somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

2. অন্যের আত্মস্মৃতির ভেতর

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৭:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফরিদউদ্দিন আত্তারের কথার ভেতর কেমন একটা ডাক ছিল। অনুভব করছিলাম তিনি হয়তো কোনো আহবান বা আমন্ত্রণ জানাতে চেয়েছেন। তার ওই ভঙ্গিটার কারণে আমি বারবার তাকে মনে করার চেষ্টা করছিলাম। 2004-এর 14 অক্টোবর দুপুর বেলা ঠিক কী করছিলাম এটাই সবচেয়ে বেশি ভাববার চেষ্টা করছিলাম। 2004-এ আমার জীবনে খুব উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটেনি। দৈনিক পত্রিকায় কাজ করার অভ্যাস করছিলাম। ওই সময় কালবেলা নামে ক্ষণস্থায়ী একটা কাগজ বের হতো। কাগজটির এডিটরিয়াল পেজে কাজ করতাম আমি। প্রতিদিন এডিটরিয়াল লিখতে হতো। আর সমকালীন ঘটনা নিয়ে কমেন্ট নিতে হতো সংশ্লিষ্ট লোকদের কাছ থেকে। ডায়েরি লিখি না বলে, ডায়েরি খুজে লাভ নেই। বরং ওই তারিখের কালবেলা বের করলে হয়তো কোনো ক্লু পাওয়া যাবে, ভেবে কালবেলার 2004-এর সংখ্যাগুলো খোঁজা শুরু করলাম।
2004 থেকে বাসা পালটিয়েছি মোটে একবার। ফলে ওই বছরের পেপারগুলো একটা বস্তাতেই থাকার কথা। আর বস্তাটা রান্নাঘরের ওপরের তাকমতো স্পেসে থাকার কথা। কিন্তু না সেখানে নেই। বস্তাটাই গায়েব। আমার স্মৃতি যতদূর সাহায্য করছে তাতে রান্না ঘরের তাকের কথাই বারবার মনে পড়ছে। কোনো কারণে নামিয়ে থাকতে পারি। যেমন সমকালে কাজ করার আগে তারা আমার আগের কিছু লেখা দেখতে চেয়েছিল সেকারণে বস্তা নামিয়ে থাকতে পারি। যায়যায়দিনে কাজ নেয়ার সময় আর বস্তা খুলিনি। এটা আমার স্পষ্ট মনে আছে। ফলে, বিকল্প জায়গা হিসাবে বাসার সবচেয়ে কম ব্যবহৃত স্থান মানে বারান্দার দঙ্গলের মধ্যে হানা দিলাম। অনেক কাগজপত্র, কাঠ, ভাঙ্গা চেয়ার। বস্তা। এই ময়লাগুলো সহজেই ফেলে দেয়া যেত। কিন্তু কেন যে দেই না। কেন পুরাতন জিনিশপত্র ফেলতে ইচ্ছা করে না বুঝি না। এই ভাবে পুরো বাসাটাই পুরাতন জিনিশপত্রের গুদামে পরিণত হয়েছে। না বস্তাটা খোয়া যায়নি। নিজের অস্তিত্ব নিয়ে বেশ ভালভাবেই টিকে আছে। ইঁদুর ছোট একটা ফুটো করেছে। কাগজপত্রের মধ্যেই একটা পাখির বাসা মতো জায়গা বানিয়ে সেখানে পাঁচটা বাচ্চাও ফুটিয়েছে। ইঁদুরের বাচ্চাগুলো বেশ ফুটফুটে। ইঁদুর মনে হয় না। এগুলো বড় হলে একেকটা সুদর্শন পাখি হবে মনে হয়। আর তাদের নাজুক ভাবটাও বেশ ভাল লাগে। কিন্তু এরা তো ইঁদুরই হবে। জ্বালাযন্ত্রণায় টেকা যাবে না। কষ্ট হলেও বাচ্চাগুলোকে বারান্দা দিয়ে ফেলে দিলাম। শুরু হলো কাগজপত্র খোঁজার আয়োজন।অনেক পাতাই হলুদাভ হয়ে গেছে। হালকা কালিতে করা ফটোকপিগুলো প্রায় পড়াই যায় না আর। এই একটা বস্তার মধ্যেই দেখছি আস্ত 2004 সালটাই এঁটে গেছে। খবরের কাগজ পত্রিকা, ফটোকপি, লিফলেট, পোস্টার, ভিজিটিং কার্ডের মধ্যে ওভিদের মেটামরফসিসের ফটোকপিটি দেখছি। কতোদিন খুঁজেছি। আর এ বেটা কিনা এইখানে! মেটামরফসিসের কপিটাকে ধমক দিলাম। রংপুরে তুপার কাছে পেয়েছিলাম বইটা। তুপা তো ফটোকপি করতেই দেবে না। বলে ওর বাবা বকবে। তো কী আর করা। তুপাকে প্রায় ব্লাকমেইল করে ফটোকপি করেছিলাম। আহারে তুমি এই খানে!
বেশ তুকতাক জিনিশের পর একগাদা নিউজ পেপার। 12, 13, 14 তারিখ পর পর আছে। এরপরই 18 তারিখের। 17, 16 এইভাবে উলটা করে রাখা। 14 তারিখের পেপার উলটিয়ে হতাশ হলাম। নাহ কিছু নেই। ফরিদউদ্দিন আত্তার কেন সুফিজমের টিকিটিও কোথাও পেলাম না। বারন্দার ধুলার মধ্যেই বসে পড়লাম। ভদ্রলোক বলেছেন 14 তারিখ দুপুরের কথা। যদি 14 তারিখ দুপুরের অ্যাসাইনমেন্ট হয় তবে সেটি ছাপা হওয়ার কথা 15 বা 16 তারিখে। 15 ও 16 তারিখের পেপার খুঁজলাম। আছে। খুব আনন্দ হলো। পেয়েছি এবার ফরিদউদ্দিন আত্তারকে। 15 তারিখের কালবেলায়।
2004এর 13 অক্টোবর রাতে তখনকার অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান টাটা প্রুপের চেয়ারম্যান রতন টাটার সঙ্গে একটা চুক্তি সাক্ষর করেছিলেন। ঘটনাটা ঘটেছিল বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। বিষয় ছিল বাংলাদেশে বিশাল আকারে টাটার বিনিয়োগ। এ বিষয়ে কমেন্ট নেয়ার চেষ্টা করছিলাম আমরা। কমেন্ট নিতে গিয়েই ফরিদউদ্দিন আত্তারের কাছে যেতে হয়েছিল আমাকে। একে একে 14 অক্টোবর দুপুরের কথা আমার স্পষ্ট মনে পড়লো। কেন এই ঘটনাটা এত বিস্তারিত লিখছি তা জানার জন্য 14 অক্টোবরের ঘটনাটা জানা খুব জরুরি। আর এটাও জানা জরুরি, কেন এই ব্যাপারটা আমি ভুলে গিয়েছিলাম। কেন ভুলে গিয়েছিলাম সেটা পরে বলবো। আপাতত বলছি 14 অক্টোবরের কাহিনী।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×