somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সহজ ভাষায় ইউনিকোডের ব্যাখ্যা - ২ (শেষ)

১৬ ই এপ্রিল, ২০০৭ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইউনিকোড প্রবর্তনের সময় থেকে বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে লাগল। ইউনিকোড সময়ের সাথে সাথে সেগুলোর সমাধানও করে আসতে লাগল। যেমন আরবী ভাষার ডান-থেকে বাম দিকে লেখার সমস্যা, কিংবা চীনা ভাষার খাড়াখাড়ি লেখার সমস্যা ইত্যাদি। এশিয়ার ভাষাগুলোকে এজন্য জটিল ভাষা বা কম্প্লেক্স স্ক্রীপ্ট বলা হয়। আমি এখন শুধু মাত্র ইন্ডিক এবং বাংলা ভাষার ইউনিকোড ভিত্তিক সমস্যা গুলো আলোচনা করব।

সর্ট অর্ডার
কম্পিউটারের জন্য সর্ট এবং সার্চ করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। বলা যায় কম্পিউটারের ভিত্তি এই সর্টিং এবং সার্চিংয়ের উপরই দাঁড়িয়ে আছে। তাই অক্ষরগুলোকে এমন ভাবে উপস্থাপন করতে হবে যেন তা এই সর্টিং এবং সার্চিংয়ের বিপরীতে বাঁধা না হয়।

সমস্যা হল, বাংলায় ক এর পর আসে খ, কিন্তু এদের মাঝখানে আবার কা, কু, কি এসব আসে। বিষয়টা আরো জটিল করতে আ-কার, ও-কার এসব অক্ষর আবার সামনে বসে। তাই ইউনিকোড কর্তা ব্যাক্তিরা ঠিক করলেন সর্ট অর্ডার ঠিক করার জন্য কোন 'কার' ব্যাঞ্জনবর্ণের আগে বসতে পারবে না। এর ফলে কার দেখানোর যে সমস্যা তৈরী হবে তা অন্যভাবে সমাধান করা হবে।

প্রাথমিক ইউনিকোডে 'কার' গুলো পরে বসত ঠিকই কিন্তু তা স্ক্রীনে দেখানোর আগে কোন রকম ঠিকঠাক করা হত না। যার ফলে পুরোনো ইউনিকোড কম্পিউটারে 'কে' দেখবেন এভাবে 'ক ‌ে'।

ঠিক একই কারনে ও-কার কে একার এবং আকার হিসেবে না রেখে একটা স্বতন্ত্র অক্ষর হিসেবে স্থান দেয়া হয়েছে।


সঠিক ভাবে দেখানো
সর্ট অর্ডারতো ঠিক হলো। এখন এ-কার, ও-কার গুলোকে কিভাবে দেখানো হবে? তার উপর, এ-কারে যখন শব্দের মাঝখানে বসে তখন তার কোন মাত্রা থাকে না, আবার শব্দের শুরুতে যখন বসে তখন একটা মাত্রা থাকে। যুক্তাক্ষর গুলো স্বতন্ত্র কোন অক্ষর নয়। অথচ সেগুলো ঠিকঠাক মতো দেখাতে হবে।

অক্ষরগুলোকে নিয়ে ঠিকঠাক ভাবে দেখানোটাকে বলা হয় ক্যারেক্টার রেন্ডারিং। রেন্ডারিংয়ের মাধ্যমেই আসলে ক্যারেক্টার কোনটা কিভাবে বসবে সেটা ঠিক করা হয়।


খন্ড-ত ইস্যু
প্রাথমিক ইউনিকোডে খন্ড-ত কে স্বতন্ত্র অক্ষর হিসেবে ধরা হয় নি। একে ত-হস হিসেবে ধরা হয়েছিল। তাই যখনই ত-হসন্ত দেখা যেত তখনই সেটা ভুল ভাবে খন্ড-ত হয়ে যেত। সম্প্রতি খন্ড-ত কে আলাদা অক্ষরের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তাই ইউনিকোড ভিত্তিক নতুন ফন্টগুলোতে এই সমস্যার সমাধান দেখতে পাবেন।


