরা একসাথে কমল ভাইয়ের কাছে গীটার শিখতে শুরু করার পর। বছর খানেক গিয়েছি, কাজের কাজ কিছুই হয়নি শুধু আমার রেজালট খারাপ হতে শুরু করল। তাই গীটার ছাড়লাম, কিন্তু ততদিনে হাসান আমার ক্লোজেস্ট ফ্রেন্ড।
দশ বছর পর হাসান আর আমি এরাবিয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিলাম। দশ বছর পর আবার সেই হাসানই আমাকে আরেকখানা গীটার কিনে দিল। সেদিন বিদায় নেবার সময় বোধহয় একটু বেশীই শক্ত করে ধরেছিল।
আজ গীটারটা বাজাতে বাজাতে হঠাৎ শেষ দিন হাসানকে খুঁজে না পাবার কথাটা মনে পড়ল। অনুধাবন করলাম আমাদের সমাজ অনেক প্রতিভার জায়গা দিতে পারে না। মনে হল, এমনতো হবার কথা ছিল না!
দু:খিত হাসান আমরা আমাদের সমাজকে শিক্ষিত গাধা বানাবার মেশিন ছাড়া আর কিছু হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিতে পারিনি। এই নিঝুম রাতে, আমার হাতে তোর কিনে দেয়া গীটার বেসুরো, বড্ড বেসুরো বাজে। দু:খিত হাসান, আমি সত্যিই দু:খিত।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



