somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি উপন্যাস - 2গ

০৭ ই এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসের দুঘর্টনা জনিত দু:শ্চিন্তা এবং তার থেকে মুক্তি নাজমার মনটাকে একটু উদাসী করে ফেলে। অনেক কষ্ট করেছেন জীবনে তিনি। নাজমা যখন ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্রী তখন তার বাবা মারা যান। পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে সেই বয়স থেকেই শুরু করেছেন চাকুরী জীবন। কেউ এগিয়ে আসেনি সাহায্য করতে। সেই থেকে টেনে চলেছেন একগাদা ভাই বোনকে। মাঝ থেকে পরিচয় সোহান-রুহানের বাবার সাথে। এত টানাটানির সংসার দেখেও বরকত সাহেব বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলেন দেখে খুব অবাক হয়েছিলেন সেই তখনই। বরকত সাহেবের কাঁধে মাথাটা ঠেকিয়ে নাজমা ভাবেন এমন ভালো লোক কমই আছে।

বাসটার টায়ার ফেটেছিল অতিরিক্ত ওজন নেবার কারনে। আটটা চাকা যখন লোড নিতে পারেনি তখন সাত চাকায় সেটা আশা করা যায় না। ফলাফল যা হবার তাই হল। আধা ঘন্টার মত চলার পরই ফেটে যাওয়া চাকার সাথের চাকাটাও ফেটে যায়। বাসটা ভারসাম্যহীন হয়ে খাদে প্রায় পড়ো পড়ো হয়েও কিছুদুর গিয়ে থেমে গেল। পিছে বসা একজনের মাথা ফেটে গেল, আর দু একজন বেশ ব্যাথা পেল। ফলাফল হয়ত আরো খারাপ হতে পারত, কিন্তু বাসের অতিরিক্ত ওজনই সেটাকে বেশীদূর যেতে দেয়নি।

দ্্বিতীয় দফা দূর্ঘটনার প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠার পর যাত্রীরা চড়াও হল ড্রাইভার আর সুপাভাইজারের উপর।

"বালের গাড়ী চালান মিঞা! লং রুটে গাড়ী চালাইতাছেন আর একটা একস্ট্রা টায়ার লইয়া আহেন নাই!! আনবেন কেমতে ঐহানেও তো মাল উঠাইছেন।"

"তুগার কোন জ্ঞান বুদ্ধি আছেরে বুকাচুদা। টায়ার ফাইটে যাবার পরেও গাড়ি চাইলেছিস!! আমাগের জেবনের কি দাম নেই নাকি অ্যাঁ?"

মাথা ফেটে যাওয়া লোকটার পরিচর্যা করে রক্ত বন্ধ করা হল। সুপারভাইজার এর মধ্যে কোথা থেকে লোকাল বাস থামাল কয়েকটা তাতে তুলে দিতে লাগল একে একে যাত্রীদের। যাতে তারা আরিচা ঘাট পর্যন্ত যেতে পারে। পরে তারা নিজেদের আরেকটা গাড়ী যোগাড় করে নদী পার হয়ে বাকি পথ নিয়ে যাবে।

বিপদে পড়ে ভয়ে, অনিশ্চয়তায়, দুশ্চিন্তায় এতটুকু হয়ে গেছে নাজমার মন। ছেলেদুটা অবশ্য অত চিন্তা করছে না। আশেপাশে কোথা থেকে যেন ডাবওয়ালা, পেয়ারাওয়ালা জুটে গেছে। মজা করে সেগুলো খাচ্ছে। চিন্তিত নাজমা বরকত সাহেবকে বকা দিতে ছাড়েন না।

"তোমার জন্য কত কষ্ট করতে হচ্ছে দেখলা। বল্লাম চেয়ার কোচের টিকিট কাটো। তা না পয়সা বাঁচানোর জন্য রদ্দি মার্কা বিআরটিসির বাসের টিকিট নিয়ে এসেছো।"

বিরক্ত বরকত সাহেবও, "আমি কি করব বলো? এ সময় আর টিকিট পেলাম বলেই তো এই বাসে আসতে হলো। এখন সব দোষ আমার?"

একসময় তাদের পালা আসলে লোকাল গাড়ীতে উঠলেন তারা। সঙ্গে একগাদা মালপত্র সেগুলো টেনেটুনে ওঠানোও তো যন্ত্রনা। এক সময় আরিচা ঘাটে পৌছান তারা। সেখানে বরকত সাহেব খুঁজে পেতে একটা সরকারী মাইক্রো বের করেন বরকত সাহেব। সেই ড্রাইভার একলাই ফিরে যাচ্ছিল যশোরের দিকে, 800 টাকার বিনিময়ে পৌছে দিতে রাজি হল। টাকার পরোয়া করলেন না বরকত সাহেব আর। বৌ-বাচ্চা নিয়ে সহি সালামতে পৌছতে পারলেই তিনি অনেক খুশী হবেন এখন। বেশী দেরী করে ফেললে পথে রাত হয়ে যাবে। তখন বিপদ বাড়বে বই কমবে না। ক্ষুধার্ত, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বরকত পরিবার চড়ে বসল সরকারী মাইক্রোবাসে।

সকালে যে আনন্দ নিয়ে বাসে উঠেছিলেন তার ছিটে ফোটা নেই আর নাজমার মনে। দুরুদ শরীফ পড়তে পড়তে একটা একটা করে মিনিট গুনতে লাগলেন তিনি। ছেলেদুটোকে ছড়িয়ে ধলে রেখেছেন শক্ত করে, "আল্লাহ আর যাই ঘটুক আমার মানিক দুটোর যেন কিছু না হয়"।


(দুই শেষ। চলবে...)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভারত খারাপ, তবে নিমন্ত্রণ পত্র ভালো

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৫



দুই ঘণ্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়েছে, প্রবেশও করতে দেয়নি। তারপরও ঘোষণা দিলেন - আবার আমন্ত্রণ পেলে যাবেন।

ভারতবিরোধী কথা বলা ছিলো তার রাজনৈতিক স্ট্যান্ড পয়েণ্ট, কারো কাছে নতি স্বীকার করবো... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×