রেফ এবং য-ফলা ইস্যু
র-হসন্তের পর কোন ব্যাঞ্জনবর্ণ আসলে সেটা ব্যাঞ্জনবর্ণের উপর রেফ হয়ে যায়। আবার ব্যাঞ্জনবর্ণের পর য-ফলা আসল সেটা ব্যাঞ্জনবর্ণের য-ফলা হয়। কিন্তু র-হসন্তের পর য-ফলা আসলে সেটা 'র্য' হতে পারে আবার 'র‌্য' ও হতে পারে। ডিফল্ট হিসেব এটা 'র্য' হিসেব বর্তমানে দেখানো হয়। এর সমাধান হিসেবে অনেকে দাবী করেছেন য-ফলাকে খন্ড-ত এর মত একটা আলাদা বর্ণ হিসেবে মর্যাদা দেয়া হোক। কিন্তু ইউনিকোড কর্তাব্যক্তিরা সেটা মানতে রাজি হননি।

এই সমস্যাটা আরো অনেক ইন্ডিক ভাষায় আছে। সবার জন্য নতুন অক্ষর ঢুকাতে গেলে এর মধ্যে বিশাল হয়ে যাওয়া ইউনিকোড আরো বিশাল হয়ে যাবে।

ইউনিকোড কর্তাব্যক্তিরা এর একটা অন্য সমাধান দিয়েছেন। তার দুটো অক্ষর ব্যবহার করতে বলেছেন। একটা হলো, 'জোর করে জুড়ে দাও' - zero width joiner (ZWJ) এবং আরেকটি হল 'জোর করে জুড়ে দেয়া বিরত রাখ' - zero width non joiner (ZWNJ)। তাই র-হসন্ত-য কে র‌্য হিসেবে দেখতে র এর পর আপনাকে য-ফলার সাথে জুড়ে দেয়া বন্ধ করতে হবে। অর্থাৎ র-ZWNJ-হসন্ত-য টাইপ করতে হবে।


দাঁড়ি এবং ডাবল-দাঁড়ি ইস্যু (বানান ভুল লেখলাম কি?)
বাংলার ইউনিকোড প্রস্তাবনায় কোন দাঁড়ি নেই। ইউনিকোড কর্তা ব্যাক্তিরা সম্ভবত: আসামী বা অন্য কোন ভাষার 'ডান্ডা' ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছেন। এটা পছন্দ হয়নি বাঙ্গালী যারা ইউনিকোডের সাথে কাজ করছেন। তারা এখনও দাবী জানিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের একটা দাঁড়ি এবং একটা ডবল-দাঁড়ির জন্য।




আশা করি এই বিষয়ের পোস্ট দুটো আপনার অনেক কেনোর উত্তর দিবে।
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতিদ্বন্দ্বী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪৮


গফুর মিয়া অভাবের তাড়নায় গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসেছিল। সংসারে মানুষ মোট ছয়জন, গফুর, তার স্ত্রী আর চার সন্তান। দুই সন্তান হওয়ার পর তার স্ত্রী আর সন্তান নিতে চায়নি। সে গফুরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:১৪


পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।


প্রিয় সামু সাপোর্ট টিম,
আশা করি ভালো আছেন। আমি সামহোয়্যার ইন ব্লগের একজন নিয়মিত পাঠক ও লেখক। দীর্ঘদিন ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার যদি ৩% হারে লোন দেয় দেশের প্রতিটি বাড়ীর ছাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বিদ্যুের কস্টের অনেকটাই কিছুটা সমাধান হইতে পারে।

লিখেছেন নতুন, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৬


দেশে বর্তমানে Net Metering Guideline–2025 অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যায় এবং তা বিলের সঙ্গে সমন্বয় হয়। এটা খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা, সরকারের উচিত এটাকে আরো উতসাহিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×