somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্টিভেন স্পিলবার্গের টারমিনাল (2004)

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ৩:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভিক্টর নাভরোস্কি যখন জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্টে পেঁৗছায় তার খানিক আগে তার দেশ ক্রাকোজিয়া কু্য হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্টকে উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখল করেছে বিদ্রোহীরা। আমেরিকা ক্রাকোজিয়ার সঙ্গে সকল কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। ফলে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন আটকে দেয় তাকে।তার ভিসা এখানে কাজে আসবে না।সে নিজের দেশ ক্রাকোজিয়ায় ফিরতে পারবে না। আবার বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হয়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতেও ঢুকতে পারবে না। এরম অবস্থায় বিমানবন্দর কতর্ৃপক্ষের এয়ারপোর্টের ইন্টারন্যাশনাল লাউঞ্জে আশ্রয় দেয়া হয় তাকে। সেখানে একটি দুটি দিন নয় মোট নয় মাস থাকতে হয় তাকে। আর এই বিস্ময়কর নয়টি মাস নিয়ে তৈরি সিনেমা টারমিনাল। এমন অসাধারণ আইডিয়া নিয়ে তৈরি মুভি খুব কমই আছে। দেখতে দেখতে বারবার অসাধারণ শব্দটাই মনে আসছিল। দীর্ঘ নয় মাসে ভিক্টর নাভরোস্কি ইংরেজি ভাষা রপ্ত করে। এয়ারপোর্টের বৈরি লোকজনের মন জয় করে। সেখানে নিজের কাজ আর খাবারের জোগাড় করে। মন জয় করে এমেলিয়া ওয়ারেন নামে এক এয়ার হোস্টেসের। অনেকের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। এর বাইরে সে যা করে তা হলো অন্তহীন অপেক্ষা। নিউ ইয়র্ক সিটিতে তাকে পেঁৗছাতেই হবে। কারণ কী? যত্নে আগলে রাখা একটি কৌটায় লুকানো আছে তার নিউ ইয়র্ক আসার রহস্য। ভিক্টরের বাবা ছিলেন এক মহান জাজ ভক্ত। নিউ ইয়র্কের একটি জাজ দলের কাছে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। টানা চলি্লশ বছর ধরে অপেক্ষার পর একে একে সবার সাক্ষর তিনি সংগ্রহ করেছিলেন ডাক মারফত। শুধু একজন সাক্ষর পাঠাননি। মৃতু্যর আগে ভিক্টর বাবাকে কথা দিয়েছিল সে এই জাজ শিল্পীর সাক্ষর এনে দেবে। আর সেই কাজেই নিউ ইয়র্ক এসেছে সে। সো তার কাছে জীবন মানেই অপেক্ষা। আর এমেলিয়া ওয়ারেনও অপেক্ষ করছে। কোনও একটা নাম্বার থেকে তার পেজারে কল আসবে। অপেক্ষা করতে করতেই তার বয়স 39 হয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত টারমিনাল থেকে বের হতে পারে ভিক্টর। অপেক্ষার দীর্ঘ পর্ব তাকে ক্লান্ত করে না। কারণ তার কাছে অপেক্ষা মানেই জীবন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ ভোর ৪:০২
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৬

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:২৩



আমার নাম শাহেদ। শাহেদ জামাল।
আজ আপনাদের বলবো আমার জেল জীবনের কথা। জেলখানার খাবারের মান ভালো না। ফালতু খাবার। একদম ফালতু। এত ফালতু খাবার হয়তো আপনি জীবনে খান... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য প্লান (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৪

ষাট বছরের মাজেদা গত দুই সপ্তাহ ধরে শুধু প্লান করেছে, সে তার একমাত্র নাতিটাকে দেখতে যাবে। মেয়ে-জামাই বাড়ি বলে কথা! খালি হাতে কি যাওয়া যায়? তার ওপর তার সাত বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

-প্রতিদিন একটি করে গল্প তৈরি হয়-৫০

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯



একটি সাইকেলের জন্য কন্যা অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছে। সে মাটির ব্যাংকে টাকা জমিয়েছে।


ক্লাস ওয়ানে উঠলে তাকে বাই সাইকেল কিনে দেবো বলেছিলাম।

তো একদিন গেলাম, দেখলাম কিন্তু কিনলাম না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আখিরাত ঠিক করার পাশাপাশি দুনিয়ার রাজনীতিতেও ঢুকে পড়লেন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০৮


জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই মাস পার হয়েছে। দেশের মানুষ একটু দম ফেলছে , চায়ের আড্ডায় যখন ভোটের উত্তাপ ফিকে হয়ে আসছে, ঠিক তখনই খবর এলো সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:০৩

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, ভৌগোলিক প্রভাব এবং আধ্যাত্মিক প্রতিফলন

আমরা প্রতিদিন যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখি, সেটাকে এতটাই স্বাভাবিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×